চাকরি খোয়ানোকে ভয় পান না শেখ রাসেলের নতুন কোচ

শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের নতুন কোচ দ্রাগান ডুকোনোভিচ জানিয়েছেন যে কোনো সময় বিদায় নিতে হতে পারে, এমন ভাবনাতেই ফুটবল দলের দায়িত্ব নিয়ে ঢাকায় এসেছেন তিনি। কোচ মারুফুল হককে বিদায় দিয়ে গতবারের ট্রেবল জয়ী ক্লাবটি বলকান অঞ্চলের দেশ মন্টেনেগ্রো থেকে তাকে নিয়ে এসেছেন। তবে তিনি যে কোনো সময় চাকরিচ্যুত হতে পারেন এমনটা মাথায় নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। গতকাল বুয়েট মাঠে অনুশীলন চলাকালে তিনি বলেন, ‘আমি জানি না পারলে বাদ দেবে। যে ভাবে মারুফ গেছেন আমিও সেভাবেই বিদায় নিতে পারি। এটাই ফুটবলের নিয়ম। আমিও প্রস্তুত আছি বিদায় নেয়ার জন্য। কারণ ফুটবলে এটাই তো হয়। চাকরি হারানোর ভয় পাই না আমি। সার্বিয়াতে প্রথম বিভাগ ফুটবল ক্লাবের কোচ ছিলেন তিনি। ১৮ ক্লাবের মধ্যে ৬ নম্বরে আছে তার দল সিনজেলিক ফুটবল ক্লাব। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ১০ পয়েন্ট ব্যবধান শীর্ষ দলের চেয়ে। এ কারণেই সেখানকার ক্লাব কর্মকর্তারা দ্রাগনকে বিদায় করে দিয়েছেন। বাংলাদেশ থেকে আমন্ত্রণ পাওয়া কর্মহীন দ্রাগন তাই দেরি করেননি। শেখ রাসেলের পক্ষ থেকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বলা হলে তিনি দুই মাসের চুক্তিতে ঢাকায় এসেছেন। দ্রাগন কাল বলছিলেন, আসলে সেখানে (সার্বিয়ায়) আমার কিছু করার ছিল না। কারণ আমার দলের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কোনো সুযোগই নেই। ক্লাবের সাথে কথা বলেই ঢাকায় এসেছি।’ শেখ রাসেল ট্রেবল জয়ী দল। এই দলকে চ্যাম্পিয়ন করানোর সুযোগ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ক্লাব সভাপতি একটা পরিবর্তন আনতে চেয়েছেন। এজন্য আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন তিনি। আমি তো অন্যান্য দল সম্পর্কে জানি না। শেখ জামালের নাম শুনেছি। এই পর্যন্তই। তারপরও আমি চ্যালেঞ্জ নিয়ে ভালো কিছু করার জন্য ঢাকায় এসেছি।’ তিন পর্বের লিগের প্রথমটি শেষ। দ্বিতীয় পর্বের এক ম্যাচ গেছে। শেখ রাসেল আজ দ্বিতীয় ম্যাচে চট্টগ্রাম আবাহনীর বিরুদ্ধে খেলবে। দ্রাগানের জন্য নতুন পরীক্ষা আজ থেকে শুরু হবে। মাত্র দুই দিন হলো দায়িত্ব নিয়েছেন। অনুশীলন করিয়েছেন। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে দলকে চেনা যায় না, জানিয়েছেন কোচ। বলেছেন, সময় লাগবে। আর কোচিং ক্যারিয়ারের লক্ষ্য হচ্ছে জয়। দুই সেশনে খেলোয়ারদের কেমন দেখলেন? নতুন কোচের জবাব-‘অল্প ট্রেনিং দেখে বিশেষ কিছু বের করা যায় না। তবে মনে হচ্ছে খেলোয়াড়দের মধ্যে আত্মবিশ্বাসটা কম। আমি ওদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে চাই। উজ্জীবিত করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমি একা সব করতে পারবো না। খেলোয়াড় কর্মকর্তা সবাই মিলেই ভালো কিছু করতে হবে।’ এই কোচকে দেখলে বুঝার উপায় নেই তার বয়স ৪৪। চুল দাড়ি গোফ সবই সাদা। এটা নিশ্চিত প্রথম দেখায় মনে হবে বয়সটা ৬০ পেরিয়ে গেছে। কিন্তু কোচ বলছেন, ‘আমার বয়স ৪৪। আমি ১৯৬৯ সালে জন্মেছি। কাজের চাপে চুল দাড়ি সাদা হয়ে গেছে।’ বললেন, তিনি জাতীয় দলে খেলেননি। ৮২ সালে চিলিতে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ ফুটবলে খেলেছেন, চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন সাবেক যুগোস্লাভিয়ার হয়ে। খেলেছেন অনূর্ধ্ব-২১ ফুটবল দলে। আক্রমণভাগের এই সাবেক খেলোয়াড় জানিয়েছেন তার ক্যারিয়ারে গোলের সংখ্যা ১৮৬। খেলেছেন এশিয়া ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশের ফুটবল লিগে, ‘আমি গ্রীস, সাইপ্রাস, পর্তুগাল, সুইডেন, ফ্রান্স এবং জাপানে খেলেছি। আর কোচ হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছি মন্টিনেগ্রোর মগরেন ফুটবল ক্লাব (২০০৩-০৬), সার্বিয়ান ওএফকে বেলগ্রেড (২০০৬-১০) এবং একই জায়গার সিনডেলিক ফুটবল ক্লাবের (২০১০-১৩) পর্যন্ত।’ তিনটি দলই প্রিমিয়ার লিগের বলে জানিয়েছেন তিনি।