টেস্ট স্বপ্নে বিভোর আফগানিস্তান
প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০১৪, ২২:৩০
বাংলাদেশ কিংবা জিম্বাবুয়ের জন্য ‘আইসিসি টেস্ট চ্যালেঞ্জ’ অবমাননার বিষয় হলেও আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ডের মত সহযোগী দেশগুলোর জন্য সেটা আশীর্বাদ হয়েই এসেছে। আর আইসিসি’র এই নতুন সিদ্ধান্তকে স্বাগতই জানিয়েছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি)। দেশটির ক্রিকেটও এখন টেস্ট খেলার স্বপ্নে বিভোর।
‘আইসিসি টেস্ট চ্যালেঞ্জ’ নামে প্রতি চার বছর পরপর হবে হোম ও অ্যাওয়ে সিরিজ ভিত্তিতে। সর্বনিম্ন র্যাংকিংয়ের টেস্ট দল ও আইসিসি’র ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ (আইসি কাপ) জয়ী দলের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য এই সিরিজ দুটিকে বলা হচ্ছে টেস্ট খেলার নতুন পথ! এই নিয়ম অনুযায়ী ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর যে দলটি টেস্ট র্যাংকিংয়ের ১০ নম্বরে থাকবে তারা দুই টেস্টের একটি হোম ও একটি অ্যাওয়ে সিরিজ খেলবে তখনকার আইসি কাপজয়ী দলের বিপক্ষে। এই সিরিজ দুটি অনুষ্ঠিত হবে ২০১৮ সালে। একইভাবে ২০২২ সালে আবার অনুষ্ঠিত হবে এই সিরিজ।
আফগান ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ মুরাদ নতুন এই নিয়মকে স্বাগত জানিয়ে আইসিসি’র ওয়েবসাইটে বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তের ফলে আফগানিস্তান ও অন্য সহযোগী দেশগুলোর টেস্ট খেলার দুয়ার উন্মোচিত হল। এর জন্য আমরা আইসিসি’র প্রতি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ।’
পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মানের ক্রিকেট খেলার জন্য আইসিসি’র নতুন এই নিয়মকেই একমাত্র উপায় হিসেবে দেখছেন আফগান ক্রিকেটের এই কর্মকর্তা, ‘পূর্ণ সদস্য দেশগুলো যে মানের ক্রিকেট খেলে আমাদেরকেও ঠিক তেমনটা খেলতে হবে। আর সেই মান অর্জন করা সম্ভব কেবলমাত্র তাদের বিপক্ষে টেস্ট খেলে। আমাদের পরিশ্রম করতে হবে। আমরা যেন ২০১৭ সালের ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপের শিরোপা জিততে পারি, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। এরপরই ২০১৮ সালে আমরা প্রথম টেস্ট খেলতে পারবো।’
আগামী আট বছরের মধ্যে দুটি ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ অনুষ্ঠিত হবার কথা। এর মধ্যে প্রথমটি অনুষ্ঠিত হবে ২০১৫ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যবর্তী সময়ে। আর পরেরটি হবে ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে। এই দুটি টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন দল খেলবে আইসিসি টেস্ট চ্যালেঞ্জে।
আইসিসি টেস্ট র্যাংকিংয়ে বর্তমানে শীর্ষস্থানে আছে দক্ষিণ আফ্রিকা। আর দশটি টেস্ট খেলুড়ে দেশের মধ্যে সর্বশেষ স্থানে আছে বাংলাদেশ। পারফরম্যান্সের উন্নতি না করলে কে জানে আফগানিস্তানের মত দলের বিপক্ষে আইসিসি টেস্ট চ্যালেঞ্জ খেলতে হতে পারে বাংলাদেশকে!