শীর্ষ চার দলের জয়
প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০১৪, ২২:২৮
ম েচলমান জাতীয় ক্রিকেট লিগের ষষ্ঠ রাউন্ডের ম্যাচে ফলাফল এসেছে চারটি ম্যাচেই। জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে রাজশাহী, খুলনা, ঢাকা ও রংপুর। জয় দিয়ে পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষ স্থান অক্ষুণ্ন থাকলো ঢাকার। তাদের পয়েন্ট ১১২। ৯০ পয়েন্ট নিয়ে এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছে রাজশাহী। এর পরের দুটি অবস্থানে আছে খুলনা ও রংপুর।
তিন দিনেই জিতলো রাজশাহী
তিন দিনের মধ্যেই জয় আদায় করে নিল রাজশাহী বিভাগ। গত সোমবার জাতীয় ক্রিকেট লিগের ষষ্ঠ রাউন্ডের ম্যাচে তারা ৪০৩ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে চট্টগ্রামকে। এই ম্যাচে চোট নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ও ওপেনিং ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল।
তৃতীয় দিনে বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে ৭ উইকেটে ১৬৫ রান নিয়ে খেলা শুরু করে রানের পাহাড়ে চাপা পড়া চট্টগ্রাম। নয় নম্বর ব্যাটসম্যান মেহেদি হাসান রানার অপরাজিত ৫৭ রানের সুবাদে অলআউট হওয়ার আগে ২০৮ রান করে দলটি।
প্রথম ইনিংসে ৯ উইকেটে ৬৭৫ রানে ইনিংস ঘোষণা করায় ৪৬৭ রানের লিড পায় রাজশাহী। ফলো অন না করিয়ে ২ উইকেটে ১২৮ রানে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে তারা।
৩৮ রানে মিজানুর রহমান ও জুনায়েদ সিদ্দিক বিদায় নিলেও মুশফিক (অপরাজিত ৫৪) ও ফরহাদ হোসেন (অপরাজিত ৪০) আর কোনো ক্ষতি হতে দেননি।
জয়ের জন্য ৫৯৬ রানের প্রায় অসম্ভব এক লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসেও সাফল্য পাননি চট্টগ্রামের ব্যাটসম্যানরা। তাই বিরাট পরাজয় এড়াতে পারেনি দলটি।
মাত্র ৫ বল খেলে তামিম আহত হয়ে মাঠ ছাড়লে শুরুতেই চাপে পড়ে চট্টগ্রাম। বিপদ আরো বাড়ায় টপ অর্ডারের আরেক ব্যাটসম্যান মাহবুবুল করিমের চোট। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে পারেননি তিনি।
চতুর্থ ওভারে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন মুশফিক। তার জায়গায় বাকি সময় উইকেটরক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন জুনায়েদ। দ্বিতীয় ইনিংসে চট্টগ্রাম ১৯২ রান পর্যন্ত যায় মুমিনুল হকের ৭৫ রানের সৌজন্যে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৫ রান মেহেদির। ২৯ রানে ৩ উইকেট নিয়ে রাজশাহীর সেরা বোলার সানজামুল ইসলাম। প্রথম ইনিংসে ক্যারিয়ার সেরা ২৫৯ রানের অনবদ্য ইনিংসের সুবাদে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতেছেন ফরহাদ রেজা।
রাজ্জাক জেতালেন খুলনাকে
জাতীয় লিগে দুর্দান্ত বল করে এক ইনিংসেই ৯ উইকেট পেয়েছেন বা-হাঁতি স্পিনার আবদুর রাজ্জাক। ঢাকা মহানগরের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৯১ রানের বিনিময়ে এ উইকেট পান তিনি। আর রাজ্জাকের এই স্পিন ঘুর্ণীর কাছেই হেরে গেছে ঢাকা মেট্রো। কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে পাঁচ উইকেটে হেরেছে ঢাকা মেট্রো।
সামপ্রতিক সময়ে বাজে পারফরম্যান্সের কারণে তোপের মুখেই পড়েছিলেন আবদুর রাজ্জাক। এর আগেও প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে একবার তিনি ৯ উইকেট তুলে নেন ৮৪ রানের বিনিময়ে।
