প্রজন্ম প্রত্যাশা
প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০১৪, ১৯:৩৮
আরবান প্ল্যানার
একজন উন্নয়ন পরিকল্পনাবিদ বা আরবান প্ল্যানার পরিকল্পনা প্রক্রিয়ায় বিভিন্নভাবে কাজ করে থাকেন; যেমন—আঞ্চলিক বিশ্লেষক, নীতিমালা বিশ্লেষক, পরামর্শক, কৌশল নির্ধারক, নীতি উদ্ভাবক, সমন্বয়ক, ব্যবস্থাপক এবং বাস্তবায়নকারী, এনিমেটর ও প্রভাবক এবং মূল্যায়নকারী ইত্যাদি ভূমিকায়। সর্বোপরি একটি শহর বা এলাকাকে কীভাবে ওই এলাকার মানুষের জন্য বসবাসের জন্য উপযুক্ত করে তোলা যায় তা নিয়েই কাজ করেন একজন নগরপরিকল্পনাবিদ। এই পেশায় সম্পৃক্ত কয়েকজন নগর পরিকল্পনাবিদ নিজেদের পেশাগত ক্ষেত্র নিয়ে জানিয়েছেন তাদের প্রত্যাশার কথা। অনুলিপি করেছেন আহসান রনি
===
তাসফিন আজিজ
কমিউনিটি ডেভেলপমেনট অ্যাসিস্ট্যান্ট, সিবিএসিসি-সিএফ প্রকল্প, ইউএনডিপি
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে নগর পরিকল্পনাবিদরা শহর ও গ্রামীণ অবকাঠামো, নাগরিক সুযোগ-সুবিধা, বাসযোগ্য পরিবেশ, প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনাসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখছেন। এই ধারায় ভবিষ্যতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সকল স্তরেই নগর পরিকল্পনাবিদরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় সম্পৃক্ত হবেন বলে আশা করেন তাসফিন আজিজ। সকল শহর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাগুলোতে নগর পরিকল্পনাবিদরা আরও বেশি সাফল্যের সাথে কাজ করবেন বলে প্রত্যাশা তার। তিনি মনে করেন নগর পরিকল্পনা পেশার জনমুখী দিকগুলোই এ পেশার বিস্তারে যথেষ্ট সহায়ক হবে। তবে এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা অনেক। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের আদলে পরিকল্পনা অলিম্পিয়াড শুরু করা অত্যন্ত জরুরি। তবে তিনি স্বপ্ন দেখেন, আগামীতে প্রতিটি শহর ও গ্রামে পরিকল্পনার ছোঁয়া থাকবে এমন একটি বাংলাদেশের।
===
সায়মা রহমান
প্রভাষক, আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল বিভাগ, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
ভূমি ব্যবস্থাপনা, আবাসন ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার সুষম সংস্থানের মাধ্যমে পরিকল্পিত বাংলাদেশ গড়ায় সক্রিয় ভূমিকা রাখার প্রত্যয় নিয়েই এই পেশায় যোগ দিচ্ছেন অনেকে। আগের তুলনায় অনেক ছাত্র-ছাত্রী এ বিষয়ে পড়াশোনা করে ক্যারিয়ার গড়ে তুলছেন। দেশের ভেতর অর্থনৈতিক অগ্রগতির সাথে সাথে প্ল্যানারদের চাহিদাও বাড়ছে। তবে প্ল্যানারদের কাজের সুযোগ এখনও আমাদের দেশে ততটা বিস্তৃত হয়নি। তাই সরকার প্ল্যানারদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ দিয়ে তাদের মেধা প্রয়োগের ক্ষেত্র তৈরি করবে বলে প্রত্যাশা করেন সায়মা রহমান। তার মতে, উপজেলা পর্যায়ে প্ল্যানার নিয়োগের বিষয়টি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকারের সচেষ্ট হওয়া জরুরি। প্ল্যানারদের জন্য স্বতন্ত্র বিসিএস পদ সৃষ্টির বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা উচিত। প্ল্যানিং পেশাটি একটি সম্ভবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে অচিরেই দেখা দেবে বলে প্রত্যাশা করেন এই শিক্ষক। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, কনসালটেন্সি ও রিয়েল এস্টেট ফার্মগুলোতে প্ল্যানারদের কাজ করার ক্ষেত্র তৈরি হবে বলে আশা করেন তিনি।