শ্রীলংকা ২০১৫ বিশ্বকাপের দাবিদার

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকার সঙ্গে একান্তে কথা বলেছিলেন মুত্তিয়া মুরলিধরন। শ্রীলংকা টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের প্রথম শিরোপা জিতবে সেই আশাবাদই ব্যক্ত করেছিলেন সেখানে। লাসিথ মালিঙ্গার দলের শিরোপা স্পর্শ দেখে যারপরনাই খুশি ১৯৯৬ বিশ্বকাপ জয়ী দলের এ সদস্য। বিশ্বকাপ পরবর্তী আরেকটি সাক্ষাত্কারে ক্রিকেটের সফলতম বোলার কথা বলেছেন পরবর্তী বিশ্বকাপে দলের সম্ভাবনা, দীর্ঘদিনের সতীর্থ মাহেলা জয়াবর্ধনে এবং কুমার সাঙ্গাকারার টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর ও যুবরাজ সিংয়ের পথ পরিক্রমা নিয়েও। পাঠকদের জন্য সেই সাক্ষাত্কারের প্রায় পুরোটাই তুলে ধরা হলো। শ্রীলংকার শিরোপা জয়: গত ছয় মাস যাবত্ আমরা অসাধারণ ক্রিকেট খেলছি। প্রকৃত সত্য হচ্ছে দীর্ঘ সময় ধরে আমরা হারিনি। বাংলাদেশের কন্ডিশনে শিরোপার অন্যতম দাবিদার ভারত-পাকিস্তানকে হারিয়ে আমরা এশিয়া কাপের শিরোপা জিতেছি। সে আত্মবিশ্বাস টি-২০ বিশ্বকাপেও আমাদের সঙ্গেই ছিল। আমাদের ব্যাটিং ইউনিটটা খুবই ভাল এবং আমাদের অসাধারণ স্পিন বিভাগও রয়েছে। যারা কন্ডিশনকে কাজে লাগাতে পেরেছে। সুতরাং শ্রীলংকা অনেক দূর যাবে এমন বিশ্বাস আমার ছিল। টুর্নামেন্টের আগেই আপনাকে এমন কথা আমি বলেছিলাম। আমি অত্যন্ত আনন্দিত সেই প্রত্যাশা পূরণের জন্য। ছেলেরা সত্যিই চমত্কার ক্রিকেট খেলেছে। বন্ধ্যাত্ব ভাঙ্গা: বন্ধ্যাত্ব শব্দটি আমি পছন্দ করি না। একটা বিশ্ব ইভেন্টের ফাইনালে পৌঁছানোটা একটা বড় অর্জন এবং আইসিসি ইভেন্টে আমাদের রেকর্ডই আমাদের ধারাবাহিকতার প্রমাণ দেবে। বিষয়টা এমন নয় যে ফাইনালগুলোতে আমরা চোক করেছি। ২০০৭ বিশ্বকাপে খুব স্বাভাবিকভাবেই অস্ট্রেলিয়া আমাদের তুলনায় ভাল দল ছিল। ২০১১ বিশ্বকাপে ভারত আমাদের চেয়ে ভাল ক্রিকেট খেলেছে। ২০১২ টি-২০ বিশ্বকাপ ফাইনালে আমাদের দলে দুজন খেলোয়াড় অসাধারণ পারফরম্যান্স করেছে। এবার পর পর এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপ জয় করতে দুটি ফাইনালেই আমরা প্রতিপক্ষের চেয়ে ভাল ক্রিকেট খেলেছি। এটাই ক্রিকেটের সৌন্দর্য্য। সাঙ্গা ও মাহেলা প্রসঙ্গে: তারা গ্রেট খেলোয়াড়, কিংবদন্তী। বেশ ভাল অবস্থার মধ্য দিয়ে মাথা উঁচু করে (এই ভার্সন থেকে) বিদায় নেয়ায় আমি আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এই খেলাটির এবং শ্রীলংকান ক্রিকেটের অসাধারণ দুজন দূত তারা। অনেক কিছুই তারা অর্জন করেছে। কিন্তু কেবলমাত্র একটা বিশ্বকাপ শিরোপাই বাকি ছিল। তাদের ট্রফি কেবিনেটটা এখন আরো বেশি সমৃদ্ধ হবে। এটা যেন শচিন টেন্ডুলকারের মত। বিশ্বকাপ শিরোপা জিততে তাকে অনেকদিন অপেক্ষা করতে