আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান কি সম্ভব
প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০১৪, ২১:২৬
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বর্তমান উত্তপ্ত রাজনীতির সমাধানকল্পে সরকারের উদ্দেশে বলেছেন, “আমরা কেউ কারো শত্রু নই।” প্রশ্ন হলো, বর্তমান আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বাস্তবতার নিরিখে তার এ প্রত্যাশা কতটুকু বাস্তব সম্ভব। গত সপ্তাহে এ বিষয়ে নেওয়া পাঠকের মতামত তুলে ধরা হলো।
গ্রীষ্মের খররোদ্রতাপে দেশের মানুষসহ সমস্ত প্রাণিকুল যেখানে ব্যাকুল হয়ে আছে একটু শীতল পরশের অপেক্ষায়, ঠিক এমনি একটি সময়ে বিএনপির নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের চলমান সমস্যা সমাধানে ক্ষমতাসীন দলের প্রতি সমঝোতার আহ্বান যেন এক গ্লাস ঠাণ্ডা পানিরই মতো। গত দুই বছর বড় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চলছে ক্ষমতার লড়াই কিংবা অপব্যবহার। আন্দোলন নামক উত্তেজনামূলক শব্দ চয়ন বাদ দিয়ে সমঝোতার আহ্বান নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার, তার এই ইতিবাচক মনোভাবকে সাধুবাদ জানাই হাজার বার। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পরস্পর বিরোধ থাকার ফলে কেউ দেশের জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করতে পারে না। নেতাদের সময়ের সিংহ ভাগ ব্যয় হয় প্রতিপক্ষকে ঘায়েল কিংবা নাজেহাল করার কাজে। তার প্রমাণ আমরা টিভির পর্দা খুললেই দেখতে পাই। অনেক বড় সম্মানিত পদে আসীন হয়েও নেতারা প্রতিনিয়তই প্রতিপক্ষকে অশালীন এবং কু-রুচিপূর্ণ বক্তব্য দ্বারা আক্রমণ করেন, যা তার পদের জন্য খুবই বেমানান। তাই দলের জন্য দেশ নয়, দেশের জন্য দল—এ মনোভাবকে সামনে রেখে বিএনপির নেত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে সরকারি দল যদি এগিয়ে আসে তবে অচিরেই দেশে শান্তি ফিরে আসবে এবং মানুষ রেহাই পাবে গুম ও খুনের মতো আতঙ্ক থেকে যা গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাওয়ার জন্য খুবই সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
ডা. মর্জিনা আক্তার
বারিধারা পাইলস কিউর সেন্টার
গুলশান, ঢাকা।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত থমথমে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা একে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুত্পাত ঘটার পূর্ব লক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন। ফলে যে কোন সময় বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটার সম্ভাবনা যে কোন রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে ঘটার প্রবল সম্ভবনাকে কেউ উড়িয়ে দিচ্ছেন না। মৌলবাদীরা ওত পেতে বসে আছে। রেজিস্ট্রেশন বাতিল একটি সুসংগঠিত এবং অর্থনৈতিকভাবে দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল তাদের প্রথমসারির নেতাদের যুদ্ধাপরাধে ফাঁসির দণ্ডে চূড়ান্ত দণ্ডিত হওয়াকে কেন্দ্র করে যে কোন সময় তারা দেশব্যাপী মরণ ছোবল দিতে উদ্যত। এই ধরনের শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি কারো নিকট কাম্য নয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বর্তমান সরকারকে আইনের দিক দিয়ে বৈধ বলে স্বীকৃতি দিচ্ছেন সত্য; কিন্তু রাজনৈতিক ও নৈতিকতার দিক দিয়ে নয়। সরকারের পূর্ণ পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচিত তথাকথিত বিরোধী দলের উপস্থিতি সংসদ ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডল তো দূরের কথা বরং প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। এমনকি বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবসে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় প্রচারিত বাণী নির্ভর প্রচারণায়ও বিরোধী দলীয় নেত্রীর উপস্থিতি খুব একটা নেই। এমন পরিস্থিতিতে সরকার ও সরকারি দল নিজেদের মসনদ নিয়ে আয়েশে বসে থাকলে দেশ ও জাতি রসাতলে যেতে বাধ্য। ৬৫ বছরের একটি পুরোনো ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল