চ্যাম্পিয়ন হলো ঢাকা বিভাগ

কাগজে-কলমে সামান্য একটা সম্ভাবনা ছিল রাজশাহী বিভাগের। কিন্তু মাত্র এক রাউন্ডে ২১ পয়েন্টের ব্যবধান ঘোচানো তো আর চাট্টিখানি কথা নয়। অসাধ্য সেই কাজটি করতেও পারেনি রাজশাহী। বরং গতকাল রবিবার দ্বিতীয় দিনেই পাঁচটি বোনাস পয়েন্ট নিয়ে কাজটাকে অসম্ভব করে দিয়েছে নূরুল হাসানের সেঞ্চুরিতে বলীয়ন ঢাকা বিভাগ। আর তাই সপ্তম ও শেষ রাউন্ডের খেলায় আরও দুদিন বাকি থাকতেই জাতীয় ক্রিকেট লিগের পঞ্চম আসরের অঘোষিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেছে ঢাকা। কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে গতবারের চ্যাম্পিয়ন খুলনার বিপক্ষে দ্বিতীয় দিনে দারুণ এক সেঞ্চুরি করে ঢাকাকে এগিয়ে দেন নূরুল হাসান। এখানে ঢাকা পায় এক পয়েন্ট। আগে প্রথম ইনিংসে অল আউট করে পায় তিন পয়েন্ট। আর প্রথম ইনিংসে আড়াইশ ছাড়ানোর পর আরও এক পয়েন্ট নিশ্চিত হয় তাদের। সব মিলিয়ে তাই চ্যাম্পিয়ন হবার পথে আর কোন বাধা নেই দলটির সামনে। ষষ্ঠ রাউন্ড শেষে ১১১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকা নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রাজশাহীর চেয়ে ২১ পয়েন্টে এগিয়ে ছিল ঢাকা। পাঁচটি বোনাস পয়েন্ট নিশ্চিত হওয়ায় ১১৭ পয়েন্ট হয়ে গেছে তাদের। আর জয় ও বোনাস পয়েন্ট মিলিয়েও রাজশাহী বিভাগের পক্ষে এই পয়েন্টে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তাই শেষ রাউন্ডের ফলাফল যাই হোক না কেন শিরোপা উঠতে যাচ্ছে ঢাকার হাতেই। ঢাকা ১ উইকেটে ৭৫ রান নিয়ে গতকাল রবিবার দিনের খেলা শুরু করে। খুলনার অধিনায়ক আব্দুর রাজ্জাকের স্পিনে মাত্র ৯৬ রানেই প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে ভীষণ বিপদে পড়ে ঢাকা। সেখান থেকে দলকে ২৫২ রান পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার কৃতিত্ব নূরুল হাসানের। ১০১ রান করা নূরুলের ১৪৫ বলের ইনিংসে ছিল ৮টি চার ও ৪টি ছক্কা। ২৩৯ রানে হাসানের বিদায়ের পর দলকে এগিয়ে দেয়া আর সংগ্রহ আড়াইশ’ পার করার কৃতিত্ব শেষ দুই ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ মাসুম (৬) ও নাজমুল অপুর (অপরাজিত ৯)। খুলনার সেরা বোলার রাজ্জাক ৬ উইকেট নেন ১০১ রানে। জবাবে দ্বিতীয় দিন শেষে ৩ উইকেটে ৯৪ রান করে খুলনা। ৩৮ রান করে বিদায় নেন ইমরুল কায়েস। এনামুল ব্যাট করেছেন ৩৬ রানে। ঢাকার পক্ষে শুভাগত হোম চৌধুরী ২ উইকেট নেন ৮ রানে। ঘুরে দাঁড়িয়েছে ঢাকা মেট্রো শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি ঢাকা মেট্রোর। রাজশাহীর বিপক্ষে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ১২৬ রানে আটকে যায় তারা। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ঢাকা মেট্রো। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেটে ২৫৩ রান সংগ্রহ করেছে তারা। ৫ উইকেট হাতে রেখে ১৭২ রানের লিড নিয়েছে ঢাকা মেট্রো। এর আগে প্রথম ইনিংসে রাজশাহী বিভাগ মাত্র ২০৭ রানে আটকে যায়। এগিয়ে যায় ৯১ রানের। চাপে থাকা ঢাকা মেট্রোকে ম্যাচে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন সাদমান ইসলাম ও সৈকত আলী। এই দুই ওপেনার উদ্বোধনী জুটিতেই ১৬৫ রান জমা করে। সাদমান ৮৫ রানে ফিরে যাবার আগে ডানহাতি সৈকত ৯৪ রানে রিটায়ার্ড হার্ট হন। এরপর দ্রুত ৪ উইকেট হারায় ঢাকা মেট্রো। মার্শাল (২), মেহরাব (৫) ও আল-আমিন (৩) আউট হয়ে ফিরে যান। একপ্রান্ত ধরে খেলে আসিফ আহমেদ রাতুল ৫২ রান করে দিনের শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন। ৭৭ বলে ৫ চার ও এক ছয়ে এ রান করেন আসিফ। তার সাথে রয়েছেন আবু বকর সিদ্দিক (১)। চালকের আসনে চট্টগ্রাম বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে চালকের আসনে চলে এসেছে চট্টগ্রাম বিভাগ। দ্বিতীয় দিন শেষে সিলেট বিভাগের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৭৫ রানের লিড নিয়েছে চট্টগ্রাম। শনিবার প্রথম দিন টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ২১৩ রানে আটকে যায় চট্টগ্রাম। জবাবে সিলেট বিভাগ ১৯০ অলআউট হয়ে যায়। ২৩ রানের লিডসহ বোনাস পয়েন্টও পায় চট্টগ্রাম। সিলেটের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৯ রান করেন রাজিন সালেহ। এছাড়া অধিনায়ক অলোক কাপালী ২৮ ও এনামুল হক জুনিয়র ২৩ রান করেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে গতকাল রবিবার দ্বিতীয় দিন শেষে ৩ উইকেটে ১৫২ রান তুলে নেয় চট্টগ্রাম। ওপেনার নাজিমউদ্দিন সর্বোচ্চ ৬৮ রান করেন। এছাড়া মুমিনুল হক ৫৩ রান করে অপরাজিত আছেন। সাজঘরে ফিরেছেন ইরফান শুকর (২৪) ও ইয়াসির আলী (০)। চট্টগ্রামের তিনটি উইকেটই নিয়েছেন আহমেদ সাদিকুর। রংপুরকে এগিয়ে দিলেন ধীমান বরিশালের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে লিড নিয়েছে রংপুর। ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী বরিশালের বিপক্ষে পাঁচ উইকেট হাতে নিয়ে ৫৭ রানের লিড নিয়েছে রংপুর। রংপুরের হয়ে সেঞ্চুরি দলকে বড় সংগ্রহ এনে দেন উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান ধীমান ঘোষ। ১৪৯ রান করেছেন তিনি। এজন্য ২৫৬ বলে ২০টি চার ও একটি ছক্কায় ইনিংসটি সাজান ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। ধীমান ছাড়াও নাঈম ইসলাম করেন ৬০ রান। এই দুই ব্যাটসম্যানের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দ্বিতীয় দিন শেষে রংপুরের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ৩৪৬ রান। ৫৭ রানের লিড নিয়েছে তারা। ৩২ রানে ক্রিজে অপরাজিত আছেন তানভির হায়দার খান। এর আগে প্রথম দিন টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ২৮৯ রান সংগ্রহ করে বরিশাল।