অ্যাটলেটিকোকে হতাশ করলো রক্ষণাত্মক চেলসি

অতিথিদের অতি রক্ষণাত্মক কৌশলকে ভাঙ্গতে না পারায় অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ও চেলসির মধ্যকার গত মঙ্গলবার রাতের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালের প্রথম লেগটি গোল শূন্য ড্রয়ে শেষ হয়। ফলে স্প্যানিশ রাজধানীর দলটি নিজেদের মাঠ ভিসেন্তে ক্যালডেরনের সুবিধা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়। যদিও খেলায় অধিকাংশ সময়েই ছিল লা-লিগার শীর্ষ দলটির প্রাধান্য। ফলে আগামী বুধবার চেলসির মাঠ স্টামফোর্ড ব্রিজেই ঠিক হবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রথম ফাইনালিস্ট। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখও কাল রাতে স্প্যানিশ রাজধানীতে রিয়াল মাদ্রিদের মাঠে শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়। এ খেলাটিকে ফুটবল বোদ্ধারা মনে করছেন ইউরোপের ক্লাব ফুটবলের সর্বোচ্চ এ প্রতিযোগিতার অঘোষিত ফাইনাল। এদিকে রাউল গার্সিয়া ও ডিয়াগো কস্তা অ্যাটলেটিকোর আক্রমণভাগে নেতৃত্ব দিলেও চেলসির রক্ষণাত্মক কৌশলের সাথে কুলিয়ে উঠতে পারেনি। ৪০ বছর পর আবার ইউরোপের মর্যাদাবান আসরটির শেষ চারে উঠে আসা স্প্যানিশ দলটি এই রাতে অনেক সুযোগ তৈরি করেছিল। কিন্তু কোচ দিয়েগো সিমিওনের দল ২০১২ সালের চ্যাম্পিয়নদের নাভিশ্বাস তুলেও কাজের কাজটি করতে পারেনি। আর্জেন্টাইন এই কোচ দিয়েগো কস্তাকে সামনে রেখে অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার রাউল গার্সিয়া এবং দিয়েগো ও কোককে এদের সমর্থন জোগানোর দায়িত্ব দিয়ে খেলার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান। অপরদিকে পর্তুগিজ কোচ তার খেলোয়াড়দের পুরোপুরি রক্ষণাত্মক হয়ে খেলার পাশাপাশি মাঝে মধ্যে পাল্টা আক্রমণে ওঠার নির্দেশ দেন। কিন্তু মরিনহোর কৌশলটিকে নস্যাত করতে পারেননি সিমিওনে। চেলসি অবশ্য শুরুতেই তাদের গোলরক্ষক পিটার চেককে হারিয়ে বিপদে পড়েছিল। চেক কাঁধের ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছাড়েন। কিন্তু কোচ হোসে মরিনহো শেষ পর্যন্ত বিপক্ষের মাঠ থেকে খানিকটা নিশ্চিন্ত হয়েই ফিরলেন। এই ফলের কারণে আগামী সপ্তাহের খেলাটির আগে ইংলিশ ক্লাবটিকেই আগামী মাসে লিসবনে অনুষ্ঠেয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে ওঠার ব্যাপারে ফেভারিট ভাবা হচ্ছে। অথচ ২০ বছরের মধ্যে সবচাইতে ভাল মৌসুম কাটানো অ্যাটলেটিকোকে এই রাতের খেলাটিতে ফেভারিট ভাবা হচ্ছিল। মানজানারেস নদীর পারের ৫৫ হাজার আসনের স্টেডিয়ামটিও ছিল তাই কানায় কানায় পূর্ণ। এমনকি প্রথমার্ধে বল নিয়ন্ত্রণে প্রতিপক্ষের চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকা লস ব্ল্যাঙ্কোসরা ১৪ মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। কোকের কর্নার কিক সরাসরি বারে আঘাত হেনে বাইরে চলে যায়। এ সময় গার্সিয়ার ধাক্কায় গোলবারে বড়সড় আঘাত পান চেলসি গোলরক্ষক। অবশ্য চেলসির ডেভিড লুইজের ধাক্কা খেয়ে গার্সিয়া নিজেকে সামলাতে ব্যর্থ হলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তার বদলে মাঠে নামেন মার্ক সোয়ার্জার। ৪১ বছর বয়সী এই অস্ট্রেলিয়ান গোলরক্ষকের এটি ছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কেবল দ্বিতীয় ম্যাচ। শুধু তাই নয় নকআউট পর্বে তিনিই হলেন সবচাইতে বয়সী খেলোয়াড়। তাতে অবশ্য কোন সমস্যা হয়নি সফরকারীদের। যদিও ৩৪ মিনিটে মারিও সুয়ারেজের নৈপুণ্যে আবারো এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু তার শট একেবারে বার ঘেঁষে লক্ষ্য ভ্রষ্ট হয়। ৪৫ মিনিটে আরো একটি সুযোগ হাতছাড়া করে অ্যাটলেটিকো। দ্বিতীয়ার্ধে চেলসি আরো রক্ষণাত্মক হয়ে উঠে। ৭০ মিনিট পর্যন্ত দৃশ্যত মাঠ নিরুত্তাপ থাকার পর আবারো জমে উঠে খেলা। ৭৬ মিনিটে অ্যাটলেটিকোর পক্ষে গ্যাবির নেয়া ফ্রি কিক বার ঘেঁষে লক্ষ্য ভ্রষ্ট হয়। এর মিনিট খানেক পর গার্সিয়া এবং পরিবর্তিত খেলোয়াড় আদ্রা তুরান বল নিয়ে ডি বক্সে ডুকে গেলেও এবারো ব্যর্থ অ্যাটলেটিকো। শেষের দিকে চেলসি একটু জ্বলে উঠে। স্ট্রাইকার ফার্নান্ডো তোরেসের ভয়ঙ্কর ফ্রি-কিক এ সময় বার ছুয়ে যায়। এর পরপরই লুইজের নেয়া আরেকটি ফ্রি-কিক লক্ষ্য ভ্রষ্ট হয়। শেষ মিনিটে কস্তার একটি বিপজ্জনক হেড সরাসরি নিজের আয়ত্তে নিয়ে নেন চেলসির গোলরক্ষক। শেষ দিকে চেলসি অধিনায়ক জন টেরি ব্যথা মাঠ ছাড়লেও ব্লজদের কোন সমস্যা হয়নি।