ও সেই দলীয় সরকারের কাছ থেকে কেউ তা আশা করে না। আমরা মনে করি, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের প্রধান হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া বর্তমান সরকারকে উদ্দেশ করে “আমরা কেউ কারো শত্রু নই, আসুন এক সঙ্গে বসে আলোচার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করি” বলে যে আহ্বান জানিয়েছেন তা অত্যন্ত সময়োপযোগী, আন্তরিক এবং রাজনৈতিক দূরদর্শিতাপূর্ণ। বর্তমান সরকারের উচিত- এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে আন্তরিকতার সাথে বাস্তব পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে আসা।
ভুঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী
সাধারণ সম্পাদক, ঢাকাস্থ বেগমগঞ্জ পেশাজীবী সমিতি
৫-বিসিসি রোড, নবাবপুর, ওয়ারী, ঢাকা-১২০৩।
আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব, এটা কোন কেতাবি শ্লোগান নয়। বাস্তবে এর প্রতিফলন ও সম্ভাবনাও ছিল অতীতের সমাজ ও রাষ্ট্রীয় কার্যাদিতে। যেদিন থেকে সমাজপতি ও রাজনীতিকরা, “বিচার মানি কিন্তু তালগাছ আমার, বা সিঁদুরে আমের লালদিকটা খাবার উদগ্র বাসনার স্বার্থ কেন্দ্রিক বিষয়টি অন্তরে লালন করতে শুরু করেছে, সেদিন থেকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ফল ফিকে হয়ে গেছে। আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান হয়েছে, এর নজির নিকট অতীত থেকে আজ পর্যন্ত আমাদের চোখে স্পষ্ট ধরা পড়েনি। ঠিক এমন এক মুহূর্তে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সরকারের উদ্দেশে বলেছেন, ‘আসুন আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করি’। বিদেশ নির্ভর রাজনীতির প্রেক্ষাপটে খালেদা জিয়ার এই সাদামাঠা আহ্বান, শাসক দলের কাছে দুর্বলতার প্রতীক হিসেবে ধরা পড়ে কিনা বা সরকার কোন হেতু খুঁজে পাবার গবেষণায় নেমে পড়ার উপরই নির্ভর করেছে, আলোচনায় বসে সমাধানিক পথ আছে কি নেই, তার সঠিকতা নির্ণয় করা। বাস্তবিক অর্থে আমরা মনে করি এবং অতীতের ঘটনা পরম্পরায় মনে করিয়ে দেয়, আলোচনায় বসে সমস্যা সমাধানের একাধিক দরজার সিংহ ভাগই ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। উপরন্তু বাংলাদেশের রাজনীতিতে মহাজন রাষ্ট্রের প্রভাব প্রতিপত্তি প্রকট হওয়ায়, দেশের রাজনীতিকরা স্ববশে থেকে তাদের ইচ্ছের প্রতিফলন ঘটতে পারে না। পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আগে, দেশীয় রাজনীতিকরা বিদেশি প্রভুদের মুখের দিকে চেয়ে নেয়ার সংস্কৃতি যেখানে চালু হয়েছে, সেখানে স্বউদ্যোগে বসে সমাধানের পথ বের করা দুরূহ ব্যাপার। গত জাতীয় নির্বাচনের পূর্ব-মুহূর্তে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মোড়লিপনা ছিল দৃশ্যমান। দূতিয়ালির ভ্যানেটি ব্যাগও প্রদর্শিত হয়েছে, স্বদেশের রাজনীতির হাঁড়ির হালের সুযোগে। কাজেই এই যখন অবস্থা, তখন খালেদা জিয়ার “আমরা কেউ কারো শত্রু নই” এই আহ্বান হালে পানি পাওয়ার সম্ভাবনা আছে কিনা, তা দেখার জন্য চাতকের ন্যায় দেশবাসীকে অপেক্ষা করতে হবে।
মুরাদ হোসেন
মধুখালী, ঝিকর গাছা, যশোর।
‘আলোচনার মাধ্যমেই যে কোনো সমস্যার সমাধান সম্ভব’— যদি ‘সমস্যা’কে সমস্যা মনে করা হয় এবং সমস্যা সমাধানে সব পক্ষের আন্তরিকতা থাকে। তবে নির্বাচনোত্তর বাস্তবতা হলো, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদ্বয়ের মধ্যে মনোস্তাত্ত্বিক ব্যবধান কমেনি বরং বেড়েছে। তাই একপক্ষের হতাশা, বেহাল ও অস্তিত্বের সংকটে অপর পক্ষের অনড় মনোভাব, মেয়াদপূর্তির আত্মবিশ্বাস প্রবলতর হচ্ছে।
‘আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হোক’— এ ক্ষেত্রে সব সমঝোতা যে প্রকাশ্যেই হতে হবে তাও নয়, বরং সার্বজনীন ও গণতান্ত্রিক সমাধানে সুশীল সমাজ, ব্যবসায়িক নেতৃত্ব, কূটনীতিকদের ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তাই দুই নেত্রীর কাছে ষোল কোটি মানুষের প্রত্যাশা, তারা গণতন্ত্র ও দেশের মঙ্গলের জন্য জাতিকে আশার আলো দেখাবে। কারণ, সমঝোতার শক্তি ‘ভালবাসা’র চেয়েও প্রবল!
