তরুণ সমাজ কি হতাশ

হতাশার দোলনায় দুলছে তরুণ সমাজ একজন শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সময় হতাশায় ভোগে। মেধা আর ভাল পয়েন্ট নিয়ে ভর্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেও ভর্তি হতে পারে না। টাকা দিয়ে ভর্তি হতে হয়। ভর্তির পর রাজনৈতিক নেতাদের খপ্পরে পড়ে। নেতারা কোন একটা রাজনৈতিক দলে নাম লেখাতে, মিছিল মিটিং-এ যেতে বাধ্য করে। নইলে হোস্টেলে থাকার সুযোগ দেয় না। তারপর পড়ালেখার প্রায় শেষপ্রান্তে এসে সেশনজটে পড়তে হয়। জীবনের মূল্যবান সময় সেশনজটে আটকে থাকে। পড়ালেখা শেষ হলে চাকরি মেলে না। একজন শিক্ষার্থী চতুর্মুখী হতাশায় ভোগে। এ হতাশা দূর করতে গেলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ভর্তি দুর্নীতি, সেশনজট, নোংরা রাজনীতি বন্ধ করে যোগ্যবান তরুণকে বেকারত্ব থেকে মুক্তি দিতে হবে। মো. রুহুল আমিন বাণিজ্য শাখা, প্রথম বর্ষ সরকারি বাংলা কলেজ, মিরপুর, ঢাকা। আমরা হতাশার বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে আসতে চাই অস্থিতিশীল রাজনীতির কারণে বার বার পিছিয়ে যাচ্ছে পরীক্ষা আর শিক্ষার্থীদের অনিশ্চয়তার প্রহর গুণতে হচ্ছে। শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়ালেই হবে না, সেখানে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। আমরা হতাশার মধ্য দিয়ে আর সময় কাটাতে চাই না। আমরা এখান থেকে বের হয়ে আসতে চাই। একটি সুস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং অপরাজনীতিমুক্ত শিক্ষাঙ্গনই পারে আমাদের তরুণ সমাজকে হতাশার মধ্য থেকে বের করে আনতে। সাদ আহমেদ শাকিল লেভেল-২, সেমিস্টার-১ কৃষি প্রকৌশল এবং কারিগরি অনুষদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ। অপ্রতুল কর্মসংস্থানেই তরুণদের যত হতাশা দ্বিধাবিভক্ত রাজনৈতিক ছায়ায় আজ তরুণরাও প্রভাবিত। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী যে পরিবর্তনের রেখা সূচিত হচ্ছে তার মুখ্য ভূমিকা পালন করছে তরুণ সমাজ। বিশেষ করে ‘আরব বসন্ত’ থেকে শুরু করে নিউইয়র্ক ‘অকুপাই ম্যুভমেন্ট’ এর পিছনে তরুণদের অবদানই সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশেও তরুণদের অবদান কম নয়। ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৫৮ সালে আইয়ুব খানের মার্শাল ল’ এর বিরুদ্ধে, ৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬-এ ছয় দফা বাস্তবায়ন এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয় তরুণরা। বরাবরের মতো দেশের ত্রাণ হয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে ত্বরান্বিত করতে তরুণদেরই একক প্রচেষ্টায় সৃষ্টি হয় গণজাগরণ মঞ্চ। দেশের জন্য তরুণরা সবসময় ত্রাণ রূপে আবির্ভূত হলেও বর্তমানে দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতির অপ্রতুল কর্মসংস্থান তরুণদের জন্য ত্রাস হিসেবে দেখা দিচ্ছে। তারপরও একজন তরুণ হিসেবে কাজী নজরুল ইসলামের ভাষায় বলতে চাই, ‘তরুণ অরুণের মতোই যে তারুণ্য তিমির-বিদায়ী, সে আলোর দেবতা’। সাইফুল ইসলাম ৩য় বর্ষ, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। তরুণ সমাজকে হতাশা হতে বের হয়ে উদ্যমী হয়ে কাজ করতে হবে তরুণ সমাজ হতাশ হলে একটি জাতি কখনো উন্নতির উচ্চ শিখরে পৌঁছতে পারে না। তরুণ সমাজই পারে একটি সুন্দর সু-শৃংখল, শিক্ষিত, দুর্নীতিমুক্ত, শোষণমুক্ত, সুন্দর রাষ্ট্র গড়তে। তরুণ সমাজ আমাদেরকে ৫২-৭১ দিয়েছে। তরুণ সমাজকে নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। সকল ধরনের চ্যালেন্স মোকাবিলা করতে পারে একমাত্র তরুণ সমাজ। তরুণ সমাজ হল একটি জাতির মূলশক্তি। তাই অনিয়মের সংস্কৃতি ভেঙ্গে নিয়মমানার সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রত্যয়ে তরুণ সমাজকে উদ্যমী হয়ে কাজ করতে হবে। পেয়ার আহমদ আফিফ ইংরেজি বিভাগ, ৪র্থ বর্ষ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। সমৃদ্ধ দেশ গড়ার জন্য চাই স্ব-উদ্যোগী ও স্বচালিত মানসিকতা আমরা তো সেই দেশের নাগরিক হিসেবে গর্ববোধ করি যে দেশের একজন ট্যাক্সি ড্রাইভারের সততা আর আমানতদারিতা বিশ্ব মিডিয়ায় ঝড় তোলে। আমাদের অহংকার আমাদের নাগরিকত্বে, যে দেশের নাগরিকরা কখনোই পরাভবের নিগড়ে বন্দী হতে শেখেনি। তাই আমাদের প্রজন্মের সততার ব্যাপারে অনেক বেশি আশাবাদী। সমপ্রতি বাংলাদেশি তরুণ-তরুণীদের এভারেষ্ট বিজয় আমাদের আশাবাদকে আরও একধাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই দৃশ্যগুলো অবশ্যই আমাদের নতুন প্রজন্মের মধ্যে আশার সঞ্চার করবে। এখন প্রয়োজন একটি সমৃদ্ধ দেশ গড়ার লক্ষ্যে স্বউদ্যোগী ও স্বচালিত মানসিকতার। আমাদের দেশেও যদি বিভাজনের রেখাটি না থাকত তাহলে আমরাও নিজেদেরকে দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিটি দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য একেকটি মডেল হিসেবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হতাম। তাই জাতিসত্তার প্রয়োজনে আমাদের বিভাজনের মনোভাবকে পরিহার করা উচিত। একটি সমৃদ্ধ দেশ গড়ার জন্য এটি প্রাথমিক পদক্ষেপ হতে পারে। মো: নজরুল ইসলাম রনি মাস্টার্স অধ্যয়নরত, মার্কেটিং বিভাগ, ঢাকা কলেজ।