জাতীয় বাজেটের জাতীয়তা

জাতীয় বাজেট তৈরিতে পদ্ধতিগত সংস্কার আনার আবশ্যকতা অনেক দিন ধরেই অনুভূত হচ্ছে। বাজেটের অন্যতম পদ্ধতিগত সীমাবদ্ধতা হলো—উপর থেকে আসা বাজেটের প্রাক্কলন ও নীতি নির্দেশনার আলোকে হিসাব মিলিয়ে নিচ থেকে বাজেট তৈরী করতে হয়, এভাবে আরোপিত বাজেট বাস্তবায়নে সমস্যা দেখা দেয়, একাধিক বার সংশোধন ও পরিবর্তন করতে হয়। অথচ মাঠ পর্যায়ের ভাবনা, চাহিদা ও দাবীর প্রতিফলন ঘটিয়ে বাজেটের প্রস্তাব করা হলে বাজেট বাস্তবায়ন আরো অনেক বেশি ফলপ্রসু হতো। তেতালি¬শ বছর বয়েসী বাংলাদেশের মত একটি উদীয়মান এবং সম্ভাবনাময় অথচ অবকাঠামোগত নানান সমস্যার (রাজনৈতিক অস্থিরতা প্রসূত আর্থ সামাজিক অস্থিতিশীলতা, বিশ্ব অর্থনীতির টালমাটাল পরিস্থিতির প্রত্যক্ষ পরোক্ষ প্রভাব এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা হেতু জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত প্রাকৃতিক দূর্যোগের) সাথে সংগ্রামে রত অর্থনীতির জাতীয় বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন উভয় ক্ষেত্রেই চ্যালেঞ্জ থাকবেই। দীর্ঘদিনের ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষনে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া একটি পোড় খাওয়া অর্থনীতি ও ঘুনে ধরা পদ্ধতি প্রক্রিয়া প্রশাসন এর কাছে এটাই অনিবার্য প্রাপ্তি। আর্থ সামাজিক ক্ষেত্রে সকল প্রকার শোষণ ও বন্টন বৈষম্যের অবসান ও প্রতিকার প্রত্যাশায় (‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম’) মহান মুক্তিযুদ্ধের দ্বারা অর্জিত একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ ও অর্থনীতি শোষন ও বঞ্চনা বিহীন সমাজ গঠনে সমাজতান্ত্রিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ রক্ষণশীল বাজার ব্যবস্থায় পরিচালিত হওয়ার কথা থাকলেও মুক্ত বাজার অর্থনীতির অন্ধ অনুসরণ ও পুঁজিবাদী ভাবধারার অনুরক্ত ভক্ত সাজার জন্য সময়ক্ষেপণ না করায় একধরণের দোদূল্যমান পরিস্থিতিতে দোটানায় বুঝতে ও জুঝতে বাংলাদেশ একটি বিশেষ মিশ্র স্বভাবে অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। এমনতরো পরিস্থিতিতে বিদেশী সাহায্য ও বিদেশী বিনিয়োগের দ্বারা অর্থনীতির ভিতকে মজবুত করতে যেয়ে ও চেয়ে নিজের স্বাবলম্বী ও স্বয়ম্ভর হওয়ার চেতনায় ‘শ্যাম রাখি না কুল রাখি’ অবস্থার উদ্ভব হয়েছে। এ ধরনের পরস্পর প্রযুক্ত আবার একই সাথে পরস্পর প্রতিদ্বন্ধী অনুসঙ্গ সমূহের যে অর্থনীতিতে নিত্য যাতায়াত যে অর্থনীতির একটি বার্ষিক বাজেট প্রণয়ন যে কারো জন্যই দূরহ তো বটেই। বাজেটের আকার নিয়ে কিংবা এর বাস্তবায়ন উপযোগিতা নিয়ে ঢের আলোচনা সমালোচনা হতে পারে। সমালোচনা যাই হোক অর্থনীতি তার নিজ গতিতে এগুতে থাকবে এবং সমালোচকরাও নিজেরা যদি বাজেট বানাতেন তারাও এ ধরনের বাজেটই বানাতেন এটি হল প্রকৃত বাস্তবতা। গত এবং চলতি অর্থবছরে রাজস্ব ও