প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেট নিয়ে ঢাকা মেট্রোকে চাপের মুখে ফেলেন রাজ্জাক। এর ফলে ঢাকার ইনিংস শেষ হয়েছিল ১৭২ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে আরও বিধ্বংসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে তুলে নেন ৯ উইকেট। বাকি উইকেটটি নিয়েছেন ইমরুল কায়েস।
রাজ্জাকের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ঢাকা মেট্রোর দ্বিতীয় ইনিংস গুটিয়ে গেছে ২৪৩ রানে। সর্বোচ্চ ৮৪ রানের ইনিংস খেলেছেন ওপেনার শামসুর রহমান।
জয়ের জন্য ২০২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে খুলনা। পড়ে তুষার ইমরানের সেঞ্চুরিতে (১০৭ রান) জয়ের বন্দরে পৌঁছে খুলনা। এছাড়া মিথুন আলী করেন ৭৫ রান।
ঢাকার সহজ জয়
জাতীয় ক্রিকেট লিগের ষষ্ঠ রাউন্ডে হেসেখেলেই জিতেছে ঢাকা বিভাগ। বরিশালকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে তারা। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ঢাকার জয়ের ভিতটা আগেরদিনই গড়ে দেয় বোলাররা। ফলে শেষ দিনের বাকি কাজটা শেষ করতে ব্যাটসম্যানদের কোনো সমস্যা হয়নি।
আগের দিনের ৮ উইকেটে ২২১ রান নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার ব্যাট করতে নামা বরিশাল আর মাত্র ৮ রান যোগ করতেই শেষ দুই উইকেট হারায়। ফলে ঢাকার সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ১১০ রান।
বরিশালকে অল্প রানে বেঁধে ফেলতে শেষ দিনের দুটি উইকেটসহ ৪৫ রানে ৪ উইকেট নেন নাজমুল অপু।
সহজ জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে রনি তালুকদারের অপরাজিত ৪৭, আব্দুল মজিদের ৩৩ ও তৈয়েবুর পারভেজের ৩১ রানে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ঢাকা। প্রথম ইনিংসে ১০২ রান করেছিলেন তৈয়বুর পারভেজ। দ্বিতীয় ইনিংসেও ছোট কিন্তু কার্যকর ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা হন তিনি। প্রথম ইনিংসে বরিশালের ৩২৩ রানের জবাবে ৪৪৩ রান করেছিল ঢাকা।
রংপুরের বড় ব্যবধানে জয়
জাতীয় ক্রিকেট লিগের ষষ্ঠ রাউন্ডে বিশাল ব্যবধানে জিতেছে রংপুর বিভাগ। সিলেটকে ৩১৪ রানে হারিয়েছে তারা। মঙ্গলবার ফতুল্লার আউটার স্টেডিয়ামে শেষ দিনে জয়ের জন্য ৬ উইকেট দরকার ছিল রংপুরের। মাত্র ২৫.৩ ওভারেই লক্ষে পৌঁছে যায় তারা।
৪৭৭ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই বিপদে পড়ে সিলেট। ৪ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৫৮ রানে তৃতীয় দিন শেষ করে দলটি। তখনও ৪১৮ রানে পিছিয়ে ছিল তারা। ফলে ম্যাচ বাঁচানোর জন্য শেষ দিনে অসাধ্যই সাধন করতে হতো সিলেটকে।
ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় তার কিছুই হয়নি। মাত্র ১৬২ রানে গুটিয়ে যায় সিলেটের ইনিংস। সর্বোচ্চ ৩১ রান করেন সাকের আহমেদ।
৪৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে রংপুরের সফলতম বোলার সাজেদুল ইসলাম। এছাড়া ৩৫ রানে ৩ উইকেট নেন মাহমুদুল হাসান।
প্রথম ইনিংসে রংপুরের ৩৯১ রানের জবাবে মাত্র ১৪৩ রানে গুটিয়ে যায় সিলেট। তবে প্রতিপক্ষকে ফলোঅন না করিয়ে আবারো ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেটে ২২৮ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে রংপুর। প্রথম ইনিংসে ১৪৪ রান করা নাঈম ইসলাম ম্যাচ সেরা হয়েছেন।