অধ্যাপক মো. আলী এরশাদ হোসেন আজাদ
বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক স্ট্যাডিজ
কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ, কাপাসিয়া, গাজীপুর-১৭৩০।
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সরকারের উদ্দেশে যে উক্তিটি করেছেন তা অত্যন্ত মূল্যবান ও সময়োপযোগী একটি বক্তব্য। আলোচনার মাধ্যমেই যে কোন সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। কাজেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্যের সাথে আমি একমত। তবে তিনি বিষয়টি বলতে দিনক্ষণ দেরি করে ফেলেছেন।
মাসুম আহমেদ
সম্পাদক ও প্রকাশক
শিকড় সন্ধানে, যাত্রাবাড়ী।
আমরা চাই সুস্থ রাজনীতি, গণতান্ত্রিক অধিকার, চাই শান্তি, শৃঙ্খলা। চাই না বিশৃঙ্খলা আর অশান্তিময় পরিবেশ। উভয় দলকে আমরা সহনশীলভাবে দেখতে চাই। তাই আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান ব্যতীত কোন বিকল্প নেই।
মো. শহীদুল ইসলাম (রয়েল)
নিশিন্দারা, মধ্যপাড়া, বগুড়া।
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সম্প্রতি সরকারের উদ্দেশে যে বক্তব্য রেখেছেন তা কোন ক্রমেই গ্রহণযোগ্য নয়। যেহেতু আন্দোলনের নামে যে জ্বালাও, পোড়াও, মানুষ মারা, রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতিসহ হাজার কোটি টাকার সম্পদ ক্ষতি করেছেন তা মেনে নেয়া যায় না। এছাড়া জামায়াত-শিবিরের সাথে যেভাবে জড়িত ও যুদ্ধাপরাধীদের বিপক্ষে এই দল। সব মিলে তাদের সাথে আলোচনায় বসে কোন ফায়দা হবে না।
হোসনে আরা করিম নীলা
এনায়েতগঞ্জ লেন, পিলখানা, ঢাকা।
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ঠিক বক্তব্যটি দিয়েছেন। আর এটার স্বার্থকতা তখনই আসবে যখন উভয় দল একত্রে বসে তাদের সমস্যা সমাধানের কাজে নিয়োজিত হবেন। আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বাস্তবতার নিরিখে তার এই প্রত্যাশা বা আকাঙ্ক্ষা সমর্থনযোগ্য।
মো. মনির হোসেন
মনির বুক এন্ড সংবাদপত্র বিক্রয় কেন্দ্র
মিরপুর, ঢাকা।
আসলেই আমরা আর অশান্তি, হনাহানি, অস্থির রাজনীতি, বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি ইত্যাদি দেখতে চাই না। আমরা চাই দেশের সুষ্ঠু সুন্দর শান্তিময় পরিবেশ। কাজেই বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সরকারের উদ্দেশে যে বক্তব্যটি রেখেছেন এটাকে আমরা সাধুবাদ জানাই।
মো. খায়রুল বাশার (চয়ন)
কুতুবখালী, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা।
হ্যাঁ আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব যদি বিরাজমান সকল পক্ষের সদিচ্ছা থাকে। বিএনপির চেয়ারপারসন সরকারের উদ্দেশে যে কথাটি বলেছেন এটি একটি চিরন্তন সত্য কথা এবং এটিই বাস্তব। “ধর শালারে আর মার শালারে” এই ধরনের জনবিকৃত রাজনীতি করে আজ পর্যন্ত কোন দেশের প্রশাসন ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখতে পারেনি। যারাই এটি করেছে তাদের সকলের পরিণতি হয়েছে করুণ। আর আন্তর্জাতিক আঞ্চলিক বাস্তবতা যাচাই হোক না কেন গণতান্ত্রিক উপায়ে দেশের মানুষের ইচ্ছানুযায়ী সত্ ও সুশাসক দ্বারা দেশ শাসিত হলে সেটিতে আমরা বলবো আসল বাস্তবতা। তাই সরকারের উদ্দেশে বেগম খালেদা জিয়ার আহ্বান তা বাঁকা চোখে না দেখে কিংবা তার দলের দুর্বলতা না দেখে জনস্বার্থে আহ্বানকে সরকার কর্তৃক বিবেচিত হওয়া বাঞ্ছিত বলে আমি মনে করি।
