আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থী, দলীয় নেতাকর্মী এমনকি ভোটারদের মধ্যে সংশয় বিরাজ করছে। রাজনৈতিক দলগুলো একই আসনে একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়ায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল, জাতীয় পার্টির সঙ্গে গঠিত মহাজোটের আসন বণ্টন সমাপ্ত হয়নি। গতকাল বুধবার মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন পর্যন্ত প্রার্থিতা চূড়ান্ত না করতে পারায় একই আসনে একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন বহাল রয়েছে। ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একাধিক প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়নের চিঠি দেয়া হয়েছে।
পক্ষান্তরে বিএনপির নেতৃত্বধীন ২৩ দলীয় জোট, গণফোরাম, নাগরিক ঐক্য, জাসদ (রব) ৩০০ আসনে ৮৫০ জনকে মনোনয়নপত্র দাখিলের সুযোগ দিয়েছে।
আগামী ২ ডিসেম্বর যাচাই-বাছাই শেষ হওয়ার কথা। ৯ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। প্রত্যাহারের পর থেকে একজন প্রার্থী ১৯ দিন প্রচারণার সুযোগ পাবেন।
রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে কৌশলগত কারণে তারা একই আসনে একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন দাখিলের সুযোগ দিচ্ছেন। ঋণ সংক্রান্ত জটিলতা, মামলা মোকদ্দমা, দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়া, আঞ্চলিক পরিবেশ পরিস্থিতি বিবেচনা করে একাধিক প্রার্থী রাখার কথা বলা হচ্ছে। তবে এ মুহূর্তে দলীয় কর্মী সমর্থক ভোটাররা পড়েছেন সংশয়ে। শেষ পর্যন্ত কে চূড়ান্ত প্রার্থী হবেন তারা এখন কি করবেন, কার পিছনে যাবেন ইত্যাদি সংশয়ে তারা প্রচার প্রচারণাও চালাতে পারছেন না। যদিও প্রতীক বরাদ্দের আগে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা নিষিদ্ধ। তবে সব থেকে বেশি স্নায়ুচাপ ও সংশয়ে আছেন প্রার্থীরা। ৯ তারিখ প্রত্যাহারের দিন তাদের জানতে হবে প্রকৃতপক্ষে কে হবেন দলীয় প্রার্থী। এর মধ্যে একই দলের বা জোটের প্রার্থীদের মধ্যে যে কোন্দল শুরু হয়েছে তা নতুন মাত্রা নিচ্ছে। যদিও স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থিতা ঠেকাতে রাজনৈতিক দলগুলো এমন কৌশল নিয়ে থাকতে পারে বলে বিশ্লেষকরা বলছেন। কিন্তু একাধিক প্রার্থীকে সুযোগ দিয়ে তা আবার কেড়ে নেয়ার ফলশ্রুতিতে সৃষ্ট কোন্দল সামাল দেয়াও কঠিন হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এমন সব সাংগঠনিক ও সাধারণের কাছে জনপ্রিয় দলীয় ব্যক্তিদের বাদ দেয়ায় ইতোমধ্যে ক্ষোভ বিক্ষোভ শুরু হয়ে গেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে একক প্রার্থিতা ঘোষণার পর এ ক্ষোভ রাজপথে আরও বেশি ছড়াবে।
নিয়ম অনুযায়ী স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করতে হলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন ও স্বাক্ষর সংবলিত চিঠি মনোনয়নপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হয়। এ ছাড়া মনোনয়নপত্রে প্রার্থীর ধরন উল্লেখ করে যে ছক রয়েছে সেখানে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় উল্লেখ করতে হয় স্বতন্ত্র না দলীয়। এখন চিঠি প্রাপ্ত সকল প্রার্থীকেই প্রার্থীর ধরন দলীয় উল্লেখ করতে হচ্ছে। ফলে আগামী ২ ডিসেম্বরের মধ্যে একক প্রার্থী নির্ধারণ না করলে এবং দল থেকে একজনের পক্ষে প্রত্যয়ন না করলে সে ক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তা কারটা রাখবেন আর কারটা বাদ দেবেন সে নিয়ে সমস্যায় পড়বেন। যদি প্রত্যাহারের দিনেও প্রার্থী চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হয় তবে একজন ছাড়া বাকিদের প্রার্থিতার সুযোগ হারাতে হবে। এমনকি তারা তখন স্বতন্ত্রভাবেও নির্বাচন করতে পারবেন না। কারণ আলোচ্য শর্তে তারা আটকা পড়বেন।
অতীতে কোনো নির্বাচনকালে এমন পরিস্থিতি দেখা যায়নি। এটি সম্পূর্ণ এক নতুন পরিস্থিতি দেশের নির্বাচনকে ঘিরে তৈরি হয়েছে। এখন দেখার অপেক্ষা নির্বাচন কমিশন ও দলগুলো কিভাবে এ পরিস্থিতি সামাল দেন।