ব্যয় বাজেট তথা সামষ্টিক অর্থনীতি ব্যবস্থাপনায় যে বা যতটুকু ছন্দপতন ঘটেছে তা পুষিয়ে নিয়ে টেকসই অগ্রগতির সড়কে ওঠার জন্য আগামী অর্থবছরের বাজেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বমন্দার নেতিবাচক প্রভাব মাথায় রেখে সামষ্টিক অর্থনীতির উন্নয়নে বিদ্যমান সমস্যা ও চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবেলার পথনকশা নির্ধারণ প্রয়াজন হবে। বাজেটকে শুধু আয় ব্যয়ের দলিল বিবেচনার সুযোগ নেই। বাজেটে যে কর্ম পরিকল্পনা উচ্চারিত হবে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের উপায়ও আন্তরিক প্রয়াসের রোডম্যাপও প্রয়োজন। সীমাবদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গী কিংবা ঠুনকো কার্যকরণকে উপলক্ষ করে নেয়া পদক্ষেপ দীর্ঘস্থায়ী ফল বয়ে আনেনা। দলীয় সরকার শুধু নিজেদের মেয়াদকালে বাস্তবায়নযোগ্য পদক্ষেপ ও কার্যক্রম গ্রহণ করলে টেকশই উন্নতির সম্ভাবনা তো সীমিত হয়ে পড়ে। জাতীয় ঊন্নয়ন পরিকল্পনার জন্য দূরদৃষ্টি নেতৃত্বের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও দৃঢ়প্রত্যয় প্রয়োজন। সমস্যা গোচরে এলে ব্যবস্থা নিতে নিতে সকল সীমিত সম্পদ নিঃশেষ হতে দিলে প্রকৃত উন্নয়নের জন্য পুঁজি ও প্রত্যয়ে ঘাটতি তো হবেই। তেল আনতে নুন ফুরায় যে সংসারে সেখানে সমৃদ্ধির স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায়। সমস্যারা পরসপরের মিত্র একটার সাথে একটার যেন নাড়ির যোগাযোগ। আইন শৃঙ্খলার সাথে ব্যক্তি নিরাপত্তার, ব্যক্তি নিরাপত্তার সাথে সামাজিক নিরাপত্তার, সামাজিক নিরাপত্তার সাথে আয় উপার্জনের সকল কার্যক্রমের কার্যকরন গত সমপর্ক রয়েছে। দারিদ্রের বিরুদ্ধে সংগ্রামে চাই আয় উপার্জনের সুস্থ স্বাভাবিক পরিবেশ। শিক্ষা কর্মদক্ষতাকে , স্বাস্থ্য সেবা কর্মক্ষমতাকে, কর্মদক্ষতা ও কর্ম ক্ষমতা উত্পাদন ও ব্যবসা বানিজ্যে প্রসার ঘটবে এটাই প্রত্যাশা। সর্বত্র সেই পরিবেশের সহায়তা একান্ত অপরিহার্য যেখানে সীমিত সম্পদের ও সুযোগের সর্বোত্তম ব্যবহার সম্ভব। একটাকে উপেক্ষা মানে যুগপত্ভাবে অন্যান্য অনেক সমস্যাকে ছাড় দেয়া। সমস্যার উেস যেয়ে সমস্যার সমাধানে ব্রতী হতে হবে। একাজ কারো একার নয়, শুধু সরকারের তো নয়ই, একাজ সকলের। সকল পর্যায়ে নেতৃত্ব প্রয়োজন সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সমাধানের জন্য, সমস্যা পরিপোষনের জন্য নয়। রাজনৈতিক সদিচ্ছা যেকোন সংস্কার মূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়নের জন্য অপরিহার্য -কী জনমত সৃষ্টিতে, আস্থা আনয়নে ও একাগ্রতা পোষণে। নেতিবাচক মনোভারের রাসায়নিক ও কাঠামোগত (Alchemy and anatomy of negative perceptions) উদগীরণকে কোমলে কাঠোরে মোকাবেলা করতে হবে। যেকোন সংস্কার বাস্তবায়ন কোন মতেই সহজসাধ্য নয় বলেই সেখানে দৃঢ়চিত্ততা আবশ্যক। এখানে দ্বিধান্বিত হওয়া দ্বিমত পোষণ কিংবা