মোহাম্মদ লুত্ফর রহমান বাদল
এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা।
আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা নিরসন হওয়া সম্ভব বলে আমরা মনে করি। কারণ আমরা কেউ অন্য দেশ, অন্য গ্রহ থেকে আসিনি। সবাই রক্ত মাংসে গড়া মানুষ, সবার অনুভূতি আছে। প্রচার করার মাধ্যম আছে, আছে সুষ্ঠু ধারার আলোচনার মাধ্যমে একটি প্লাটফর্মে আসা সম্ভব। শুধু দরকার উদার মন-মানসিকতা। তাহলেই এদেশ হবে সত্যিকার অর্থে একটি সুন্দর দেশ।
আইরিন সুলতানা (মন্জু)
ধুপপুর, মাইজপাড়া, চট্টগ্রাম।
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সরকারের উদ্দেশে যে বক্তব্য রেখেছেন তা গ্রহণযোগ্য বলে আমরা মনে করি। দু’টি দলই এখন খোলা মনে আলোচনায় বসতে পারে। তাহলে সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। অন্যদিকে গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠাসহ দেশের মানুষ অস্থির রাজনীতি থেকে রেহাই পাবে। মানুষ তাহলে আবার দুটি দলকে সহসাই ভালোবাসবে।
লাড্লা, পিলখানা, ঢাকা।
গণতন্ত্রের বিকল্প নেই একটি দেশের জন্য। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে নিরপেক্ষ আরো একটি নির্বাচন প্রয়োজন। আর সেটার জন্য দুটি পক্ষের আলোচনায় বসা অত্যন্ত জরুরি। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সরকারের উদ্দেশে যে বক্তব্য রেখেছেন আমার মনে হয়, সেটি সরকার বিবেচনায় রেখে এগিয়ে আসতে পারেন। এতে করে কোন পক্ষেরই ভাবমূর্তি নষ্ট হবে না। বরং উভয় পক্ষের সুন্দর মননশীলতার পরিচয় বহন করবে।
শাহীন,
ডিওএইচএস, মহাখালী, ঢাকা।
বিএনপি চেয়ারপারসন যে বক্তব্য রেখেছেন তা কোনক্রমেই ভুল নয়। যদিও বর্তমান অবস্থা অন্যরকম। বর্তমান অবস্থা থেকে বুঝা যায় যে, দেশ ভালো চলছে না। সুতরাং বাস্তবতাকে বুঝে নিয়ে এগিয়ে নিতে হবে দেশকে।
মারুফুজ্জামান,
খিলগাঁও, ঢাকা।
বিএনপির নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রস্তাব সরকার বিবেচনায় নিয়ে ভেবে দেখতে পারেন। এ ক্ষেত্রে উভয় পক্ষ আলোচনায় বসে রাজনৈতিক সমস্যার উত্তোরণ ঘটাতে পারলে ক্ষতি কি? তবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যখন বেগম খালেদা জিয়াকে হরতাল, অবরোধ বন্ধের লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও জনগণের জানমাল রক্ষার লক্ষ্যে আলোচনার জন্য আহ্বান করেছিলেন তখন যদি তিনি এগিয়ে আসতেন তাহলে এক বিরাট সমস্যার সমাধান করতে পারতেন। বেগম খালেদা জিয়ার প্রস্তাব ও প্রত্যাশা আন্তর্জাতিক নিরিখে বাস্তবসম্মত নয়। কারণ জনগণের জানমাল ও রাষ্ট্রের সম্পদ ধ্বংসের অনেক ইতিহাস বর্তমানে সাক্ষী। তবুও সরকারের উচিত রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণে বিএনপি নেত্রীর প্রস্তাব বিবেচনা করে রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসা এবং সেইসাথে সুষ্ঠু রাজনীতিতে ফিরে আসা।
শাহ মোহাম্মদ হেলালউদ্দিন হিরো
কালিহাতি, টাঙ্গাইল।
আমরা তো আসলেই কেউ কারোর শত্রু নই তবুও কারোর সাথে শত্রুতা বা মিত্রতা থাকলেও শত্রু-মিত্র মিলে দেশটাকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলাই হবে আসল কাজ। কাজেই এক সাথে উভয় দল সমস্যা সমাধানের স্বার্থে বসা একান্ত উচিত।
কেয়া আক্তার
বিশেষ প্রতিনিধি
টাইম নিউজ-২৪ ডট নেট
মতিঝিল, ঢাকা।
আলোচনা ব্যতীত কোন সমাধানই সম্ভব নয়। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া সরকারের উদ্দেশ্যে যে বক্তব্য রেখেছেন, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বটে। বিষয়টিকে কোনোভাবেই উড়িয়ে দেয়া যায় না। তাই বর্তমান আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বাস্তবতার নিরিখে তার এই প্রত্যাশা কোনোভাবেই অবাস্তব নয়।
আলমগীর
মতিঝিল বা/এলাকা, ঢাকা।
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া সরকারের উদ্দেশে যে বক্তব্য রেখেছেন, এই মুহূর্তে তা ঠিক নয়। সময় অতিবাহিত করে তিনি বলছেন। বিষয়টি অনেক আগেই বলা দরকার ছিল। বর্তমান আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বাস্তবতার নিরিখে এই প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়।
আব্দুল মালেক মিয়া
দলিল লেখক, মনিপুর, মিরপুর, ঢাকা।
যে কোন সমস্যা সমাধানের জন্য আলোচনা দরকার। এর কোন বিকল্প নেই। কাজেই বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া সরকারের উদ্দেশ্যে যে বক্তব্য রেখেছেন তা অতি মূল্যবান বটে। আমরা তার বক্তব্যকে সাধুবাদ জানাই।
বিপ্লব আলম
উর্দ্দু রোড, লালবাগ, ঢাকা।
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, সরকারের শত্রু নই। কিন্তু এই সমস্যা সমাধানের জন্য তিনি যদি আগেই চিন্তা করতেন তাহলে নিশ্চয়ই আমাদের দেশে এতো অরাজকতা সৃষ্টি হতো না। তিনি বলছেন, সরকারের শত্রু নন, তাহলে কি তিনি জনগণের শত্রু? নৈরাজ্য সৃষ্টির জন্য লংমার্চ করছেন। আবার আন্দোলন শুরু করবেন। নির্বাচনে অনেক অর্থের প্রয়োজন। প্রয়োজন পরিশ্রমের। অথচ তিনি আবার এই নির্বাচনকে বাতিল করে নতুন করে নির্বাচন দিতে সংলাপে বসতে চাচ্ছেন। পানি ঘোলা করে অবশেষে তীরে এসে তরী ডুবানোর খেলা তিনি চাচ্ছেন। তবে আমি মনে করি, এখনো সময় আছে আবার নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য এখন থেকে সরকারের সাথে একমত হয়ে কাজ করবেন।
আশা এলিজাবেথ গোমেজ
প্রধান শিক্ষিকা, সেন্টমার্টিন কিন্ডার গার্টেন
লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা-১১০০।
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া সরকারের উদ্দেশে যে উক্তিটি করেছেন, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী বিষয়। কিন্তু এই মুহূর্তে নির্বাচন নিয়ে সরকার ভাবছেন না। সরকার এখন উন্নয়নের কাজে নিয়োজিত। সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন। কাজেই বিএনপি চেয়ারপার্সনের আরো আগেই এই প্রস্তাব দেয়া দরকার ছিল।
জাহাঙ্গীর হোসাইন
পীরেরবাগ, ঢাকা।
সবকিছু আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান হয়। বিএনপি চেয়ারপার্সন এখন চাচ্ছেন আলোচনায় বসতে। ঠিক আছে তিনি ভালোই বলেছেন। আমরা তার কথা সমর্থন করি। স্থিতিশীলতার জন্য আলোচনার বিকল্প নেই।
মো. আজিজুল হক সাঈদ
দলিল লেখক, ঢাকা।
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া সরকারের উদ্দেশে যে উক্তিটি করেছেন বাস্তবে কতটুকু সফল হবে জানি না। তবে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বাস্তবতার নিরিখে এটা প্রত্যাশা আমাদের।
