এবার বোলারদের দাপট
প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০১৪, ২১:৫১
স্পোর্টস রিপোর্টার:আগের রাউন্ডেই জাতীয় ক্রিকেট লিগে রীতিমতো ব্যাটসম্যানদের সেঞ্চুরির মেলা বসেছিল। সপ্তম ও সর্বশেষ রাউন্ডে এসে আর তেমনটা ঘটলো না। বোলাররাই দেখালেন মূল দাপট। চারটি ভেন্যুর প্রতিটিতেই অল আউট হয়ে গেছে প্রথমে ব্যাট করতে নামা দল।
একই দিনে ১৭ উইকেট
রাজশাহী ও ঢাকা মেট্রোর মধ্যকার খেলায় প্রথম দিনই চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে উইকেট পড়েছে ১৭টি। সপ্তম আর শেষ রাউন্ডের ম্যাচে মিডিয়াম পেসার দেলোয়ার হোসেনের পাঁচ উইকেটের সৌজন্যে এগিয়ে আছে রাজশাহী।
গতকাল শনিবার টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ১২৬ রানে অলআউট হয়ে যায় ঢাকা মেট্রো। সর্বোচ্চ ৩০ রান আসে মার্শাল আইয়ুবের ব্যাট থেকে।
দশ নম্বর ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ শহীদ করেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২২ রান। আর নয় নম্বর ব্যাটসম্যান ইলিয়াস সানি অপরাজিত থাকেন ২০ রানে। এছাড়া দুই অঙ্কে পৌঁছান কেবল মেহরাব হোসেন জুনিয়র।
৪১ রানে ৫ উইকেট নিয়ে পেসার দেলোয়ার রাজশাহীর সেরা বোলার। ফরহাদ রেজা ২ উইকেট নেন ১৯ রানে। জবাবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় রাজশাহীও। সাব্বির রহমানের ৬৪ রানের সৌজন্যে দিন শেষে ৭ উইকেটে ১৩৯ রান করে দলটি।
অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ২২ ও রেজা ১২ রান করেন। আর কেউ দুই অঙ্কে পৌঁছাতে পারেননি। ২৪ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ঢাকা মেট্রোর সেরা বোলার শহীদ। আবু বকর সিদ্দিক ২ উইকেট নেন ৮ রানে।
কক্সবাজারে চালকের আসনে ঢাকা
জাতীয় ক্রিকেট লিগের শিরোপা প্রত্যাশী দল ঢাকা বিভাগ সপ্তম ও শেষ রাউন্ডের প্রথমদিনই চালকের আসনে বসেছে। খুলনার জিয়াউর রহমানের প্রতিরোধ ভেঙে শিরোপা পুনরুদ্ধারের পথে অনেকটাই এগিয়ে গেছে দলটি।
শনিবার কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও কমপ্লেক্সে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ২৪৩ রানে অলআউট হয়ে যায় গতবারের চ্যাম্পিয়ন খুলনা।
সর্বোচ্চ ৮০ রান আসে জিয়ার ব্যাট থেকে। তার ১০৯ বলের ইনিংসে ছিল ৮টি ছক্কা ও ৫টি চার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৩ রান আসে নিজামউদ্দিন রিপনের ব্যাট থেকে। ঢাকার পক্ষে মোহাম্মদ মাসুম ৩ উইকেট নেন ৬৯ রানে। শুভাগত হোম চৌধুরী ২ উইকেট নেন ৬ রানে।
জবাবে দিন শেষে আব্দুল মজিদের (৪২) উইকেট হারিয়ে ৭৫ রান তুলেছে ঢাকা। রনি তালুকদার ব্যাট করছেন ৩২ রানে।
সোহাগের ব্যাটিং তাণ্ডব
সোহাগ গাজীর ঝড়ো ব্যাটিংয়ে জাতীয় ক্রিকেট লিগের সপ্তম ও শেষ রাউন্ডে রংপুরের বিপক্ষে লড়াই করার মতো সংগ্রহ গড়েছে বরিশাল। গতকাল শনিবার ফতুল্লার আউটার স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ২৮৯ রানে অলআউট হয়ে যায় বরিশাল।
২৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে শুরুতেই চাপে পড়ে বরিশাল। ৬১ রানে চতুর্থ উইকেটের পতনের পর ক্রিজে আসেন সোহাগ।
পঞ্চম উইকেটে নুরুজ্জামানের (৪১) সঙ্গে ৫৯ ও শাহিন হোসেনের (৪৫) সঙ্গে ৫৭ রানের দুটি জুটি উপহার দিয়ে দলকে ৫ উইকেটে ১৯৭ রানের ভালো অবস্থানে নিয়ে আসেন তিনি।