প্রথাসি্দ্ধবাদী আমলা বেনিয়া মুত্সুদ্ধি মানসিকতার সাথে আপোষ করার সুযোগ থাকতে নেই। রাজস্ব নীতি ও নিয়মতান্ত্রিকতায় (Fiscal policy) দেশীয় শিল্প স্বার্থ ও সক্ষমতা সংরক্ষন শ্রমঘন শিল্প সুরক্ষা, দেশজ কাচামাল ও তার বহুমাত্রিক প্রক্রিয়াকরণের পন্থা উদ্ভাবনে অনুপ্রেরণা প্রদায়ক ব্যবস্থা বাজেটে পুনরীক্ষনের অবকাশ রয়েছে। অবৈধ অর্জনকে অর্থনীতির মূলধারায় আনার য়ৌক্তিকতায় নানান সুযোগের সম্প্রসারণ অব্যাহত রাখার বিষয়টি অর্থনীতিতে ন্যয়নীতি নির্ভরতার মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার অনিবার্যতার অবয়বে বিশেষ বিচেনার দাবীদার। বাজেটে আয় ব্যয়ের প্রাক্কলন বাস্তবতার ও বাস্তবায়নযোগ্যতার নিরিখে নির্ধারিত হলে সচ্ছতা সুনিশ্চিত হতে পারে। বাজেটে জনগণের প্রতি সরকারের এবং রাস্ট্রের প্রতি নাগরিকের দায়বদ্ধতার উপায় হিসেবে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের মতামত প্রতিফলিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। জনগণের প্রতি সরকারের আয়-ব্যয়ের দায়বদ্ধতার দলিল হিসেবে বাজেটকে দেখা হয়, বাজেটকে প্রকৃতঅর্থে বাজেট মনে করতে হবে। জাতীয় সংসদে জনস্বার্থসুরক্ষার দৃষ্টিতে বাজেটের ওপর ব্যাপক ও বিস্তৃত আলোচনার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং একই সংসদীয় পদ্ধতির দেশগুলোর ন্যায় সংসদীয় কমিটিগুলিতে স্ব স্ব বাজেট প্রস্তাব পরীক্ষা পর্যালোচনার ব্যবসস্থা প্রবর্তিত হতে পারে। সংশ্লিস্ট সকল পক্ষের মতামত বা জনমত সৃষ্টি করে বাজেটের বিধি-বিধান, প্রবিধান, ভর্তুকি, কর, ভ্যাট ও শুল্ক ব্যবস্থাপনায় সংস্কার আনা উচিত্। যেমন-গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ প্রান্তীক পর্যায়ে যে প্রাক-বাজেট আলোচনা করেন, কৃষি বাজেটে তার প্রতিফলন অর্থবহ হতে পারে। শেষ সময়ে এসে প্রাক বাজেট আলোচনা বাজেট সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে খুব একটা ফলপ্রসু হয়না। সংসদে বাজেট পেশ করা হয় জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে। বাজেটের বেশিরভাগ নীতিগত সিদ্ধান্ত এপ্রিল মাসের মধ্যে নিতে হয়। শেষ সময়ে এসে দু্ একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ছাড়া পরিবর্তনের প্রস্তাব বিবেচনার অবকাশ মিলে না। আমাদের দেশে প্রাক বাজেট আলোচনা জোরে সোরে শুরু হয় এপ্রিল বা মে মাসে এসে। আমার ভাষায় এটা ‘মাগরিবের ওয়াক্তের’ আলোচনা। এই আলোচনায় দেশের বিশাল সংখ্যক ব্যবসায়ী সংগঠন, উত্পাদক, শিল্প মালিকদের সংগঠন, আমদানি ও রপ্তানিকারক, পেশাজীবী, বিশেষজ্ঞদের মতামত প্রকৃত অর্থে আমলে নেয়া বা তার বাস্তব প্রতিফলন বাজেটে ঘটানো কার্যত সম্ভব হয়না। অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে , ইতিমধ্যে বেশিরভাগ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়ে গেছে। রাজস্ব আইনের আওতায় শুল্ক কিংবা কর আরোপে বা ব্যবস্থাপনায় কোন পরিবর্তন আনতে হলে তার জন্য যথেষ্ট সময় নিয়ে এর প্রয়োগ প্রক্রিয়ার নানান দিক পুঙখানুপুঙ্খ বিচার বিশ্লেষণের প্রয়োজনীয়তার অনিবার্যতাকে অস্বীকার করা চলে না। কোন বিষয়ে নীতিগত বা পদ্ধতি প্রক্রিয়াগত পরিবর্তন বাজেটে অর্থ বিলের মাধ্যমে হঠাত্ করেই আনা হলে শুরু করা হলে সম্ভাব্য আপাতনের শিকার ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এর জন্য প্রস্তুত থাকেন না। কিন্তু কোন বিষয়ে পরিবর্তন বা নতুন করে কোন কর বা শুলক আরোপ করতে চাইলে তা যে বাজেট থেকে প্রয়োগ হবে আগেভাগে তার ওপর মতামত বা জনমত যাচাই বা তৈরীর কাজ এক বছর আগে শুরু করা উচিত। এর ফলে বছর ব্যপী এ বিষয়টির সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হতে পারে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামত নেয়ার সুযোগ হয়। সর্বোপরি যাদের উপর এটি প্রয়োগ করা হবে তারা মানসিকভাবে প্রস্তুতি নেয়ার সুযোগ পান। ফলে এটি বাস্তবায়ন করা সহজ হয়। এছাড়া বাজেটের খুব ছোট একটি অংশ (অন্তুত ১ শতাংশ) পরিসংখ্যান, অটোমেশন, ডাটা বেস, বা গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কাজে ব্যয় করা যেতে পারে। কোন বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে গেলে কর্তপক্ষের নিজের কাছে তথ্য ও পরিসংখ্যান থাকার প্রয়োজন হয়। বিভিন্ন শিল্প ও বনিক সমিতি এবং থিঙ্ক ট্যাংক বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানসমূহ তথ্যভান্ডার গড়ে তুলতে পারে। কিন্তু যাদের দাবির প্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত নিতে হয় তাদের দেয়া পরিসংখ্যান বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সুনির্দিষ্ট ও সঠিক হয়না। প্রকৃতি (Law of Nature) তার নিজস্ব নিয়মে ও গতিতে চলে তাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলতে পারে তবে তা প্রাকৃতিক নিয়মেই ব্যর্থ হতে পারে। মধ্যম আয়ের দেশের টিকিট পেতে হলে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির বার্ষিক মাত্রা ন্যুনতম ৭-৮-৯ এর মধ্যে হওয়ার বিকল্প নেই। উচ্চাশার প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা তাই ধরতে হবে। তবে একই সাথে সে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের উপায় সুযোগ অনুসঙ্গ অনুরঙ্গ কোন পর্যায়ে আছে তা দেখা দরকার বৈকী। প্রবৃদ্ধি ঘটার অন্যতম উপায় অর্থনীতির চলত্শক্তির প্রাগ্রসরতা, বোধগম্যতা ও সহন ক্ষমতা। বিনিয়োগে অর্থনীতিতে সম্পদ সৃষ্টি হয়, কর্ম সৃজন হয়। কর্ম সৃজিত হলে অন্যান্য আর্থিক কর্মকান্ডের প্রসার ঘটে সেখান থেকে জীবন মানের উন্নয়ন যেমন ঘটে তেমনি রাজস্ব আয়ের সংস্থান হয়, যে রাজস্ব আবার পুনঃবিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করে। সুতরাং বিনিয়োগ হওয়ার জন্য পুঁজি ও পরিবেশ প্রয়োজন। সেটি নিশ্চিত হতে