দুরন্ত বেলের রাতে রিয়ালের কোপা ডেল রে জয়

গ্যারেথ বেলের অসাধারণ এক গোলের পাশাপাশি ভাগ্যের আনুকূল্য মিলিয়ে বার্সেলোনাকে ২-১ গোলে হারিয়ে কোপা ডেল রে তুলে নিলো রিয়াল মাদ্রিদ। চলতি মৌসুমের আগের দুটি এল ক্লাসিকোয় হারের পর তৃতীয়টিতে ঘুরে দাঁড়ালো ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোহীন কোচ কার্লো অ্যানলোত্তির দল। রিয়াল গত বুধবার রাতের জয়টির সুবাদে এ নিয়ে ১৯ বার টুর্নামেন্টটি জিতলো। অ্যাঞ্জেলা ডি মারিয়ার শুরুতেই দেয়া গোলটি বিরতির পর মার্ক বারত্রা শোধ করে দিলে নাটকীয়তায় রূপ নেয় খেলাটি। এরপর বিশ্বের সবচাইতে দামি ফুটবলার বেল এর নৈপুণ্যে শেষ বাশির পাঁচ মিনিট আগে জয়সূচক গোলটি পায় স্প্যানিশ রাজধানীর ক্লাবটি। বার্সেলোনা এ নিয়ে সাত দিনের ব্যবধানে তিনটি শিরোপা জয়ের সুযোগ হাতছাড়া করলো। কাতালান দলটি আগের সপ্তাহে এই রাতে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কাছে হেরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে ছিটকে যায়। এরপর গেল শনিবার গ্রানাডার মাঠে হেরে লা-লিগার শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে একরকম বাদ পড়ে যায় দলটি। কোচ জেরার্ডো মার্টিনোর দলের জন্য সর্বশেষ ভ্যালেন্সিয়ার মাঠে মিললো এই হারটি। সর্বশেষ ২০০৭-০৮ মৌসমের পর এই প্রথম বড় কোন শিরোপা ছাড়াই বছর শেষ করতে হচ্ছে বার্সেলোনাকে। সেবার এরকম ব্যর্থতার জন্য কোচ ফ্রাঙ্ক রাইকার্ডকে বহিষ্কর করেছিল কাতালানরা। বিপরীতে ২০১২ সালের পর এই প্রথম কোন ট্রফি জিতলো রিয়াল মাদ্রিদ। রোনালদোকে ছাড়া মাঠে নেমেও তার রিয়াল সতীর্থরা পর্তুগীজ তারকারটির অভাব অনুভূত হতে দেননি। তাছাড়া রোনালদো নিজেও মাঠের ধারে বসে সতীর্থদের ক্ষণে ক্ষণে উজ্জীবিত করে যাচ্ছিলেন। এরকম একটা আবহের মধ্যেই ১১ মিনিটে আর্জেন্টাইন ডি মারিয়ার রিয়ালকে এগিয়ে দেন। ইস্কো, বেল ও করিম বেনজামার ?যুগিয়ে দেয়া বলে গোলটি করেন তিনি। এর আগে তৃতীয় মিনিটেই ব্রাজিলীয় নেইমারকে ফাউল করে ইস্কো হলুদ কার্ড পান। বিরতির আগে লিওনেল মেসি ২০ গজ দূর থেকে শট নিলে তা ফিরিয়ে দেন ইকার ক্যাসিয়াস। এক গোলে পিছিয়ে পড়ে বিরতিতে যাওয়া বার্সেলোনা ৬৮ মিনিটে ইনজুরি থেকে ফেরা বারত্রার গোলে সমতায় ফিরে। এরপর লুকা মড্রিচের শট বার ঘেঁষে গেলে এক পর্যায়ে মনে হচ্ছিল খেলাটি অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে। কিন্তু তখনো বেল ছিলেন তার ঝলক দেখানোর অপেক্ষায়। শেষ বাঁশি বাজার পাঁচ মিনিট আগে বেল নিজেদের অর্ধ থেকে বল নিয়ে ছুট লাগান। নিজের বাম প্রান্ত ধরে এগুনোর সময় বিপক্ষ ডিফেন্ডার বারত্রাকে গতিতে পরাস্ত করেন তিনি। এরপর প্রায় ৬৫ গজ পেরিয়ে আসা ২৪ বছর বয়সী ওয়েলশ জাতীয় দলের খেলোয়াড়টি বার্সেলোনা গোলরক্ষক পিন্টোকে বোকা বানিয়ে তার পায়ের ফাঁক গলিয়ে বল জালে জড়ান। এটি ছিল একেবারের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের চূড়ান্ত। গোলটি ইতোমধ্যেই বোদ্ধাদের আলোচনায়। কেননা দুর্দান্ত গতি, বাড়তি শক্তি ও আক্রমণটিকে পূর্ণতা দেয়ার ক্ষমতা মিলিয়ে গোলটি বেলের পেছনে ব্যয় করা লাখ লাখ ইউরোকেই স্বার্থকতা দেয়। তার নিজের ক্যারিয়ারের বিচারেও এটি সেরা গোল। বার্সেলোনা অবশ্য সুযোগ পেয়েছিল গোলটি শোধের। কিন্তু এর আগে ২৬টি কোপা ডেল রে জেতা দলটির সাথে যে ভাগ্য ছিল না। নইলে নেইমারের বক্স থেকে নেয়া অমন দুরন্ত শটটি কেন পোস্টে লেগে ফিরে আসবে মাদ্রিদ গোলরক্ষক ইকার ক্যাসিয়াসেরই হাতে।