জিএসপি শর্তের বাস্তবায়ন অগ্রগতি রিপোর্ট প্রেরণ

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা বা জিএসপি ফিরে পেতে আরোপিত শতের্র বাস্তবায়ন অগ্রগতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন দেশের বাণিজ্য দপ্তর ‘ইউনাইটেড স্টেটস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ’ (ইউএসটিআর)-এ মঙ্গলবার পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বাণিজ্যমন্ত্রী প্রদত্ত ১৬টি শর্ত পূরণে বাংলাদেশের ‘অগ্রগতি সন্তোষজনক’ দাবি করে বলেন, কিছু কিছু শর্ত পুরোপুরি বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগবে। এগুলো চলমান প্রক্রিয়া। এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জিএসপির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্র প্রায় সব দেশের জিএসপি সুবিধা বাতিল করে দেয়। এখন নতুন করে যদি আবার জিএসপি সুবিধা দেয় তাহলে বাংলাদেশও পাবে— যদি এর মধ্যে রাজনীতি ঢুকে না পড়ে। উল্লেখ্য, শ্রম অধিকার ও কারখানার নিরাপত্তার ইস্যুকে সামনে এনে গত বছর ২৭ জুন জিএসপি সুবিধা স্থগিত করে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর জিএসপি ফিরে পেতে ১৬টি শর্ত বেঁধে দেয় বাণিজ্য দপ্তর ইউনাইটেড স্টেটস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ। এছাড়া গত ৮ জুলাই জেনেভায় অনুষ্ঠিত কমপ্যাক্ট বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো, শ্রমমান নিশ্চিত করতে শর্ত দেয়। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ২শ’ পরিদর্শকের মধ্যে ইতিমধ্যে ৬৭ জন নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বাকিগুলো দ্রুত নিয়োগ দেয়ার জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এজন্য আইন সংশোধন করা হচ্ছে। এছাড়া ইপিজেডে শ্রম আইন সংশোধনের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ডাটাবেজ-এর কাজও চলমান রয়েছে। বর্তমানে কারখানায় শ্রমিকদের কাজের উপযোগী স্বাভাবিক পরিবেশ বিরাজ করছে। এসবই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে বলে মন্ত্রী জানান। প্রতিবেদনে ইপিজেডে ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার দেয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। কারাখানার ভবন সম্পর্কিত নিরাপত্তা এবং ফায়ার সেফটি নিশ্চিত করতে আরো সময় প্রয়োজন উল্লেখ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তবে তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য আগামীতে যেসব নতুন ভবন নির্মাণ হবে সেগুলো শতভাগ বিল্ডিং কোড মেনে তৈরি করা হবে বলে মন্ত্রী জানান। এছাড়া বিদ্যমান যেসব কারখানা ভবনে ত্রুটি আছে সেগুলো সংস্কার ও অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ভবনগুলোর ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। ফায়ার সেফটির উপকরণসমূহ আমদানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত বা শুল্কহার হ্রাসের সুবিধা দেয়া হবে বলে মন্ত্রী জানান।