পারভীন সুলতানা
মালিবাগ, ঢাকা।
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া সরকারের উদ্দেশে বলেছেন, আমরা কেউ কারো শত্রু নই। একথাটি আগে বলা অত্যন্ত জরুরি ছিল। তাহলে দেশে এমন অরাজকতা ও অস্থিতিশীলতা হতো না।
মো. হানিফ মিয়া
হাজারীবাগ, ঢাকা।
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সরকারের উদ্দেশ্যে যে বক্তব্য রেখেছেন তা সত্যিকার অর্থে অতীব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সবাই মানুষ। ‘মানুষ মানুষের জন্য একথাটি হূদয়ে গ্রহণ করলেই সত্যিকার অর্থে সব সহজ হয়। আর যদি না হয় তাহলে কোনটাই ঠিক থাকে না। বর্তমান আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বাস্তবতার নিরিখে তার এই প্রত্যাশা খুবই গ্রহণযোগ্য বলে আমরা মনে করি।
মুন্সী মোহাম্মদ ওয়াহীদ উল্লাহ
স্টুডিও ফুজিয়া, মিরপুর-১, ঢাকা।
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সরকারের উদ্দেশে যে বক্তব্য রেখেছেন তা অত্যন্ত সন্দর ও সাবলীল ভাষায়। কিন্তু বাস্তবে সরকার কতটুকু তা মূল্যায়ন করবেন সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে সরকারের উচিত হবে বিএনপির দোষের কথা ভুলে গিয়ে আলাপ আলোচনায় বসা।
নিলুফা আক্তার
টোলার বাগ, মিরপুর, ঢাকা।
আলোচনার কোন বিকল্প নেই। যে কোন বিষয়ে আলোচনা ব্যতীত সুরাহা সম্ভব নয়। বর্তমান আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বাস্তবতার নিরিখে তার এই প্রত্যাশা অত্যন্ত গঠনমূলক ও তাত্পর্যপূর্ণ।
মো. খায়রুল ইসলাম (ফুল)
আরাপপুর, ঝিনাইদহ
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সরকারের উদ্দেশে যাই বলুক না কেন সেটা বাস্তবায়ন কতটুকু সম্ভব দেখার বিষয়। বর্তমান আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বাস্তবতার নিরিখে তার এই প্রত্যাশা কতটুকু গ্রহণযোগ্য হবে তা সময়ে বলে দেবে।
সোহাগ,
ভাগলপুর লেন, নবাবগঞ্জ, ঢাকা।
আমরা কেউ কারো শত্রু নই কত সুন্দর কথা। যদি শত্রুই না হয়ে থাকেন তাহলে দুদল দেশের স্বার্থে এক হতে পারছেন না কেন? কিভাবে একজন আরেক জনকে ঘায়েল করতে পারেন সে চিন্তাতেই ব্যস্ত কেন? দুদল এক সঙ্গে চলে দেশটাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান। তাহলে ভাববো, আপনারা দেশের কথা, দেশের সাধারণ মানুষের কথা ভাবেন না, কেবল কিভাবে ক্ষমায় যাওয়া যাবে সে চিন্তাতেই উভয়েই ব্যস্ত। তাই বলতে চাই ক্ষমতার রাজনীতি ত্যাগ করে দেশের কথা ভাবুন, দেশকে ভালবাসুন, দেখবেন আপনিতেই ক্ষমতায় যেতে পারবেন।
আলমগীর হোসেন
সেনবাড়ী,
ময়মনসিংহ।
উপজেলা ২০১৪ নির্বাচনে প্রাথমিক পর্বে বিএনপি আশঙ্কা করেছিল নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে না। ৫ম দফা উপজেলা নির্বাচনে ব্যাপক ভোট জালিয়াতি ও ভোট কেন্দ্রে সহিংসতা হয়েছে। ৭৬ শতাংশ ভোটারকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। ২০% শতাংশ ভোটারকে ভোটদানে বাধ্য করা হয়েছে। সব মিলে আলোচনা করার সুযোগ হারিয়ে যাচ্ছে।
ফারুক আলম,
মালিবাগ, ঢাকা।
বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন সরকারের সাথে আলোচনায় বসবেন কিন্তু এক দল স্বাধীনতা চেতনায় বিশ্বাসী। দ্বিতীয়টি হচ্ছে স্বাধীনতা বিরোধী বন্ধু। কাজেই আলোচনায় বসে কোন লাভ হবে কী? এটার উদাহরণ হচ্ছে— ইঁদুর এবং বিড়াল কখনও এক সাথে থাকতে পারে না। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের অবস্থা ঠিক তেমনটি।
সৈয়দ হায়দার আলী
সভাপতি, মহাখালী যুব কল্যাণ সমিতি
মহাখালী, ঢাকা।
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সরকারের উদ্দেশে যা বলেছেন অনেকটা ঠিক। যেহেতু এদেশের মানুষ অত্যন্ত নিরীহ ও সহজ সরল। সত্যিকার অর্থে আমরা কারোরই শত্রু নই। বর্তমান আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক নিরিখে তার এই প্রত্যাশা অত্যন্ত গুরুত্ববহন করে।
রবিউল হোসাইন রবি
সভাপতি,
বাংলাদেশ মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা
এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা।
আমরা কেউ কারোর শত্রু নই, এই বোধদয় ছিল না বলে দেশ বিদ্রোহীরা নির্বিচারে বঙ্গবন্ধুসহ অসংখ্য নীরিহ মানুষকে হত্যা করেছিল। আমরা কেউ ভিন্ন কোন গ্রহ থেকে আসিনি। সবাই এদেশের মাটির মানুষ। এই সজ্ঞান মানুষের জানা থাকলেও তত্কালীন বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়ার ছিল না বলেই বর্তমান গণতন্ত্রের বাংলাদেশে সেই যুদ্ধোপরাধীদের রক্ষার জন্য জামায়াত শিবিরদের অস্ত্র হাতে লেলিয়ে দিয়ে হরতাল-অবরোধ করে বাস-ট্রাক পুড়ানো হাজার হাজার কোটি টাকা ক্ষতি করলো। অসংখ্য মানুষকে পেট্রোল বোমা মেরে হত্যা করলো এদেশের বিশৃঙ্খলা ঘটালো, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি করলো। এগুলো করেও যখন তাদের স্বার্থে উদ্ধার হলো না জাতীয় নির্বাচন বর্জন করলো, নির্বাচন বর্জন এ আবার কেমন রাজনৈতিক দল। তিনি এখন বলেছেন। ‘আমরা কেউ কারো শত্রু নই’। তিনি এখন উপলব্ধি করতে পারছেন নাকী নতুন করে ষড়যন্ত্র করছেন? বিএনপি যখন বিরোধীদলে ছিল তখন বর্তমান সরকার তাদেরকে ডেকে ছিল আলোচনা সমালোচনা করে আঞ্চলিক, আন্তর্জাতিক ও জাতীয় নির্বাচন সহ নানা ইস্যু নিয়ে সমস্যা সমাধানের জন্য তখন যে জনগণ দুঃসময় অতিক্রম করছিলো। চার দিকে আতঙ্ক বিরাজ করছিল। তা জনগণ ভালো করেই জানে। তারা ককটেল, পেট্রোল বোমা বিস্ফোরণ করাসহ পুলিশ পিটিয়ে হত্যা, ছাত্রলীগ নেতাদের পেছনে লেগেছিল। জনগণ নানাবিধ সমস্যায় ভুগছিলো তখন বর্তমান সরকার সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে পেরেছে। দেশ অস্থিতিশীল করার পায়তারা করছে, তাদের সাথে আর আলোচনা সমালোচনা করার দরকার নেই। বর্তমান গণতান্ত্রিক আওয়ামী লীগ জনগণের সরকার আন্তর্জাতিক আঞ্চলিক সমস্যার সমাধান করে জনগণকে উন্নত জীবন দিতে পারবে।
ফারুক আহম্মেদ
বাগমারা, রাজশাহী।
আমরা কারোরই শত্রু নই। এ বিষয়টি বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবার ওয়াকিবহাল হয়েছেন। আমরা সবাই এদেশের নাগরিক। কিন্তু বিগত সময়ে তারা যেভাবে দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করেছিলেন তাতে করে তারা নিজেরাই পিছিয়ে পড়েছেন। এখন এখান থেকে উঠে আসতে হলে তাদেরকে আরো সহনশীলতার পরিচয় দিতে হবে।
এস.কে. মোহাম্মদ রমিজউদ্দিন,
সাবেক এ,জি,এস
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