তানভীর হায়দারের বলে সোহরাওয়ার্দী শুভর হাতে ধরা পড়ার আগে ৮৭ রানের আক্রমণাত্মক ইনিংস খেলেন তিনি। তার ৬৭ বলের ইনিংসে ছিল ৫টি ছক্কা ও ৬টি চার।
এরপর নয় নম্বর ব্যাটসম্যান কামরুল ইসলামের (৫২) হাফ সেঞ্চুরিতে তিনশ’ রানের কাছাকাছি পৌঁছায় বরিশালের সংগ্রহ।
রংপুরের পক্ষে সোহরাওয়ার্দী ৩ উইকেট নেন ৭৪ রানে। এছাড়া সাজিদুল ইসলাম, তানভীর ও মাহমুদুল হাসান দুটি করে উইকেট নেন। জবাবে দিন শেষে ২ উইকেটে ৮৯ রান করেছে রংপুর। আহত হয়ে মাঠ ছেড়েছেন মাহমুদুল। নাসির হোসেন ২৭ ও নাঈম ইসলাম ১ রানে ব্যাট করছেন।
সমানে-সমান লড়াই
সমানে-সমান লড়াই চলছে বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে। টস হেরে সিলেটের বিপক্ষে ব্যাট করতে নেমে ২১৩ রানে অলআউট হয়ে গেছে চট্টগ্রাম। জবাবে মাত্র ৭৫ রান করতেই তিন উইকেট হারিয়ে ফেলেছে সিলেট বিভাগ।
আব্দুল্লাহ আল মামুন (৪০) ও ইয়াসির আলী (২৭) চট্টগ্রামকে ১ উইকেটে ৭৯ রানের ভালো অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছিলেন। কিন্তু এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে দলটির স্কোর পরিণত হয় ছয় উইকেটে ৯৫।
দলীয় ১৪৪ রানে মুমিনুল হকের (৩৫) বিদায়ে বিপদ আরো বাড়ে চট্টগ্রামের। মোহাম্মদ ইয়াসিনের অপরাজিত ৬৪ রানের সুবাদে কোনোমতে দুইশ’ পার হয় তারা।
সিলেটের পক্ষে তিনটি করে উইকেট নেন আহমেদ সাদিকুর ও এনামুল হক জুনিয়র।
জবাবে স্বস্তিতে নেই সিলেটও। ৭৫ রান তুলতেই তিন উইকেট হারিয়েছে তারা। ‘নাইটওয়াচম্যান’ এনামুল ১৫ ও রাজিন সালেহ ৩ রানে ব্যাট করছেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ঢাকা মেট্রো-রাজশাহী বিভাগ
টস: রাজশাহী বিভাগ
ঢাকা মেট্রো প্রথম ইনিংস: ৩৭.১ ওভারে ১২৬ অল আউট ( মার্শাল আইয়ুব ৩০, শহীদ ২২, ইলিয়াস সানি ২০*, মেহরাব হোসেন জুনিয়র ১৬, আবু বক্কর সিদ্দিক ৯, আরমান হোসেন ৮, আসিফ আহমেদ রাতুল ৪; দেলওয়ার হোসেন ৫/৪১, ফরহাদ রেজা ২/১৯)
রাজশাহী বিভাগ প্রথম ইনিংস: ৪৪ ওভারে ১৩৯/৭ (সাব্বির রুম্মান, মুশফিকুর রহিম ২২, ফরহাদ রেজা ১২; শহীদ ৩/২৪, আবু বক্কর সিদ্দিক ২/৮)
খুলনা বিভাগ-ঢাকা বিভাগ
টস: খুলনা বিভাগ
খুলনা বিভাগ প্রথম ইনিংস: ৮১.৪ ওভারে ২৪৩ অল আউট (জিয়াউর রহমান ৮০, নিজামুদ্দিন রিপন ৪৩, ইমরুল কায়েস ৩৯, আব্দুর রাজ্জাক ৩২; মোহাম্মদ মাসুম ৩/৬৯, শুভাগত হোম ২/৬)
ঢাকা বিভাগ প্রথম ইনিংস: ১৭.৩ ওভারে ৭৫/১ (আব্দুল মজিদ ৪২, রনি তালুকদার ৩২*; নাহিদুল ইসলাম ১/১)
রংপুর বিভাগ-বরিশাল বিভাগ
টস: রংপুর বিভাগ
বরিশাল বিভাগ প্রথম ইনিংস: ৬৬ ওভারে ২৮৯ অল আউট (সোহাগ গাজী ৮৭, কামরুল ইসলাম ৫২, শাহীন হোসেন ৪৫, নুরুজ্জামান ৪১, ফজলে রাব্বি ২৪; সোহরাওয়ার্দী শুভ ৩/৭৪, মাহমুদুল হাসান ২/৬৭, তানভির হায়দার ২/৫৯, সাজিদুল ইসলাম ২/২২)
রংপুর বিভাগ প্রথম ইনিংস: ২২ ওভারে ৮৯/২ (তারিক আহমেদ ২৬, কল্যাণ আশীষ ২২, নাসির হোসেন ২৭*; সোহাগ গাজী ১/৪৫, মনির হোসেন ১/১২)
সিলেট বিভাগ-চট্টগ্রাম বিভাগ
টস: সিলেট বিভাগ
চট্টগ্রাম বিভাগ প্রথম ইনিংস: ৫৬.৪ ওভারে ২১৩ অল আউট (মোহাম্মদ শফিউদ্দিন ৬৪, আব্দুল্লাহ আল মামুন ৪০, মুমিনুল হক ৩৫, ইয়াসির আলী ২৭; এনামুল হক জুনিয়র ৩/৬৮; আহমেদ সাদিকুর ৩/৩৪, নাজমুল হোসেন ২/১০)
সিলেট বিভাগ প্রথম ইনিংস: ৩৩ ওভারে ৭৫/৩ (অলোক কাপালী ২৮, শানাজ ১৫, এনামুল হক জুনিয়র ১৫; আব্দুল্লাহ আল মামুন ১/৪, মোহাম্মদ শফিউদ্দিন ১/২০, ইউনুস ১/৩)