ইতিহাসের হাতছানি সিমিওনে-মরিনহোর
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০১৪, ২১:৫৫
একজন নিজের ফুটবল দর্শন বোঝাতে গিয়ে বলেন, ‘আমি এমন ফুটবল পছন্দ করি যা কোন ফলাফল প্রসব করবে। এমন ফুটবল নয় যে মানুষ খেলা দেখে বলবে, আর কতক্ষণ বল নিজেদের পায়ে রাখবে তোমরা? কখন আক্রমণে যাবে?’ আর অন্যজন বলেন, ‘আমরা নিজেদের প্রতিপক্ষের কাছে একটা বিরক্ত উত্পাদক দল হিসাবে উপস্থাপন করতে চাই। যেন আমাদের সাথে কেউ পেরে না ওঠে।’ বোঝাই যাচ্ছে ফুটবল দর্শনের দিক থেকে খুব একটা পার্থক্য নেই হোসে মরিনহো এবং দিয়েগো সিমিওনের মধ্যে। দুজনের কাছে ফলাফলটাই মুখ্য, ফুটবল সৌন্দর্য নয়। তবে আজ ভিসেন্তে ক্যালদেরনে চেলসি-অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালে যিনিই জিতবেন, ইতিহাসের অংশ হবার দিকে আরেক ধাপ এগিয়ে যাবেন তিনিই।
পোর্তোকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিতিয়ে শীর্ষ কোচদের তালিকায় নিজের নাম লেখান মরিনহো। এরপর চেলসিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতাতে না পারলেও ইউরোপিয়ান ক্লাব শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে মরিনহোর দ্বিতীয় সাফল্যটি আসে ইন্টার মিলানের কোচ হিসাবে। যদি এবার চেলসিকে শিরোপা জেতাতে পারেন, তাহলে মরিনহো হবেন তিনটি ভিন্ন ক্লাবের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা প্রথম কোচ।
ইতিহাস গড়ার হাতছানি থাকছে সিমিওনের সামনেও। লিগে অ্যাটলেটিকোর সর্বশেষ বড় সাফল্যের সময়ে ছিলেন ক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এবার তার হাত ধরেই গত ৪০ বছরে নিজেদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সাফল্যটি পেল অ্যাটলেটিকো। শেষ আটে বার্সেলোনাকে হারিয়ে ১৯৭৪ সালের পর প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে পা রাখে রিয়াল মাদ্রিদের ছায়ায় অনেক বছর আলোচনার বাইরেই থেকে যাওয়া স্প্যানিশ রাজধানীর অন্য দলটি।
সে হিসাবে বলা যায়, ক্লাবের ইতিহাসে নিজের নামটি এরই মধ্যে চিরস্থায়ী করে ফেলেছেন সিমিওনে। তবে বার্সেলোনাকে হারাবার পর পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, এখানেই থামতে চান না তিনি।