আজও যে-বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি
প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০১৪, ২১:০১
যে শাসন-শোষণ আর অবিচার থেকে মুক্তির জন্য সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে এ দেশের জন্ম সেই শোষণ-বঞ্চনাহীন ও সমাজ আমার স্বপ্ন। আমি একজন ছাত্র। তারুণ্যের আবেগ আমাকে নিরন্তর সুন্দরের সাধনা শেখায়। ১৯৫২ সালের অমর একুশের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত এক দীর্ঘ সংগ্রামের গৌরবময় ইতিহাস। সেই ইতিহাস আমাকে আপ্লুত করে। প্রেরণায় উজ্জীবিত করে। ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে ছড়িয়ে আছে বহু আত্মত্যাগের কাহিনি। স্বাধীন সার্বভৌম দেশে সুখী সমৃদ্ধ এক কাঙ্ক্ষিত সমাজ গড়ে উঠবে। সেই স্বপ্ন এখনো স্বপ্নই হয়ে আছে। বাস্তবে এখনো পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসনামলের অপছায়া রয়ে গেছে। স্বাধীনতা লাভের অল্প কিছু কালের মধ্যেই একের পর এক সামরিক শাসন, স্বৈরশাসন, ঘুষ-দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, অর্থনৈতিক বৈষম্য, কুলষিত রাজনীতি, ক্ষমতার লোভ, হানাহানি, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস ইত্যাদি ঔপনিবেশিক শাসনামলের অপকর্মগুলো নতুন আঙ্গিকে মাথা তুলতে শুরু করেছে। দীর্ঘ ৯ বছর স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি অর্থাত্ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামের পর আবার বহু প্রাণ বলি দিয়ে পাওয়া গেলো গণতন্ত্র। কিন্তু সে গণতন্ত্র পূর্ণ বিকাশের সুযোগ পেলো না। সমাজে অস্থিরতা বাড়ছে, বাড়ছে দরিদ্রতা আর অসন্তোষ। তবু আজও আমরা আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখি। সে বাংলাদেশের সমাজ হবে শোষণমুক্ত, সকলের মৌলিক অধিকার রক্ষা পাবে। কাম্য জনসংখ্যা থাকবে সম্পূর্ণ নিরক্ষরমুক্ত। আইনের শাসন বিরাজ করবে সমাজের সর্বত্র এবং প্রবাহিত হবে ইতিবাচক রাজনীতি।
আমার স্বপ্নের বাংলাদেশে সরকার এবং জনগণের মধ্যে থাকবে পরস্পর নিবিড় সম্পর্ক। শাসক শাসিতের ওপর শোষণের স্টিম রুলার চালাবে না। জনগণ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে না। সরকার কেবল জনগণের সেবার মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করবে। অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করার জন্য গ্রাম ও শহরের উন্নয়ন একই সময় সমভাবে চালু থাকবে। এখানে ধনী কেবল ধনী হবে, দরিদ্র আরও দরিদ্র হবে—এমন একপেশে ও অমানবিক অর্থনৈতিক বৈষম্য থাকবে না। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে উঠবে একটি শোষণমুক্ত সমাজ। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিত্সা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানসহ মৌলিক মানবাধিকারসমূহ নিশ্চিত করার জন্য বর্তমান আমলাতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার পরিবর্তে আমার স্বপ্নের বাংলাদেশে থাকবে সত্, যোগ্য ও জবাবদিহিতামূলক প্রশাসন। চালু থাকবে জনপ্রতিনিধিত্বশীল প্রশাসনিক কাঠামো। প্রশাসন থাকবে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত। কারণ এ সর্বনাশা সামাজিক ব্যাধির মরণ ছোবলে বর্তমান সমাজ আজ জর্জরিত। দেশের প্রশাসন, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি, সংস্কৃতি, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সর্বত্র চলছে দুর্নীতি। যার করাল গ্রাসে সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের ভবিষ্যত্ ক্রমশ হয়ে উঠছে অনিশ্চিত ও অনুজ্জ্বল। আমার স্বপ্নের বাংলাদেশে দুর্নীতি প্রতিরোধে থাকবে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক আইন এবং তার সফল প্রয়োগ।
বাংলাদেশ তৃতীয় বিশ্বের একটি দরিদ্র রাষ্ট্র। এর অন্যতম কারণ জনসংখ্যার আধিক্য এবং নিরক্ষতার অভিশাপ। আমার স্বপ্নের বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ হবে শিক্ষিত, সত্, সচেতন ও কর্মঠ। আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশের জনগণ হবে জনসম্পদ। স্বনির্ভর গ্রাম-বাংলার মানুষগুলো থাকবে অনাবিল সুখ ও শান্তিতে। আমাদের দেশে একটি কথা প্রচলিত আছে—কাজীর গরু কেতাবে আছে, গোয়ালে নেই। অর্থাত্ এ দেশে আইন আছে কিন্তু তার সঠিক প্রয়োগ নেই। এদেশে আইন শুধু গরিব ও দুর্বলের জন্য। সবল বা প্রভাবশালীরা সবসময় আইনের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে। আমার স্বপ্নের বাংলাদেশে কখনোই এমনটি হবে না। দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত থাকবে। আইনের মারপ্যাঁচে সাধারণ মানুষ কখনো হয়রানির শিকার হবে না। সমাজের সর্বস্তরে আইনের শাসন কায়েম থাকবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ থাকবে না।
কুমিল্লা