জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ভবনে ভারোত্তোলন ফেডারেশনের এক অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে এক কিশোরী ভারোত্তোলককে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তদন্ত করছে পুলিশ। গত ১৩ সেপ্টেম্বর কিশোরী ভারোত্তোলককে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ১৬ তলায় অফিসের ভিতর ঘুমের ওষুধ মিশানো খাবার খাইয়ে অচেতন করে শারীরিক নির্যাতন চালায় সোহাগ আলী। ওই ঘটনার পর কিশোরী ভারোত্তোলক অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাকে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ব্যাপারে পল্টন থানার ওসি মাহমুদুল হক বলেন, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ভবনে এক নারী খেলোয়াড় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন-এমন খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। ঘটনাটি সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেওয়ার জন্য বুধবার সকালে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়েছে। তবে এ ব্যাপারে কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে তদন্ত করা হবে। গতকাল সকালে পল্টন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহেদুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম ক্রীড়া পরিষদ ভবনে যায়। পুলিশ ক্রীড়া পরিষদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তবে অভিযুক্ত সোহাগ আলীকে খুঁজে পায়নি পুলিশ। তার ব্যবহূত তিনটি মোবাইল ফোন নম্বর বন্ধ পেয়েছে পুলিশ। ক্রীড়া পরিষদের কর্মকর্তারা পুলিশকে জানিয়েছে যে, একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্যাতনের শিকার কিশোরীর মামা গত ২৫ নভেম্বর ভারোত্তোলন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভারোত্তোলন ফেডারেশনের সহ-সভাপতি আতিকুজ্জামান চৌধুরীকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
অভিযুক্ত সোহাগ আলীর বয়স ২৩ বছর। ৬২ কেজি ওজন শ্রেণিতে কিশোরগঞ্জের সুপারস্টার জিমের হয়ে খেলছেন ক্লাব কাপে। ২০১৪ সালে জাতীয় জুনিয়র ৬৯ কেজিতে দ্বিতীয় হয়েছেন। সোহাগ আলী খেলার পাশাপাশি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের জিমনেসিয়াম দেখভাল করেন। এ জন্য মাসে তাকে ৮ হাজার টাকা বেতন দেয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ।