সংকট কেটে গেছে শ্রীলঙ্কার

আগের দিনই শ্রীলঙ্কার জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা বোর্ডের দেওয়া অনুশীলন জার্সি, ক্রিকেট সরঞ্জাম বাদ দিয়ে নিজেদের পোশাক পরে, ব্যক্তিগত জিনিসপত্র নিয়ে অনুশীলনে গিয়েছিলেন। উদ্দেশ্য, বোর্ডের সঙ্গে মতবিরোধে নিজেদের দৃঢ়তাটা প্রকাশ করা। অবশেষে সেই মতবিরোধটা কেটে যাচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে। অন্তত গতকাল জাতীয় দলের অধিনায়ক অ্যাঞ্জোলো ম্যাথুসের সঙ্গে বোর্ডের তিন প্রতিনিধির সভাশেষে তেমনটাই জানিয়েছে ক্রিকেট শ্রীলঙ্কা (এসএলসি)। তারা বিবৃতি দিয়ে বলেছে, আইসিসি ও এসিসি ইভেন্টের আয়ের শতকরা ১০ ভাগ প্রাপ্তির নিশ্চয়তায় কেন্দ্রীয় চুক্তি সই করতে রাজী হয়েছেন ক্রিকেটাররা। আইসিসি ও এসিসি ইভেন্ট থেকে বোর্ডের আয়ের কমপক্ষে ২০ শতাংশের দাবিতে গত প্রায় সাত সপ্তাহ ধরে বোর্ডের সঙ্গে টানাপোড়েন চলছিল ক্রিকেটারদের। এই দাবি মানা না হলে তারা সই করবেন না, এমন অবস্থায় আবারও গতকাল সমঝোতা বৈঠকে নেতৃত্ব দিয়েছেন সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান প্রধান নির্বাচক সনথ জয়সুরিয়া। আর এই বৈঠকশেষেই এসএলসি বিবৃতি দিয়ে বলেছে, ‘এসএলসির প্রতিনিধিদের সঙ্গে ক্রিকেটারদের আলোচনায় তাদের প্রস্তাব করা হয়েছে যে, ক্রিকেটাররা আইসিসি ও এসিসি ইভেন্ট থেকে পাওয়া অর্থের ১০ শতাংশ আগামী ৫ বছর ধরে পাবে তারা। এ নিয়ে আর কোনো দর কষাকষি চলবে না। এই প্রস্তাবে খেলোয়াড়রা রাজী হয়েছে এবং তারা চুক্তি সই করবে।’ যদিও এই বিবৃতির প্রেক্ষিতে খেলোয়াড়দের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি এখনও। তবে ধারণা করা হচ্ছে, একেবারে না পাওয়ার চেয়ে এই ১০ শতাংশেই রাজী হবেন খেলোয়াড়রা। এই সমস্যাটা শুরু হয় ২০১২ সালের পর থেকে। ২০০৩ সালে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটে কেন্দ্রীয় চুক্তি চালু হওয়ার পর থেকে ২০১২ অবদি ক্রিকেটাররা বেতনের পাশাপাশি আইসিসি ইভেন্টের ২৫ শতাংশ পেতেন। কিন্তু ২০১৩ সালে অর্থনৈতিক সংকটের কারণ দেখিয়ে এই বাড়তি অর্থটা প্রত্যাহার করে নেয়। ফলে জাতীয় ক্রিকেটাররা আন্দোলনে যান এবং জাতীয় দলে খেলতেই অস্বীকৃতি জানান। পরে এই জয়সুরিয়া মধ্যস্থতা করে সংকটের সমাধান করেন। তখন বোর্ড কথা দেয়, সংকট কেটে যাবে। ফলে ২০১৪ থেকে তারা দাবিকৃত অর্থ পাবেন। কিন্তু এবারও বোর্ড কেন্দ্রীয় চুক্তির সময় প্রথমে বাড়তি অর্থ দিতে রাজী ছিল না। পরে তারা ৬ শতাংশ পর্যন্ত দিতে রাজী হয়; ক্রিকেটারদের দাবি ছিল ২৫ শতাংশ। এ অবস্থায় এসএলসির প্রধান নির্বাহী অ্যাশলি ডি সিলভা, কোষাধ্যক্ষ নুসকি মোহামেদকে নিয়ে জয়সুরিয়া আলোচনা শুরু করেন খেলোয়াড়দের সঙ্গে। অবশেষে সংকটের সমাধান দেখা যাচ্ছে। যদিও শ্রীলঙ্কা চ্যাম্পিয়ন হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে পাওয়া অর্থে এই চুক্তি প্রয়োগ হবে না। তবে বোর্ডের ঘোষণা করা পুরস্কারের অর্থে ওখান থেকে প্রায় ১৬.৫ শতাংশ পেয়ে যাচ্ছেন খেলোয়াড়রা।