হবে। মোদ্দাকথা বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি বিনিয়োগ এটি একটি সাইকেল। প্রবৃদ্ধি হবেনা যদি বিনিয়োগ না হয় আবার বিনিয়োগ হবে না প্রবৃদ্ধি না হলে।। ডিম আগে না মুরগী আগের মত অবস্থা আরকি। রাজস্ব আহরণ এর লক্ষমাত্রা অর্জন যোগ্য করতে হলে উপযুক্ত কর্মপরিকল্পনা, পরিবেশ , ক্লেশ, প্রতিজ্ঞা ও প্রত্যয় প্রয়োজন। ঘাটতির অর্থ কিভাবে সংগ্রহ করা হবে- বিদেশী অনুদান, ঋণ আর দেশীয় ঋণ নিয়ে। সেক্ষেত্রেও পরিবেশ ও সুযোগ কেমন সেটা দেখা দরকার -নিকট অতীতের অভিজ্ঞতার পরিসংখ্যানের পাজি পুঁথি ঘেটে যা দেখা যায় সেখানে শংকা আর আশংকারা গলাগলি ধরে বসে আছে। এমতাবস্থায় ঘাটতির ঘোড়া দুবির্ণীত হবেই—তাকে থামাতে ,ফলশ্রুতিতে, ব্যাংক ঋণের দ্বারস্ত হতে হবেই। ব্যাংকগুলো চলে গ্রাহকের বিশ্বস্ততার বিনিয়োগে। সেখানে মোটা অংকের মুনাফা দিয়ে এই বিনিয়োগ নেয়া হয়—ব্যাংক গুলোকে যদি সরকারকে ধারকর্জ দিতে হয় এবং এবং কার্যকর মুনাফায় বেসরকারী খাতকে ঋণ দেয়ার তহবিলে যদি পড়ে টানাটানি তাহলে ব্যাংকের মুনাফা করা দুষ্কর য় পড়বে। আর রাজস্ব আয়ের অন্যতম উত্স কর্পোরেট ট্যাক্সপেয়ারদের শিরোমনি খোদ ব্যাংকের যদি আয় সংকুচিত হয় তাহলে রাজস্ব আয়ের লক্ষমাত্রা কিভাবে অর্জন হবে সম্বব? তার চাইতে বড় কথা, ব্যাংকের ঋণ দেয়ার মত তহবিল সংকটের এ পরিস্থিতেতে বেসরকারী খাতের ব্যাংক থেকে পুঁজিপাওয়ার ক্ষেত্র ও সুযোগ সংকুচিত হলে বেসরকারী খাতে বিনিয়োগ হবে (যা এখন ১৮/১৯ এর মধ্যে ঘোরাঘুরি করছে- যা হওয়া উচিত হবে ২৩/২৪) বাধা গ্রস্ত। আর সরকারী বিনিয়োগ যেভাবে ৭/৮ এর মধ্যে ঘোরাঘুরি করছে তারও পরিমান বাড়া উচিত। বাড়াবার ইচ্ছা প্রকাশ করা হচ্ছে কিন্ত উপায়ের অস্পষ্টতা কাটছে না। নিজস্ব সম্পদের দ্বারা সরকারী বিনিয়োগ বাড়লে যেমন ডবল লাভ তেমনি সরকারী বিনিয়োগ ব্যাংক লোন দিয়ে হলে ডবল ক্ষতি। অর্থনীতিকে ভবিষ্যতে আরো ঋণগ্রস্ত করা বা দীর্ঘমেয়াদী ঝুকিমূখী করার অন্যতম অনাকাঙ্ক্ষিত উপায় হচ্ছে বেসরকারী বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করা। বেসরকারী বিনিয়োগ বাধাগ্রস্থ হলে রাজস্ব আয় কমে যাবে—ব্যাংকগুলো নীট মুনাফায় ঘাটতি ঘটলে রাজস্ব কমে যাবে—তাহলে যে লাউ সেই কদু। সুতরাং সরকারী বেসরকারী নির্বিশেষে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে—চড়া ও কড়া সুদের ঋণের অর্থে নয় নিজস্ব সম্পদসৃজনকারী উপায় হিসেবে। এ নিরীখে প্রকল্প নিতে হবে সম্পদসৃজনকারী ও উপযোগিতার বাছ বিচারে , যে কোন প্রকার অনুত্পাদনশীল খাতে এবং গুণগত মান যাচাই যোগ্য হবে না বা নিশ্চিত হবে না এমন প্রকল্প গ্রহণ পরিহার করে। ভিন্ন উদ্দেশাভিমুখী ভাববিলাস ব্যবস্থার বালুচর থেকে বাস্তবতার শক্ত মাটিতে পা রাখতেই এডিপির প্রকল্প বাছাই ও অর্থ বিতরণ ব্যবস্থায় অগৌণে যথাদৃষ্টি দেয়া অতীব জরুরী। লেখক :সরকারের সাবেক সচিব, এন বি আরের প্রাক্তন চেয়ারম্যান