অবহেলিতদের গর্জে ওঠার দিন

একজন সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও দলে ছিলেন; কিন্তু হংকংয়ের বিপক্ষে ম্যাচের বাজে পারফরম্যান্সের পর আর একাদশে সুযোগ পাননি ফরহাদ রেজা। আরেকজনের ব্যাটিং ক্লাস নিয়ে প্রশ্ন ওঠেনি কখনো; কিন্তু ফর্মহীনতা আর ফিটনেস ঘাটতি মিলিয়ে অনেকদিন ধরেই নিয়মিত না জাতীয় দলে। সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেছেন ২০১১ সালে। টেস্টেও ছিলেন না গত একবছর। এমনকি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রাথমিক দলেও ছিলেন না শাহরিয়ার নাফিস। আক্ষেপের ইতিহাসটা এদের দুইজনের চেয়ে নাঈম ইসলামের কিছুটা বেশি। জাতীয় দলের নিয়মিত পারফরমার হয়েও স্রেফ টিম কম্বিনেশনের কারণে কখনো নিয়মিত খেলার সুযোগ হয়ে ওঠে না তার। ১৫তম জাতীয় ক্রিকেট লিগের ষষ্ঠ রাউন্ডের ম্যাচে ব্যাট হাতে জ্বলে উঠেছেন এই তিন ব্যাটসম্যানই। সাথে অল রাউন্ডার সাঞ্জামুল ইসলামও পেয়েছেন সেঞ্চুরি। সব মিলিয়ে গতকাল শনিবার ঘরোয়া ক্রিকেটে হলো মোট চারটা সেঞ্চরি। রেজা-সাঞ্জামুলে রক্ষা রাজশাহীর মাত্র ৭৭ রানে ছয় উইকেট হারিয়ে যাওয়ার পর কিভাবে সাত উইকেটে ৪২৪ রানে দিন শেষ করা সম্ভব সেটা রীতিমতো গবেষণার ব্যাপার। আর সেই অতিমানবীয় কীর্তিটাই গতকাল শনিবার দেখা গেল বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে। আর বিধ্বংসী সেই জুটির নায়ক হলেন রেজা ফরহাদ ও সাঞ্জামুল ইসলাম। দিনের শেষ ওভারে আউট হয়ে যান সাঞ্জামুল ইসলাম; কিন্তু এর আগেই হয়ে গেছে ৩৪৭ রানের জুটি। এর আগে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম; কিন্তু সেই সিদ্ধান্তকে ভুল প্রমাণিত করতে খুব বেশিক্ষণ সময় নিলেন না চট্টগ্রামের বোলাররা। দেখতে দেখতে ৭৭ রানের মধ্যে রাজশাহী হারিয়ে ফেললো ছয়টি উইকেট। মেহেদী হাসান রানা ও আব্দুল্লাহ আল মামুনের জোড়া আঘাতে চট্টগ্রাম উল্লাসে মেতেছিল; কিন্তু তাদের হাসি কেড়ে নিতে সময় নেননি ফরহাদ ও সানজামুল। সপ্তম উইকেটে তারা গড়লেন ৩৪৭ রানের অসাধারণ জুটি। আট নম্বরে ব্যাট করতে নামা সানজামুল প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক সেঞ্চুরি করে থেমেছেন ১৭২ রানে। ১৯৬ বলে ২২ চার ও দুইটি ছয়ে সাজানো তার মারকুটে ইনিংসটি। দিন শেষ হওয়ার খানিক আগে আলী আকবরের কাছে সানজামুল আউট হন। মাঠে নেমে দুই বল খেলে কোনো রান যোগ না করে অপরাজিত ছিলেন। আর ফরহাদ ২০৯ বলে ২৬ চার ও পাঁচ ছয়ে ১৮২ রানে খেলছিলেন। বিপদে ঢাকা মেট্রো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সাদামাটা পারফরম্যান্স থাকলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে আবারো স্বরূপে ফিরলেন আব্দুর রাজ্জাক। আর তার স্পিন ঘূর্ণিতে খুলনার কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিপদে পড়েছে ঢাকা মেট্রো। টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে অল আউট হবার আগে মাত্র ১৭২ রান করে ঢাকা মেট্রো। রাজ্জাক নিয়েছেন চারটি উইকেট। এছাড়া নিজামুদ্দিন রিপন তিনটি ও রাজিবুল ইসলাম দুইটি করে উইকেট নেন। ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সাদমান ইসলাম অনিক ৪০ ও শরিফুল্লাহ ৩৪ রান করেন। এছাড়া সামসুর রহমান শুভ ২৫ ও আসিফ আহমেদ রাতুল ২৪ রান করেন। প্রথম দিনের খেলা শেষে এক উইকেট হারিয়ে ৪৬ রান করেছে খুলনা। রবিউল ইসলাম রবি ২৩ ও ইমরুল কায়েস ১৩ রানে অপরাজিত আছেন। চট্টগ্রামে ব্যাটসম্যানদের দিন চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের মধ্যকার ম্যাচটির প্রথম দিনটি নিজের করে নিয়েছেন বরিশালের অধিনায়ক শাহরিয়ার নাফিস। এর থেকেও নির্দিষ্ট করে বললে চট্টগ্রামে দিনটি ছিল স্রেফ ব্যাটসম্যানদের। ৭৯ ওভার দুই বলে অল আউট হবার আগে ঢাকা করেছে ৩২৩ রান। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ১২৯ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেছেন শাহরিয়ার নাফিস। তাকে সঙ্গ দেয়ার কাজটা ভাল ভাবেই করেছেন নূরুজ্জামান। চতুর্থ উইকেটে তাদের গড়া ১৫৭ রানের জুটির সুবাদে ভালো অবস্থান তৈরি করেছে বরিশাল। নূরুজ্জামান সাজঘরে ফেরার আগে করেছেন ৭৯ রান। ঢাকা বিভাগের বোলারদের মধ্যে তিনটি করে উইকেট নেন শুভাগত হোম ও নাজমুল অপু। এছাড়া দুইটি উইকেট নিয়েছেন নূর হোসেন। প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে দিন শেষে কোন উইকেট না হারিয়ে ১৪ রান করেছে ঢাকা। বিপর্যয় আটকালেন নাঈম ফতুল্লার আউটার স্টেটেডিয়ামে খেলতে নেমে রাজশাহীর মতো রংপুর বিভাগের শুরুটাও হয়েছিল ব্যাটিং বিপর্যয় দিয়ে। সিলেট বিভাগের বিপক্ষে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৫৭ রানেই তারা হারিয়েছিল পাঁচ উইকেট। তবে প্রাথমিক এই বিপর্যয় রংপুর কাটিয়ে উঠেছে নাঈমের সেঞ্চুরিতে ভর করে। তাকে সঙ্গ দিয়েছেন তানভীর হায়দার। দুইজন মিলে যোগ করেছেন ১৯৯ রান। ১৪৪ রান করে আউট হয়ে যান নাঈম ইসলাম। ২৮৯ বলের ধৈর্যশীল ইনিংসে ছিল ১৭টি চার ও দুইটি ছক্কা। দিনের খেলা শেষ হবার আগ পর্যন্ত সাত উইকেটে ২৫৬ রান করে রংপুর। তানভির অপরাজিত আছেন ৬২ রানে। দিনের শুরুতে রংপুরের বিপদ ডেকে আনেন নাসুম আহমেদ। তিনি একাই নিয়েছেন পাঁচটি উইকেট। এছাড়া নাজমুল হোসেন ও এনামুল হক জুনিয়র একটি করে উইকেট নিয়েছেন। সংক্ষিপ্ত স্কোর রাজশাহী-চট্টগ্রাম টস: রাজশাহী রাজশাহী: প্রথম দিন শেষে ৮৯ ওভারে ৪২৪/৭ (ফরহাদ রেজা ১৮২*, সাঞ্জামুল ইসলাম ১৭২, ফরহাদ হোসেন ২২; মেহেদি হাসান রানা ২/৫২, আব্দুল্লাহ আল মামুন ২/৫৪, আলি আকবর ২/৯৮) ঢাকা-বরিশাল টস: ঢাকা বরিশাল: ৭৯.২ ওভারে ৩২৩ অল আউট (শাহরিয়ার নাফিস ১২৯, নুরুজ্জামান ৭৯, সজীব ২৮; শুভাগত হোম ৩/৫৯, নাজমুল অপু ৩/৮৫, নূর হোসেন ২/৬৮) ঢাকা: প্রথম দিন শেষে ৮ ওভারে ১৪/০ (আব্দুল মজিদ ৬*, রনি তালুকদার ৭*) খুলনা-ঢাকা মেট্রো টস: ঢাকা মেট্রো ঢাকা মেট্রো: ৭০.৫ ওভারে ১৭২ অল আউট (সাদমান ইসলাম অনিক ৪০, শরিফুল্লাহ ৩৪ সামসুর রহমান শুভ ২৫, আসিফ আহমেদ রাতুল ২৪; আব্দুর রাজ্জাক ৪/৭৮, নিজামুদ্দিন রিপন ৩/২৭, রাজিবুল ইসলাম ২/১৭, সৈয়দ রাসেল ১/১২) সিলেট-রংপুর টস: রংপুর রংপুর: প্রথম দিন শেষে ৯০ ওভারে ২৫৬/৭ (নাঈম ইসলাম ১৪৪, তানভীর হায়দার ৬২*; নাসুম আহমেদ ৫/৫৮)