তরুণ সমাজ কি হতাশ

হতাশার জীবন, তবু সংগ্রাম করি আজকের তরুণ সমাজ এখন হতাশ। হতাশায় দিশেহারা। সবাই যেন অজানার পথে ছুটছে। কোথায় পৌঁছাতে হবে তাও জানা নেই। প্রথমে আসি মাধ্যমিকে। এসএসসি পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রস্তুতির পরও যদি ফলাফল মনের মত না হয় তাহলে হতাশ। আবার সাফল্য হলেও হতাশ। কেননা সে কোন কলেজে পড়বে? পলিটেকনিক বা জেনারেল। যদি সে পলিটেকনিক পড়ার চিন্তা করে তাহলে তাকে ভর্তি পরীক্ষা দিতে হবে। এখন সে যদি চান্স না পায় তাহলে সে হতাশ, আর যদি চান্স পায় তাহলেও হতাশ। কেননা সরকারি পলিটেকনিকগুলোতে ছাত্র রাজনীতি ব্যাপক। কঠোর চেষ্টায় চান্স পেয়ে এবার থাকে আতংকে। কখন কার ডাক পড়ে। বড় ভাইদের অত্যাচার, পলিটিকস, ভাইদের ডাকাডাকি সবসময় হতাশায় থাকি তবুও পড়াশুনা করে জীবনকে উন্নয়নের দিকে নিয়ে যেতে সংগ্রাম করি। মো. হাফিজুর রহমান (হাফিজ) আর্কিটেকচার, ১ম সেমিস্টার, ২য় শিফট, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট তরুণ সমাজ আজ সত্যি হতাশ বর্তমানে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফলে অপার সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের তরুণ সমাজ মারাত্মকভাবে হতাশাগ্রস্ত। জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার মূর্ত প্রতীক তরুণ যুবকদের মাঝে আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকারকে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করা প্রয়োজন। নইলে আজকের তরুণ সমাজ সহজে আশার আলো দেখতে পারে না। মূলত সরকার ও প্রধান বিরোধী দলে সমঝোতার ওপরই হতাশাগ্রস্ত তরুণদের মুক্তি অনেকটা নির্ভরশীল। কাজেই অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ সমাজ কেবল হতাশাগ্রস্ত নয়, তারা গভীর সংকটকালে ধৈর্যশীলদের সাথে থেকে আশার আলো দেখতে পায়। মো. নাজমুল আলম (পরীক্ষার্থী) বিএসএস (প্রাইভেট), ২য় বর্ষ কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ, কুষ্টিয়া তরুণ সমাজ হতাশ নয়, তবে আজ বিপথগামী তরুণ সমাজ আজ বিপথগামী হয়ে দেশ ও জাতিকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আজ জাতির সামনে বিরাট প্রশ্ন—তরুণ সমাজ বিপথগামী এর কারণ কী? দু-এক কথার মধ্যদিয়ে এর উত্তর করা আদৌ সম্ভব নয়। কেননা তরুণ সমাজের এ অবক্ষয় একদিনে সৃষ্টি হয়নি, তাই এর কারণও বহুবিধ। শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতি ও সন্ত্রাস। পরীক্ষায় দুর্নীতি, ছাত্র রাজনীতি, শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈষম্য, কর্মকমিশনে দুর্নীতি, ধর্মঘট, হরতাল, অবরোধ, শিক্ষাজীবনে সেশন জট, অপসংস্কৃতির কুপ্রভাব, বেকারত্ব, শিল্পপ্রতিষ্ঠানে আগুন ও শ্রমিক বিক্ষোভ প্রভৃতি কারণে তরুণ সমাজ আজ বিপথগামী। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ছাত্র সমাজকে আলোকিত করে। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানে আজ ঢুকে পড়েছে নোংরা রাজনীতি। মো. মোস্তাফিজুর রহমান (সোহেল) অনার্স তৃতীয় বর্ষ, দর্শন বিভাগ, রাজশাহী কলেজ, রাজশাহী তরুণ সমাজকেই দেশের হাল ধরতে হবে গত বছরের শেষের দিকে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছিল তাতে তরুণ সমাজ অনেকটাই ভেঙ্গে পড়ে। প্রধানত তরুণ সমাজ বলতে তরুণ শিক্ষার্থীদেরই বুঝে থাকি। তাই সম্প্রতি বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে যে শিক্ষার্থীরা নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছে তাতে তরুণ সমাজ একেবারেই বিধ্বস্ত হয়ে পড়ছে। এইসব নোংরা রাজনীতি বাদ দিয়ে সুষ্ঠু রাজনীতি ফিরিয়ে আনার দায়িত্বও তরুণদের। আর এই তরুণ সমাজকেই দেশের হাল ধরতে হবে। ভাল কাজ করার জন্যে দুর্যোগ আসতেই পারে তাই বলে হাত পা গুটিয়ে বসে থাকলে হবে না। তাইতো আমাদের জাতীয় কবি বলেছেন, “সমস্ত দুর্যোগ, বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে তরুণ সমাজকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।” নাজিব মুবিন, শিক্ষার্থী ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি), আশরাফুল হক হল চিন্তাশীল ও আত্ম-সংশোধনের পথে থাকলে হতাশ হবে না চিন্তাশীল ও আত্ম-সংশোধনের পথে থাকলে হতাশ হবে না। হতাশার উত্পত্তি কোথা থেকে? চাওয়া অনুযায়ী না পাওয়া থেকে। আমরা যে লেখাপড়া করছি তার উদ্দেশ্য অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা ও সামাজিক মর্যাদা। যখনি সেটা হচ্ছে না তখন আসে হতাশা। যদি আমাদের লেখাপড়ার উদ্দেশ্য হতো সৃষ্টিশীলতা ও মানবিকতা, আত্ম-সংশোধনতা যা আমাদের বস্তুগত পাঠ্যপুস্তকগুলোতে নেই। ফলে সমাজে ডিগ্রীগত বিভাজন হচ্ছে ও বৈষম্য বাড়ছে, হারাচ্ছে মানবিকতা, ছাত্র হারাচ্ছে তার মনুষ্যত্বের বিকাশ। ফলে হতাশা ও নিরাশায় নিমজ্জিত হচ্ছে। তাই আসুন সবাই মিলে ঐ পড়াশোনার প্রতি আকৃষ্ট হই যা আমাদেরকে সৃষ্টিশীল ও আত্মবিকাশের পথ ধরে চিন্তার দিকে ধাবিত করে। মো. আলী রেজাই, এ লেভেল পরীক্ষার্থী, জি সি ই কোচিং