সুস্থ রাজনীতি ও শক্তিশালী গণতন্ত্র

সুস্থ রাজনীতির ধারাই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে। সুস্থ রাজনীতিতে পারস্পরিক সমপ্রীতি ও সহমর্মিতা আবশ্যক। রাজনৈতিক পক্ষ-প্রতিপক্ষ আছে, মতের ও পথের ভিন্নতাও আছে কিন্তু তাই বলে প্রতিপক্ষকে সবকিছু চাপিয়ে দেয়া কখনোই সঠিক নয়। এখন প্রশ্ন সুস্থ রাজনীতি কী? কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি, পরশ্রীকাতরতা, আক্রমণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কথা বলা কোনোটাই সুস্থ রাজনীতির মধ্যে পড়ে না। আর নিঃসন্দেহে এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে গণতন্ত্র। গণতন্ত্র অবশ্যই স্বেচ্ছাচারিতা নয়। যা খুশি তাই করা নয়। গণতন্ত্র একটি ব্যাপক বিষয়। কার্যত তার চর্চার ভেতর দিয়েই তা বিকশিত হয়। সমাজের সর্বত্র তার সুফল লক্ষণীয় হয়ে ওঠে। জনগণের জন্য শাসন-আইন-বিচার— তাই গণতন্ত্রের শর্ত। একমাত্র সুস্থ রাজনীতির চর্চাই তার লালন-পালন করতে পারে। করে তুলতে পারে শক্তিশালী ও সুদৃঢ়। গণতন্ত্রের চর্চায় এসব হয়তো পুরনো কথা কিন্তু তার প্রয়োগ ও কার্যকারিতা কী আদৌ আমাদের চোখে পড়ে! আমাদের দেশে গণতন্ত্র চলছে, সংবিধানমাফিক সরকার আছে কিন্তু গণতন্ত্রের ভিত্তি কী সবল? হ্যাঁ, সবল না হলেও সে এখনও সাবালকত্ব পায়নি। কিন্তু কাজ চলছে। নানাভাবে তার ক্রমবৃদ্ধিও ঘটে চলছে। যেমন সমপ্রতি কয়েক দফায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। জনগণের অংশগ্রহণ তাতে ছিল। দেশে এখনও এ নির্বাচন শেষ হয়নি। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা মাফিক আগামী ১৯ মে চতুর্থ দফা উপজেলা নির্বাচন সম্পন্ন হবে। বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষ এ নির্বাচন নিয়ে এখনও নানামাফিক মন্তব্য করে চলছে। বিভিন্ন জায়গায় তারা আঞ্চলিক হরতাল হরহামেশা করছে। তা যেমনই হোক, উপজেলা পর্যায়ে এ নির্বাচনটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। গণতন্ত্রের পথে এটি একটি দৃশ্যমান পদক্ষেপ। যা হোক, গত জানুয়ারির নির্বাচনের পর সরকার চলছে, স্বাভাবিকভাবে সংসদও বসেছে, জাতীয় অনুষ্ঠানসমূহ পালন হচ্ছে, বিদেশের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগও রীতিমাফিক বজায় আছে। বলা যায়, বিভিন্ন পর্যায়ে বিশেষ করে বিভিন্ন সংস্থা ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কাছে সরকার আস্থার সম্পর্ক বজায় রেখে চলছে এবং সে অনুযায়ী নিজস্ব স্ট্যান্ট নিয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া ও মনোভাবও ব্যক্ত করেছে। এ পর্যায়ে একটি বিষয় স্পষ্ট যে, স্থিতিশীলতার ভেতরে দেশের মানুষ একপ্রকার স্বস্তি ও আস্থার নিঃশ্বাসে কাজ করে চলছে। গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ধারায় যাবতীয় কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে। আপামর মানুষ সমস্ত অস্থিরতা অস্বীকার করে যে যার মতো কর্মক্ষেত্রে নিয়োজিত আছে। এখন মানুষের মুখ্য লক্ষ্য শান্তি ও সুস্থ রাজনীতির ভেতর গণতন্ত্রের চর্চা। গণতন্ত্র নামক বৃক্ষটিকে বড় করা। সেটি স্বাভাবিকমতো বজায় আছে। সে কারণেই রাস্তার আন্দোলনও এখন তেমন