হয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত ২০১১ সালে ধরা দিয়েছে। কিংবদন্তীদের ক্রিকেট পরবর্তী জীবন: জীবন চলমান। আমাদের অর্জুনা রানাতুঙ্গা এবং অরবিন্দ ডি সিলভা ছিলেন। তারপর এলেন জয়সুরিয়া, রমেশ কালুবিথারানা এবং মারভান আতাপাত্তু। মাহেলা এবং সাঙ্গা তাদের কাছাকাছি চলে এসেছে। এখন তরুণদের দায়িত্ব নেয়ার সময় এসেছে। দলে অনেক ভাল খেলোয়াড় রয়েছে এবং আমি আশা করছি লাহিরু থিরিমান্নে এবং অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে। শ্রীলংকার ডেথ বোলিং (শেষ দিকের ওভারগুলোতে) বিষয়ে: এটা ছিল খুবই তাত্পর্যপূর্ণ। লাসিথ মালিঙ্গা এবং নুয়ান কুলাসেকারা আমাকে ওয়াসিম আকরাম এবং ওয়াকার ইউনিসের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। তারা অসাধারণ বোলিং করতেন এবং সর্বোচ্চ ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেন। আমাদের বোলারদের জন্য চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এমন ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং আরো বেশি আগ্রাসী হয়ে ওঠা। ২০১৫ বিশ্বকাপ ভাবনা আগামী বিশ্বকাপের এখনো অনেক দিন বাকি আছে এবং এতো আগে কোন কিছু ধারণা করাটা কঠিন। তবে বিশ্বকাপ ভিন্নধর্মী কন্ডিশনে হলেও শ্রীলংকা খুব শক্ত দল হবে বলে আমি আশা করছি। কন্ডিশনের সঙ্গে পরিচিত হওয়ায় অবশ্যই অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড বেশি সুবিধা পাবে। ১৯৯৬ বনাম ২০১৪ বিষয়ে: আমাদের একটা পরিচিতি এনে দেয়ার কারণে ১৯৯৬ সালটা ছিল শ্রীলংকা ক্রিকেটের জন্য একটা স্মরণীয় মুহূর্ত। এ জয়ের গুরুত্বও ছিল অনেক বেশি। কিন্তু আমরা ভিন্ন ফরম্যাট ও ভিন্ন যুগের কথা বলছি। দুটোর মধ্যে কোন তুলনা করা উচিত হবে না। যুবরাজের ব্যর্থতা প্রসঙ্গে: যুবরাজ একজন গ্রেট খেলোয়াড়। ফাইনাল ম্যাচে তার দিন ছিল না এবং তাকে যেভাবে দোষারোপ করা হচ্ছে সেটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। ভারতের ২০০৭ সালে টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ের তারকা খেলোয়াড় ছিলেন যুবরাজ। বলতে গেলে সে একাই ২০১১ সালে ভারতকে বিশ্বকাপ শিরোপা জিতিয়েছে। ভক্তদের আচরণ: খেলোয়াড়দের প্রতি বিশেষ করে যুবরাজ যিনি ভারতে ক্রিকেটের জন্য অনেক কিছু করেছেন তার প্রতি ভক্তদের আরো বেশি শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত। অবশ্য শেষ দিকের ওভারগুলোতে আমাদের বোলাররা বেশ ভাল বোলিং করেছে আমরা সেটাও ভুলে যাচ্ছি। মাত্র একটা ম্যাচেই একজন খেলোয়াড় খারাপ হয়ে যায় না। যুবরাজের মত একজন খেলোয়াড়কে এখনই বাতিলের খাতায় ফেলাটা বেশি আগাম হয়ে যায়। আইপিএলে সে ভাল করবে বলে আমি আশা করছি।—বাসস/ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস