মজিদ-রাতুলদের আলোয় উজ্জ্বল লিগ
প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০১৪, ২২:০৯
জাতীয় দলের সব ক্রিকেটার মিলে এনামুল হক বিজয় ও মুমিনুল হককে একটা ধন্যবাদ দিতে পারেন। ১৫তম জাতীয় ক্রিকেট লিগের শেষ রাউন্ডে এসে এই দু’জন সেঞ্চুরি করায় মান বেঁচেছে জাতীয় দলের। নইলে প্রাপ্তির খাতায় একেবারে শূন্য নিয়েই লিগ শেষ করতে হত জাতীয় তারকাদের!
গতকাল শেষ হওয়া লিগে জাতীয় দলের তারকারা এমনিতেই বেশি ম্যাচ খেলতে পারেননি। টানা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ফলে দেশের পুরনো এই প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে মাঠে নামারই সুযোগ পাননি খুব একটা। তারপরও যে অল্প কয়েকটি করে ম্যাচ খেলেছেন, তাতেও বড় হতাশাজনক পারফরম্যান্স জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের। এনামুল ও মুমিনুলের কথা বাদ দিলে জাতীয় দলের তারকাদের মধ্যে জিয়াউর রহমান ও মার্শাল আইয়ুবই শুধুমাত্র নজর কাড়ার মতো পারফরম্যান্স করতে পেরেছেন।
তবে তারকাদের এই নিষ্প্রভতা জাতীয় লিগকে আলো বঞ্চিত করতে পারেনি। এদের অনুপস্থিতি ও বাজে পারফরম্যান্স পুষিয়ে দিয়ে লিগ জুড়ে আলো ছড়িয়েছেন তরুণরা। ব্যাট হাতে আব্দুল মজিদ, আসিফ আহমেদ রাতুল, রনি তালুকদাররা উজ্জ্বল ছিলেন। আবার অভিজ্ঞ তুষার ইমরান, ফরহাদ রেজারা দারুণ পারফরম করেছেন। বল হাতে মনির হোসেন, নাজমুল অপুরা যেমন আলো ছড়িয়েছেন; তেমনই এনামুল হক জুনিয়র বা সোহরাওয়ার্দী শুভরাও নামের প্রতি সুবিচার করেছেন। এবার লিগকে ব্যাটসম্যানদের পারফরম্যান্সের দিক থেকে দুটো পরিষ্কার ভাগে ভাগ করে ফেলা যায়। অনেক বিলম্বে শুরু হওয়া লিগের প্রথম অংশে ব্যাটসম্যানদের তুখোড় দাপট ছিল। এই সময়ে আসিফ আহমেদ রাতুল ও তাইয়াবুর পারভেজের দুটো ডাবল সেঞ্চুরি এবং আব্দুল মজিদ ও মার্শাল আইয়ুবের প্রায় ডাবল সেঞ্চুরির ইনিংস দেখেছে জাতীয় লিগ। পরের দিকে সে তুলনায় ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স খুব কমে গিয়েছিল। এই শেষ পর্বে এসে ফরহাদ রেজার মৌসুমের সেরা ২৫৯ রানের ইনিংস এবং এনামুল হক বিজয়ের আদ্যোপান্ত ব্যাটিং ছাড়া খুব বেশি বলার মতো কিছু ছিল না।
শুধু ডাবল সেঞ্চুরির বিবেচনায় মৌসুমটা হয়েছে মনে রাখার মতো। তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি হয়েছে। এর মধ্যে আসিফ আহমেদ রাতুল ২০০ রানের অসামান্য ইনিংস খেলে আবার প্রবল প্রতাপে ফর্মে ফিরে এসেছেন।
বোলিংয়ে আব্দুর রাজ্জাক শেষ দু’রাউন্ড খেলতে নেমে আবার নিজের রেকর্ড ছোঁয়া ইনিংসে ৯ উইকেট নিয়ে জাতীয় দলের মান বাঁচিয়েছেন। কিন্তু আল আমিন, সোহাগ গাজী, রবিউলরা সেভাবে প্রভাব ফেলতে পারেননি। এখানে শ্রেষ্ঠত্বটা ছিল মনির ও নাজমুল অপুর হাতে।
জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সবচেয়ে ভালো পারফরম্যান্স নিশ্চয়ই জিয়াউর রহমানের ৮ ম্যাচে ৬২.০০ গড়ে ৪৩৪ রান করেছেন। ‘টেস্ট ক্রিকেটার’ মার্শালও ৮ ম্যাচে ৪১২ রান করে ভালোই আলো ছড়িয়েছেন। এর বাইরে মাত্র ৪ ম্যাচে ২৮২ রান করা মুমিনুল, ২টি করে ম্যাচ খেলে যথাক্রমে ১০৯ ও ১৪৮ রান করা সোহাগকেও কৃতিত্ব দিতে হবে। তবে একেবারেই হতাশ করেছেন ১টি ম্যাচ খেলে ২ রান করা তামিম বা ৪ ম্যাচ খেলে ৯৭ রান করা মুশফিক।
ব্যাট হাতে আব্দুল মজিদ, আসিফ আহমেদ রাতুল, রনি তালুকদাররা উজ্জ্বল ছিলেন। আবার অভিজ্ঞ তুষার ইমরান, ফরহাদ রেজারা দারুণ পারফরম করেছেন। বল হাতে মনির হোসেন, নাজমুল অপুরা যেমন আলো ছড়িয়েছেন; তেমনই এনামুল হক জুনিয়র বা সোহরাওয়ার্দী শুভরাও নামের প্রতি সুবিচার করেছেন।
সেরা দশ ব্যাটসম্যান
ব্যাটসম্যান ইনিংস রান দল গড় সর্বোচ্চ ১০০/৫০
আব্দুল মজিদ ১৩ ৬৯০ ঢাকা ৬৯.০০ ১৮২ ২/২
আসিফ আহমেদ ১৪ ৬১৪ ঢাকা মেট. ৪৭.২৩ ২০০ ১/৩
তুষার ইমরান ১২ ৫৪৫ খুলনা ৫৪.৫০ ১২৯ ২/৪
রনি তালুকদার ১৩ ৫০০ ঢাকা ৫০.০০ ১০৩ ১/২
নুরুল হাসান ১০ ৪৮৯ ঢাকা ৮১.৫০ ১০৯* ২/২
শুভাগত হোম ১০ ৪৭৮ ঢাকা ৪৭.৮০ ১৬৫ ২/১
সায়েম আলম ১৪ ৪৭৫ সিলেট ৩৯.৫৮ ১৩৩ ১/১
তাইয়ায়ুর পারভেজ ১১ ৪৫০ ঢাকা ৪০.৯১ ২০৭ ২/০
ফরহাদ রেজা ৮ ৪৪৬ রাজশাহী ৬৫.৪০ - ১/১
সৈকত আলী ১৪ ৪৪৫ ঢাকা মেট. ৫৯.৬৫ ৯৭ ০/৪
রোল অব অনার
সাল দল
১৯৯৯-০০ চট্টগ্রাম
২০০০-০১ বিমান বাংলাদেশ
২০০১-০২ ঢাকা
২০০২-০৩ খুলনা
২০০৩-০৪ ঢাকা
২০০৪-০৫ ঢাকা
২০০৫-০৬ রাজশাহী
২০০৬-০৭ ঢাকা
২০০৭-০৮ খুলনা
২০০৮-০৯ রাজশাহী
২০০৯-১০ রাজশাহী
২০১০-১১ রাজশাহী
২০১১-১২ রাজশাহী
২০১২-১৩ খুলনা
২০১৩-১৪ ঢাকা
সেরা দশ বোলার
বোলার ম্যাচ উইকেট দল গড় সেরা ৫ উ.
মনির হোসেন ৭ ৩৩ বরিশাল ২৬.৪৮ ৬/২৭ ২
নাজমুল অপু ৬ ৩১ ঢাকা ১৯.২৯ ৫/২১ ২
এনাম জুনিয়র ৬ ২৭ সিলেট ৩১.৪৪ ৫/৮৫ ১
সোহরাওয়ার্দী শুভ ৭ ২৬ রংপুর ২৬.৫০ ৫/৫৮ ১
নাবিল সামাদ ৬ ২৪ সিলেট ৩০.১৭ ৫/৮৫ ১
সাজিদুল ইসলাম ৭ ২৩ রংপুর ১৮.০৯ ৫/২৪ ১
আবু জায়েদ ৬ ২৩ সিলেট ২৪.২২ ৫/৫৮ ১
নূর হোসেন ৫ ২১ ঢাকা ২৮.১৯ ৪/৩৮ ১
আব্দুর রাজ্জাক ২ ২০ খুলনা ১৬.৭৫ ৯/৯১ ২
শরীফ ৬ ২০ ঢাকা ২৩.৭৫ ৬/৮৩ ১
ওয়াল্টন ১৫তম জাতীয় ক্রিকেট লিগ
পয়েন্ট টেবিল
দল ম্যাচ জয় পরাজয় ড্র মোট পয়েন্ট রানরেট
ঢাকা বিভাগ ৭ ৫ ১ ১ ১৩৩.০০ ০.৯৫২
রাজশাহী বিভাগ ৭ ৪ ০ ৩ ১১১.০০ ১.৯৮৯
রংপুর বিভাগ ৭ ৩ ১ ৩ ৯২.০০ -২.৫৯৮
খুলনা বিভাগ ৭ ২ ১ ৪ ৮৪.০০ -০.৯৫৯
সিলেট বিভাগ ৭ ২ ৪ ১ ৬৭.০০ -১.৯৫২
চট্টগ্রাম বিভাগ ৭ ২ ৩ ২ ৬৪.০০ ০.৬২০
ঢাকা মেট্রো ৭ ১ ৪ ২ ৬০.০০ ২.৩৮৭
বরিশাল বিভাগ ৭ ০ ৫ ২ ৩১.০০ -০.৪৩৯