টুকিটাকি
প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০১৪, ২২:৩২
আমি নিজের কাজটা করেছি
মামুন খান
স্পোর্টস রিপোর্টার
১২০ মিনিট গোল হয়নি ম্যাচে। টাইব্রেকারে গিয়ে প্রথম শটই ঠেকিয়েছেন মোহামেডানের গোলকিপার মামুন খান। কাল ফাইনালে টাইব্রেকারে জয়ের নায়ক এই গোলকিপার। তবে এ নিয়ে খুব বেশি উচ্ছ্বসিত নন তিনি। ফাইনাল খেলা শেষে গোলকিপার মামুন খানের দিকে সংবাদ মাধ্যমের আগ্রহ বাড়লো। মামুন খান বললেন, ‘আমি দায়িত্ব পালন করেছি। দলের জন্য সবাই উজাড় করে খেলেছে। আমি আমার চেষ্টা করেছি। কাব্বা জোয়ে যখন শট করার জন্য বল বসালেন, আমি তার চোখের দিকে তাকিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি কোনদিকে ঝাঁপালে বল পাওয়া যাবে। তাতে আমি সফল হয়েছি।’
খেলোয়াড়রা চাপে ছিল
এমিলি
কোনো রাখঢাক না করে মোহামেডান অধিনায়ক জাহিদ হাসান এমিলি বললেন, তারা নির্ধারিত সময়েই ম্যাচটা জিততে পারতেন। শুরুতেই গোল হলে ম্যাচটা অন্যরকম হতে পারতো। কিন্তু হয়নি কেন জানতে চাইলে এমিলি বলেন, ‘সকারের গোলকিপার নেহাল দারুণ খেলেছেন। নেহালকে কৃতিত্ব দিতে হয়। নেহাল অনেক সুযোগ নষ্ট করে দিয়েছেন বুদ্ধিমত্তার সাথে।’ নিজের ক্যারিয়ারে অধিনায়ক হিসাবে প্রথম ট্রফি পেয়ে এমিলি বললেন, ‘হ্যাঁ আমার জন্য এটা বিরাট সাফল্য’। ফাইনালে ফেনীর দলটির কাছে চাপে ছিল মোহামেডান। আর এই চাপের কারণেই নাকি মোহামেডান গোল আদায় করতে পারেনি বলে জানিয়েছেন অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘খেলোয়াড়দের উপর চাপ ছিল যে কারণে গোল মিস হয়েছে। আমিও গোল মিস করেছি।’
টাইব্রেকারের জন্য প্রস্তুত ছিলাম
রুই ক্যাপেলো
দারুণ খুশি মোহামেডানের পর্তুগীজ কোচ রুই ক্যাপেলা। টাইব্রেকারে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সাথে সাথে মোহামেডান কোচ দৌড়ে মোহামেডান গ্যালারির দিকে ছুটে গেলেন। সমর্থকদের সাথে আনন্দ করলেন। মোহামেডান গ্যালারি থেকে পটকা ফুটিয়ে উল্লাস করছিল সমর্থকরা। ফেন্সিং টপকে সমর্থকরা খেলোয়াড়দের সাথে মিশে গেলেন। কোচও আনন্দ করলেন। বাংলাদেশে তার প্রথম শিরোপা। সমর্থকদের ভীড় ঠেলে ফাঁকায় এসে কথা বললেন কোচ। প্রশ্ন উঠল, ১২০ মিনিটেও কেন গোল করতে পারেনি তার দল। জবাবে বললেন, ‘ফেনীকে তো আমরা হালকাভাবে নেইনি। ওরা শক্তিশালী দল, সেটা তো আগেও বলেছি। আমি চেয়েছিলাম ম্যাচটা যেন টাইব্রেকারে গড়ায়। আমি সেই প্রস্তুতি নিয়ে এসেছিলাম। খেলোয়াড়রা গোল মিস করেছে। সেটা নিয়ে কথা বলতে চাই না।’
ফেনী এখন আর ছোট দল নয়
রিদন
চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও ফেনীর সকার ক্লাবের হতাশা নেই। থাকবেই বা কেন। এতো ভালো খেলে টাইব্রেকারে তো যেকোনো দলই ভাগ্যের কাছে হেরে যেতে পারে। ফেনী সেই ভাগ্যের কাছেই হেরেছে। মোহামেডানকে একতরফা খেলতে দেয়নি সকার ক্লাব। দলের অধিনায়ক আকবর হোসেন রিদন কাল ফাইনাল শেষে বলছিলেন, ‘আমাদের জেতার সুযোগ ছিল। হয়নি। অনেকেই মনে করেছিলেন ফাইনাল ম্যাচে আমাদের বিরুদ্ধে মোহামেডান একতরফা খেলবে। সেটা হয়নি। আমরা সেটা হতে দেইনি। আমার কাছে বড় অর্জন ১২০ মিনিট মোহামেডানকে বন্দী করে রেখেছিলাম।’ রিদন বলেন, ‘আমরা জিততে পারলে ইতিহাস হতো। সেটা হলো না গোলের সুযোগ মিস করায়।’ কথা বলতে গিয়ে রিদনের মনে পড়ে যায় সুযোগ পেয়েও গোল করতে না পারাটা, ‘দুই-তিনটি গোলের সুযোগ মিস করেছি আমরা। ম্যাচটা ঘুরে যেতে পারতো।’ তবে রিদনের শেষ কথার সাথে অনেকেই একমত হবেন, ‘ফেনীর মানুষ খেলাটা উপভোগ করেছে। এখন আর আমাদেরকে ছোট দল বলা যাবে না। আজকের ফাইনাল ম্যাচ আমাদের জন্য আশীর্বাদ হবে লিগে।’
টুর্নামেন্টের যত পুরস্কার
মধুমতি কাপ স্বাধীনতা কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান পেয়েছে ৫ লাখ টাকা, রানার্সআপ ফেনীর সকার ক্লাব পেয়েছে তিন লাখ টাকা।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ ঃ জঙ্গো ওসসেনি (মোহামেডান)। ফেয়ার প্লে ট্রফি মুক্তিযোদ্ধা। সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনজন। এরা হলো মোহামেডানের এমিলি, শেখ জামালের সনি নরদে এবং মুক্তিযোদ্ধার সানডে। টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পেয়েছেন সকার ক্লাবের গোলকিপার মোঃ নেহাল।
আগেও চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল মোহামেডান
স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ১৯৭২ সালে প্রথমবার আয়োজিত স্বাধীনতা দিবস ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল মোহামেডান। সেদিনের ফাইনালে মোহামেডান ৩-২ গোলে হারিয়েছিল ইষ্ট এন্ড ক্লাবকে। এই ম্যাচে গোল করেছিলেন মোহামেডানের স্ট্রাইকার বাফুফের বর্তমান সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন। তিনি সেই ম্যাচে দুই গোল করেন। এছাড়াও মোহামেডানের সাফল্যের ভাণ্ডারে ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত স্বাধীনতা কাপ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব রয়েছে। ২০০৫ সালে মুক্তিযোদ্ধা চ্যাম্পিয়ন হয়। এরপর ফরাশগঞ্জ এবং শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল এই নামের টুর্নামেন্টের। স্বাধীনতার আগেও ৬০ দশকে ইনডিপেনডেন্ট কাপ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মোহামেডান।