রানা প্লাজা থেকে
শিক্ষা নিন
প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০১৪, ২১:৫৬
রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি থেকে সরকারকে শিক্ষা নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সংসদ সদস্য শিরিন আক্তার। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ শ্রম অধিকার ফোরাম আয়োজিত ‘রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির এক বছর গার্মেন্টস শ্রমিকদের কাজ, নিরাপত্তা, ক্ষতিপূরণ এবং আজকের বাস্তবতা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
শিরিন আক্তার বলেন, পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের কর্মরত অবস্থায় যে কোনো প্রকার ক্ষতি হলে এর দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে। পাশাপাশি এর দায়ভার ট্রেড ইউনিয়নসহ অন্যান্য সংগঠনের ওপরও বর্তায়।
রানা প্লাজায় কাজ করতে গিয়ে যারা নিহত ও আহত হয়েছেন অতি দ্রুত তাদের ক্ষতিপূরণসহ পুনর্বাসন নিশ্চিত করারও দাবি জানান।
অর্থনীতিবিদ ড. প্রতিমা পাল মজুমদার বলেন, রানা প্লাজার ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজ-খবরও রাখছেন না কেউ। অথচ রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির এক বছর পূর্ণ হতে চলেছে। ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা সঠিক সহায়তা পাচ্ছেন না। সরকার ও গার্মেন্টস মালিকরা তাদের যথাযথ খোঁজখবরও রাখছেন না।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ড.বিনায়েক সেন বলেন, সারাদেশে ৪৪ লাখ গার্মেন্টস শ্রমিক নিয়োজিত। চীনের পর গার্মেন্টস শিল্পে বাংলাদেশের স্থান দ্বিতীয়। তিনি বলেন, পোশাক শ্রমিকরা মাত্র ৫ হাজার ৩ শত টাকা বেতন পাচ্ছেন। যা নিতান্তই বেদনাদায়ক। তিনি অবিলম্বে গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন ভাতা বৃদ্ধির দাবি জানান।
নারী শ্রমিক বিষয়ক গবেষক ড.বিনা শিকদার বলেন, গার্মেন্টস ধসে পড়া বা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আহত বা নিহত প্রতিটি শ্রমিককে তাদের ন্যায্য পাওনা সরকারকেই পরিশোধ করতে হবে। তিনি রানা প্লাজার নিখোঁজ প্রতিটি শ্রমিককে নিহত হিসাবে ঘোষণার দাবি জানান। পঙ্গু, আহত, নিহত কিংবা নিখোঁদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান তিনি।
সংগঠনের আহ্বায়ক আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তব্য রাখেন, শ্রম অধিকার ফোরামের সদস্য সচিব জাকির হোসেন, ওমানা, লাভলী ইয়াসমিন, রানা প্লাজার আহত শ্রমিক শাহিন আহমেদ প্রমুখ।