দিবস

ইস্টার সানডে-জীবন দেয়াতেই পরিপূর্ণতা

বিশ্বের সকল খ্রীস্ট বিশ্বাসীর জন্য আজ পরিত্রাণের দিন। দীর্ঘ চল্লিশ দিন উপবাস ও প্রার্থনা এবং ত্যাগ স্বীকার করে খ্রীস্টানগণ দিনটিকে পালন করেন ‘পুনরুত্থান বা পাক্স পার্বণ’ হিসেবে। খ্রীস্টানগণ বিশ্বাস করেন যে, সৃষ্টিকর্তা হলেন পিতা, তিনি তাঁর পুত্র যীশুকে এই পৃথিবীতে পাঠিয়েছিলেন যেন মানব জাতি পরিত্রাণ পায়, সুখ ও শান্তিতে বসবাস করেন সর্বোপরি স্বর্গের শান্তি আস্বাদন করতে পারেন পৃথিবীতে ও স্বর্গে। কিন্তু পুনরুত্থান বিষয়টি স্বাভাবিক দৃষ্টিতে দেখলে অবিশ্বাস বলেই মনে হয়। কোনো ব্যক্তি মৃত্যুর পর কবর থেকে উঠে এসেছেন তা একমাত্র যীশু ছাড়া আর কোথাও শোনা যায়নি। তাই এই বিশ্বে অনেক রহস্যাবৃত কাজ ও কীর্তি রয়েছে কিন্তু কবর থেকে উঠে আসা এটাই প্রথম ও শেষ। এই বিষয়টিকে প্রমাণ করার সাধ্য মানবিক বুদ্ধি বা জ্ঞানের কাজ নয়। এটা শুধু উপলব্ধির বিষয় ও গভীর বিশ্বাসের এক অগ্নিপরীক্ষা। যারা বিশ্বাস করে তারাই শুধু বলতে পারবে যে, বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহুদূর। ধর্মীয় ইতিহাসে খ্রীস্টিয় তত্ত্ব কথায় তিনটি বিপ্লবমুখী তত্ত্ব কথা বিশেষভাবে অনুধাবনযোগ্য; একটি হলো পবিত্র ত্রিত্ব, অন্যটি যীশু ঈশ্বর-পুত্র এবং তৃতীয়টি যীশুর ক্রুশ মৃত্যু ও পুনরুত্থান। এগুলো স্বাভাবিক ও জাগতিক বুদ্ধি দিয়ে হয়তো অনুধাবন করা সম্ভব নয়। আর সেই কারণেই প্রতিবছর আজকের দিনে আমাদের সামনে অবশ্যই প্রশ্ন আসে, ঈশ্বর কীভাবে তাঁর প্রিয়তম পবিত্র পুত্রকে ক্রুশের মর্মান্তিক মৃত্যু দিতে পারেন? আবার কিভাবে তিনি মৃত্যুর তৃতীয় দিবসে পুনরুত্থান করেন। যীশুর জন্ম যেমন কল্পনাতীত তেমনি তার মৃত্যু রহস্যও মানুষের জাগতিক ভাবনার ঊর্ধ্বে। তিনি সৃষ্টিকর্তা, ত্রাণকর্তা, মুক্তিদাতা-এ বিশ্বাস যদি আমাদের থাকে তবেই আমরা পরিত্রাণ পেতে পারি। অন্যথায় মানবিক জ্ঞানে ও বুদ্ধিতে যীশুর জন্ম ও মৃত্যু নিয়ে অনেক যুক্তিতর্ক ও আলোচনা করতে পারবো। কিন্তু ঈশ্বর পুত্রের এই রহস্যের কিনারা খুঁজে পাওয়া যাবে না। সুতরাং যীশু মানববেশে পৃথিবীতে এসে আমাদেরকে শিখিয়েছেন, কীভাবে জীবনযাপন করতে হবে, মানুষকে ভালবাসতে হবে। কিভাবে জগতের সকল সৃষ্টির সেবা করতে হবে। জীবন দিয়ে তিনি শিখিয়েছেন পৃথিবীতে মানব জীবন শেষ হয়ে যায়, কিন্তু আত্মিক জীবন চিরস্থায়ী। তিনি তার পুনরুত্থানের মাধ্যমে মানুষকে দেখিয়েছেন জাগতিক মৃত্যুই জীবনের শেষ নয়, এই মৃত্যু আত্মিক জীবনের বা নতুন স্বর্গীয় জীবনের শুরু। তিনি দেখিয়েছেন শরীর ও শারীরিক মৃত্যুর মধ্য দিয়ে অনন্তকালীন জীবনের শুরু। যীশু আমাদের নশ্বর মানব জীবনকে সেইভাবে অনন্তকালীন হবার পথ দেখিয়েছেন। পরিশেষে বলতে চাই, মানবজীবনের তিনটি ধাপ পরিষ্কারভাবে দেখা যায়; পাওয়ার ধাপ, হওয়ার ধাপ ও দেওয়ার ধাপ। যীশু তার জীবনের কোনকিছুই পাওয়ার বা হওয়ার জন্য করেননি। তিনি সমস্ত কিছুর ঊর্ধ্বে থেকে মানবজাতির জন্য নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন। সর্বশেষ নিজ জীবন দেয়ার মধ্য দিয়েই তিনি তাঁর পিতার ইচ্ছা পূর্ণ করেছেন এবং আমরা বলতে পারি মৃত্যুর মধ্য দিয়েই তিনি সবকিছু পেয়েছেন এবং হয়েছেন। সুতরাং আজকের দিনে আমাদের সকলের প্রতিজ্ঞা হোক, পাওয়া বা হওয়ার চেয়ে যেন আমরা দেয়ার মধ্যেই নিজেদের নিয়োজিত রাখি। শান্তি ও পরিপূর্ণতা লাভ করতে চেষ্টা করি। তবেই কেবল জীবনের পরিপূর্ণ স্বাদ পৃথিবীতে ও স্বর্গীয় জীবনে চিরকাল আস্বাদন করতে পারবো। লেখক: উন্নয়ন কর্মী; অ্যাডভোকেসি ডিরেক্টর, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