নেই। বিরোধী পক্ষ অনেকটা নেতিয়ে পড়ে, কর্ণপাতহীন গত্বাঁধা বুলি আওড়িয়ে চলছে। বিশেষ করে বর্তমানে তিস্তার পানি নিয়ে আন্দোলন। ইতিমধ্যেই তারা লং-মার্চ শুরু করেছে। যার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা অমূলক নয়। আন্দোলন থাকবে, যুক্তিমাফিক আন্দোলনের অধিকারও আছে রাজনৈতিক দলের। সেক্ষেত্রে জনগণই তাদের অবস্থান ঠিক করবে। কিন্তু প্রসঙ্গত, এ ইস্যুটি কতোটা যুক্তিযুক্ত! পানির ন্যায্য হিস্যা নিয়ে সরকার ইতিমধ্যেই কাজ করছে, তিস্তা ইস্যুটি নতুন নয়— পুরনো, গত বৈঠকে শুধু পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের শেষ পর্যন্ত গররাজির কারণে ঝুলে গেছে। পরবর্তীতে তা নিয়ে দ্বিপাক্ষিক শলা-পরামর্শ হয়েছে, নানা পর্যায়ে তা নিয়ে বৈঠক হয়েছে, অদ্যাবধি তা প্রক্রিয়াধীন। এবং তিস্তার কোনোকিছুই বাতিল হয়নি, ভেস্তে যায়নি। তাহলে আন্দোলনের কারণ কী? লং-মার্চ কী মাঠ গরমের তত্পরতা? নাকি ভারত বিরোধী রাজনীতির অংশ। স্বাধীনতার তেতাল্লিশ বছর পর ভারত-বিরোধিতাই যদি রাজনীতির ইস্যু হয়, তবে আমাদের গণতন্ত্র কতোটা শক্তিশালী তা কারো বুঝতে অসুবিধা হয় না। সুস্থ রাজনীতির অঙ্গীকার কতোটুকু আছে এর মধ্যে? বিরোধীরা যৌক্তিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করলে করোরই আপত্তি থাকার কথা নয়। কিন্তু তা পানি ঘোলা করার কর্ম হলে তা কী নিরর্থক নয়! মাঝে-মধ্যে কিছু বিকৃত ও হতাশাব্যঞ্জক প্রলাপ ছেড়েও বিরোধীরা মাঠ গরমের চেষ্টা করছে। কিন্তু তাতে কাজ হচ্ছে না। নতুন তত্ত্ব দিয়েও তাদের মাঠ গরম হচ্ছে না। কারণ এখন তো আর মিঠে কথায় চিড়ে ভেজে না! কার্যত জনগণ এখন গঠনমূলক প্রেসক্রিপশন চায়। দেশ-জাতির উন্নয়ন-অবলম্বী প্রকল্প চায়। পেছনের পুরনোদিনের ‘নতুন তত্ত্বের বোমা’ ফাটিয়ে তেমন লাভ হয় না। কোনোকালে হয়ওনি। বরং তাতে রাজনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সুস্থ রাজনীতি বিপর্যস্ত হয়েছে। রাজনীতি পেয়েছে পেছনগামিতা। এমনটা অতীতেও দেখা গেছে। বর্তমানে এসব ফানুস আর চলে না। কারণ, মানুষ এখন খুব বেশি বাস্তবমুখী ও নিজ কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তত্পর। বিশেষ করে, তথ্য-বিপ্লবের যুগে মানুষের জীবন উপযোগী বা পরিবর্তন অনুসারী কিছু না হলে, তা গ্রহণ করতে চায় না। সেজন্য ইতিহাস বিকৃতির নোংরামি বা অপপ্রচার কিছুই তাদের মাঠ পর্যায়ে পৌঁছুচ্ছে না, মানুষও সরগরম হচ্ছে না। ‘নতুন আইডিয়া’ কী কারো প্রয়োজন মেটায়? দেবে কী কোনো নতুন জীবনের ইঙ্গিত! অবশ্যই না। সুতরাং ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের বাসি-বস্তাপচা অপরাজনীতি অনেক আগেই এ দেশের মানুষের মন থেকে মুছে গেছে। বিশেষ করে, গণতন্ত্র নিয়ে প্রতিমুহূর্তে বিরোধীদের যে আশঙ্কা-মায়াকান্না বা সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেটি সম্পর্কে তারা সুনির্দিষ্টভাবে কী বলতে চান বা কী করতে চান— তার সুরাহা দিতে হবে। বা নিজেদের চর্চার ভেতর তা আছে কি-না— সেটাও দেশের মানুষ জানতে হবে। দায়িত্বশীল দলের কাছে মানুষ তা জানতে চায়। দলে গণতন্ত্রের চর্চা কীভাবে হচ্ছে, সে প্রমাণ তো তৃণমূল পর্যায় থেকেই আসতে হবে। সেটি কী আদৌ হচ্ছে! যাই হোক, যে কথা দিয়ে শুরু করেছিলাম, সুস্থ রাজনীতি ও গণতন্ত্র। মাত্র একশ’ দিন সরকারের চলা শুরু, ধরে নেয়া যায় গত পাঁচ বছরের ধারাবাহিকতায় এখনও তাদের অনেক কাজ বাকি। ইতিমধ্যেই পদ্মা সেতু নিয়ে সরকার সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছে। জঙ্গীবাদ দূরীকরণে সরকারের পদক্ষেপ দৃঢ় এবং তার বিচারিক প্রক্রিয়াও অব্যাহত। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কার্যকারিতা নানা অঙ্গনে এখন দৃশ্যমান। সমপ্রতি নববর্ষ ও লাখো কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত সর্বস্তরে সকলকে দেশপ্রেমের ভাবনায় নতুন করে যুক্ত করেছে। কিছু ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা রাজনৈতিক বিরোধ ও মতপার্থক্য যে নেই তা নয়। বিভিন্ন স্তরে ধর্মঘট উস্কানি আছে। তা দমনে সরকার কিছু কঠোর পদক্ষেপও নিয়েছে। এ পর্যায়ে কৌশলী ভূমিকাও বোধহয় গ্রহণ করার প্রয়োজন রয়েছে। তবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের ভূমিকা আশাব্যঞ্জক, বলা যায়। নানা চক্রব্যুহ থেকে সরকারকে দৃঢ়তার সঙ্গে বেরিয়ে আসতে হবে। সরকারকে নিতে হবে করণীয় পদক্ষেপ। সুস্থ রাজনীতির পরিবেশ তৈরি করতে হবে। কারণ, রাজনীতি ও গণতন্ত্র পারস্পরিক। সেটিকে এগিয়ে নেয়া চাই। পরিকল্পনামাফিক দুষ্টচক্রকে দমন করা দরকার। স্মরণে রাখা চাই, মাত্র যাত্রা শুরু করা এই সরকারকে চলতে হবে অনেক পথ, সেজন্য শান্তিপ্রিয় গণ-মানুষের আস্থাটুকু অর্জন করতে হবে। এ আস্থাটুকু অর্জন করতে না পারলে, সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ পিছিয়ে যাবে, যা দেশ ও সমগ্র মানুষের জন্য মস্ত ক্ষতি। এজন্য স্পর্শকাতর অনেক ইস্যুতে সাবধানতা ও ধৈর্যের পরিচয় দেয়া আবশ্যক। কারো পাতানো ফাঁদে পা দেয়া নয়, সাহসের সঙ্গে তাকাতে হবে সম্মুখে। সম্মুখে এগুনোর সিদ্ধান্ত মানুষই নেবে কিন্তু তারা যথাযথ পরিবেশ ও ন্যূনতম নিরাপত্তাটুকু গণতন্ত্রের স্বার্থেই সৃষ্টি করতে হবে। যে প্রশ্নটি এখানে গোড়াতেই এসেছে, সুষ্ঠু রাজনীতি ও গণতন্ত্র কতোটা শক্তিশালী? গণতন্ত্র ও জনগণ এই ক্রমবর্ধমান জনবসতির সমাজে দেশ ও মানুষের জন্য মুখ্য হলেও, সরকারকে সে ক্ষেত্রে কতোটা সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে নিচ্ছে! শুধু পরামর্শ বা বক্তৃতা-বিবৃতিতে নয়, অধিকারের প্রশ্নে সচেতন জনগণকে নিয়েই এ প্রশ্নটি আস্থায় আনা উচিত। সেজন্য বিরোধী পক্ষের প্রতিও সহনশীলতা দরকার। পাশের দেশ ভারতে নির্বাচন হচ্ছে, সেখানে নির্বাচন প্রক্রিয়া, জনগণের অংশগ্রহণ, প্রার্থীদের পারস্পরিক বক্তৃতা-বিষোদ্গার কম হচ্ছে না, রাজনৈতিক উত্তাপও তাতে কম দৃশ্যমান নয়— সে বিষয়গুলো আমাদের গণতন্ত্রের জন্য পরামর্শ হতে পারে। অবশ্য সেটি কতোটা আমাদের জন্য প্রয়োজন তাও আমরা ঠিক করতে পারি। সমপ্রতি ভারতের সাবেক নির্বাচন কমিশনার আমাদের দেশের নির্বাচন কমিশনারের নিয়োগের প্রক্রিয়াটির প্রশংসা করেছেন। ‘সার্চ কমিটি’ গঠনকে সাধুবাদ দিয়েছেন। তিনি এটিকে ভারতের জন্যও দৃষ্টান্তও মনে করেছেন। সুতরাং সবকিছুতেই হতাশ হওয়ার কারণ যেমন নেই তেমনি সুষ্ঠু রাজনীতির পথে বিকল্প ভাবারও অবকাশ নেই। শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন দিয়ে বৃহত্ গণতান্ত্রিক দেশ ভারত গণতন্ত্রে শক্তিশালী হয়েছে, গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে— এমনটা কেউ অস্বীকার করবে না। কিন্তু তাদেরও পথচলা কী শেষ হয়েছে? ভারতের নির্বাচনেও বড় বড় প্রার্থীদের পারস্পরিক বিষোদ্গার কী আমরা শুনিনি! ফলে ‘বড়’ ‘ছোট’ বলে বা ‘বিগ ব্রাদার’সুলভ আচরণে নয়, উভয় দেশই উভয়ের কাছ থেকে শিক্ষা নিতে পারে। সেক্ষেত্রে আমাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচন একেবারে ব্যর্থ হয়েছে, তা বলা যাবে না। তবে বিতর্ক যে পর্যায়েরই হোক, সেটি আমলে নিয়ে জনগণের আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। কারণ, সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ সকলেরই কাম্য। আর এটির ভেতর দিয়েই গণতন্ত্রের ভিত্তি সুদৃঢ় হবে। গণতন্ত্রকে পথ দেখানোই মুখ্য কথা। এতে সরকারেরও আস্থা বৃদ্ধি পায়। কার্যত, দায়িত্বশীল ও সহনশীল মনোভাব প্রদর্শনই এক্ষেত্রে সকলের কাম্য। সেটি নিশ্চয়ই সুশাসনেরও অঙ্গীকার। আর একই ধারাবাহিকতায় সমাজের— বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ডিজিটালাইজড হওয়ার পথে পরিপক্বতা অর্জনে এখনও যে শক্ত-সামর্থ্য হয়নি, তা কী অস্বীকার করা যায়! নিম্ন বা উঠতি মধ্যবিত্ত অতি আগ্রহে নানাভাবে সাইবার জগতে প্রবেশ করছে। উঠতি তরুণদের জন্য এ ক্ষেত্রটি ঝুঁকিপূর্ণও হয়ে পড়েছে। কিন্তু এর উপায় কী! এর পজেটিভ দিকগুলোও তো অস্বীকার করা যাচ্ছে না। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, লাখো কণ্ঠে সোনার বাংলা, বাংলা নববর্ষ উদ্যাপন প্রভৃতি আমাদের গতানুগতিক জীবনে এনেছে আমূল পরিবর্তন। প্রদর্শনের চাকচিক্যে এর আঙ্গিক বদলে গেছে। এটি এক ধরনের ডিজিটাল অনিবার্যতাও বটে। কিন্তু বিপরীতে সাইবার জগিট কী এতে করে এখন সহজলভ্য হয়ে পড়েনি! সেটি আমাদের মোকাবেলা করতে হবে, শুধু কৌতূহলই নয়, তার যথাযথ প্রয়োগ সম্পর্কেও সচেতন হতে হবে। প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য সরকার অনেক পদক্ষেপ যেমন নিয়েছে তেমনি কারিগরি মানের প্রতিও বিভিন্ন পর্যায়ে অনেকেই ঝুঁকে পড়েছে। এটি অবশ্যই আশার ব্যাপার। কিন্তু এ বিষয়ক অপরাধ বাড়লে তার বিরুদ্ধে সতর্ক হওয়াও জরুরি। উন্নততর প্রযুক্তিমাফিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেয়াটাও জরুরি। সার্বিক ট্রেনিংয়েও দক্ষতা দরকার। অবশ্য ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্র বিভাগে আধুনিকীকরণের নানা পদক্ষেপ দেখা যায়। কান টানলে মাথা আসার মতো— তাই প্রযুক্তির ব্যবহারে প্রকৃত শিক্ষা অর্জন করতে হবে। যে তরুণ প্রজন্ম ডিজিটাল বাংলাদেশে গড়ে উঠছে নিঃসন্দেহে সে কর্ম-উদ্যমী এবং এ আশার আলোতেই বাংলাদেশ জেগে আছে। বাংলাদেশের কোটি মানুষ তো কাজ করে যাচ্ছে। গণতন্ত্রের সংস্কৃতিও সেখানে নির্মীয়মাণ। গণতান্ত্রিক এ পরিবেশটুকু এখন বহাল রাখা অপরিহার্য। সাধারণ মানুষ তো সেটুকুই চায়। সুস্থ রাজনীতি ও গণতন্ত্রের ধারার সঙ্গে তার সাফল্য একসূত্রে গাঁথা এবং একই ধারায় বহমান। সেটি কার্যকর হোক, সকলে তার সুফল পাক। লেখক:অধ্যাপক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় shiqbal70@gmail.com