এফএ কাপের ফাইনালে আর্সেনাল

নয় মৌসুম ধরে শিরোপা খরায় ভুগতে থাকা আর্সেনাল ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে এফএ কাপের সেমিফাইনালে উইগান অ্যাথলেটিককে ৪-২ গোলে হারিয়ে পৌঁছে গেছে ফাইনালে। প্রিমিয়ার লিগে সর্বশেষ চারটি ম্যাচে জয়হীন থাকা দলটিকে গত শনিবার রাতের এই জয়ের পর প্রশংসার বন্যায় ভাসিয়েছেন কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গার। পাশাপাশি এই জয় ওয়েঙ্গার-আর্সেনালের ১৭ বছরের যাত্রাকেও আরো দীর্ঘায়িত করবে বলে মনে করা হচ্ছে। নয় মৌসুম ধরে কোন শিরোপা জিততে না পারা দলটি এ মৌসুুমেও এরই মধ্যে বিদায় নিয়েছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে। লিভারপুল-ম্যানচেস্টার সিটি-চেলসির পেছনে থাকা দলটির লিগ শিরোপা জয়ের স্বপ্নও প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে, শিরোপা খরা ঘোচানোর একমাত্র উপায় এই এফএ কাপই। তবে কঠিন সেই লড়াইয়ে প্রথমে পিছিয়ে পড়েছিল আর্সেনালই। পার মার্টসাকার ক্যালাম ম্যাকম্যানামানকে আর্সেনাল বক্সের মধ্যে ফেলে দিলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। ঠান্ডা মাথায় পেনাল্টি থেকে দলকে এগিয়ে নেন জর্ডি গোমেজ। ম্যাচের তখন ৬৩ মিনিট। সমতায় ফিরতে মরিয়া আর্সেনাল একের পর এক আক্রমণ চালালেও সাফল্য আসে ম্যাচের একবারে শেষদিকে। খেলা শেষের আট মিনিট বাকি থাকতে দলকে সমতায় ফেরান সেই মার্টসাকারই। এরপর অ্যালেক্স অক্সলেড চেম্বারলেইনের শট ক্রসবারে লেগে ফিরে না এলে জিতেই যেতে পারতো আর্সেনাল। নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত সময়েও কোন দল গোল করতে না পারায় খেলা গড়ায় আর্সেনালকে। সেখানে, প্রতিপক্ষের প্রথম দুটি শটই ঠেকিয়ে দিয়ে আর্সেনালকে এগিয়ে দেন গোলরক্ষক লুকাস ফ্যাবিয়ানাস্কি। অথচ, নিয়মিত গোলরক্ষক উজচেক স্কিয়াজনি ইনজুরিতে না পড়লে খেলাই হতো না। অন্যদিকে, মিকেল আর্টেটা, কিম কালস্ট্রম, অলিভার জিরুদের পর সান্তি কাজোলরাদের সবাই গোল করেন। আগামী মাসের ১৭ তারিখের ফাইনালের টিকেট নিশ্চিত করার পর ওয়েঙ্গার ছিলেন স্বভাবতই দারুণ খুশি। পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়া এই ফরাসি ম্যাচ শেষে বলেন, ‘আমাদের জন্য জয়টা আসলে খুব প্রয়োজন ছিল। তাছাড়া আমরা এমন একটা দলের বিরুদ্ধে পিছিয়ে পড়েছিলাম যারা শারীরিক ভাবে এবং বলপায়ে, দুইক্ষেত্রেই দারুণ শক্তিশালী।’ খেলোয়াড়দের মানসিক সক্ষমতাই এই ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে জানিয়ে ওয়েঙ্গার আরো বলেন, ‘আমাদের মানসিকভাবে অনেক দৃঢ়চেতা হওয়া প্রয়োজন ছিল। প্রয়োজন ছিল সাহসেরও। আমরা সেটা করতে পেরেছি এবং পেনাল্টি শ্যুটআউটে আমরা ছিলাম শান্ত। কোন সন্দেহ নেই, দারুণ অর্জন এটি।’ টাইব্রেকারের ঐ সময়টাতে খেলোয়াড়দের সাথে নয় বরং ডাগআউটে ছিলেন জানিয়ে আর্সেনালের কোচ হিসাবে সপ্তদশ বছর কাটানো ওয়েঙ্গার বলেন, ‘আমি আসলে কিছু ভাবতেই পারছিলাম না। মনে হচ্ছিল, আমার উত্তেজনাই ছাদ ফুড়ে বেরিয়ে যাবে। এই জয় আমাদের আত্মবিশ্বাস অনেকটা বাড়িয়ে দেবে। মৌসুমের শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব থাকবে দলে।’ এভারটনের বিরুদ্ধে লিগে সর্বশেষ ম্যাচে হেরে পয়েন্ট তালিকার সেরা চারের বাইরে চলে যাওয়া দলটিকে জয়ের ধারায় ফিরিয়ে আনতেও এই ম্যাচের ফলাফল অবদান রাখবে বলে জানান ওয়েঙ্গার, ‘এই জয় প্রিমিয়ার লিগে আমাদের আরো বেশী মনোযোগী হতে সাহায্য করবে। আমরা সেখানে অনেকটা শান্তভাবে খেলতে পারবো। আবারো জয়ের ধারায় ফেরার বিষয়ে আমি আত্মবিশ্বাসী।’ মৌসুমের শুরু থেকেই আর্সেনালের সঙ্গে চুক্তি বৃদ্ধির কথা চললেও চুক্তির ব্যাপারে একমত হতে পারছিলেন না ওয়েঙ্গার। ইংলিশ গণমাধ্যম বলছে, দলকে এফএ কাপের ফাইনালে পৌঁছে দেয়ার পর এখন আর সেই চুক্তি সম্পন্ন হতে কোন বাধা নেই। টুর্নামেন্টের অন্য সেমিফাইনালে গতকাল রাতেই মুখোমুখি হয় হাল সিটি ও শেফিল্ড ইউনাইটেড।