গত ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের পূর্ববর্তী অবস্থা ভীষণ ভয়াবহ ছিল। বিরোধী দল ও সরকারি দলের মধ্যে সহিংসতা ভাব এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছিল। সরকারের একঘেয়েমি এবং শেষ পর্যন্ত সরকারকে বিনাভোটে নির্বাচন করতে হয়েছে। দেশে বিদেশে সব স্থানে নির্বাচন নিন্দনীয় হয়েছিল। ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পর উপজেলা নির্বাচন প্রকৃতভাবে প্রমাণ করেছে যে যদি দলীয় সরকারের অধীনে কোন নির্বাচনই সুষ্ঠু ও অবাধ হতে পারে না। আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন প্রিজাইডিং/পুলিং, অফিস, ওসি, ইউএনও, ডিসি/এমপিকে দিয়ে দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আমাদের দেশে অসম্ভব। অন্যদিকে বিরোধী দল নিঃসন্দেহে চরম ও মরণ কামড় দেবার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। জনগণ এখনও বিশ্বাস করে বিএনপি জামায়াতসহ অন্যান্য বিরোধী দল এখনও মাঠে নামলে সরকার কিংবা সরকারি বাহিনী তাদেরকে সামলাতে পারবে না। আমাদের বর্তমান সরকার যতই ভাবুক প্রতিবেশী ভারত তাদের পার্শ্বে থাকবে। তাহা নস্ফিল চেতনা। ভারত সবসময় একটা চরম স্বার্থপর প্রতিবেশী। তাই সরকার ও সরকারি দল সর্বপরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন দেশকে চরম নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে না দিয়ে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ, অবাধ নির্বাচনের ব্যবস্থা করে দেশকে বাঁচান।
শাহ আলম খান
বাঁশখালী, চট্টগ্রাম।
আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে না। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বর্তমান ক্ষমতাসীন গণতান্ত্রিক সরকারের উদ্দেশ্যে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ দেশের মানুষ এখনো ভুলতে পারেনি। তারা যেভাবে দিনের পর দিন হরতাল, অবরোধ, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ক্ষতি, জ্বালাও-পোড়াও করে মানুষ মারা ইত্যাদি যে সমস্ত সহিংস ঘটনা রচনা করেছেন এটাকে আমরা ভুলিনি। এছাড়া তারা যুদ্ধাপরাধী জামায়াত শিবিরের সাথে তারা এক সূত্রেগাঁথা। তারা কখনই তাদের বিপক্ষে যাবেন না।
মো. মেজবাহউদ্দিন সেলিম
শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা।
আমরা চাই না নৈরাজপূর্ণ পরিবেশ। আমরা চাই শান্তি ও অবাধ পুনঃনির্বাচন। কোন দিনই দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন এদেশে সম্ভব নয়। সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমেই দেশে শান্তি ফিরে আসতে পারে। কাজেই বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সরকারের উদ্দেশ্যে যে উক্তি করেছেন তা অযৌক্তিক নয়।
শিশির,
পিলখানা, ঢাকা।
আমরা সবাই এদেশের নাগরিক। সুস্থ ধারার গণতন্ত্রের একটি দেশের বিকল্প নেই। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সরকারের উদ্দেশ্যে যে বক্তব্য রেখেছেন তা কোনক্রমেই তিনি ভুল বলেননি। অবশ্যই আলোচনার টেবিলে বসা ব্যতীত কোন সমস্যার সমাধান হবে না। আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বাস্তবতার নিরীখে তার এ প্রত্যাশা অবাস্তব নয়।
রিফাত,
ঝিনাইদহ।
বেগম খালেদা জিয়া যা বলেছেন তা তিনি শুধু মুখেই বলেছেন। কারণ তিনি জানেন বর্তমান আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বাস্তবতায় তা সম্ভব নয়। তাই তিনি জনগণকে শান্ত্বনা দেবার জন্যই এ উক্তিটি করেছেন।
হাফিজুর রহমান
ভৈরব বাজার, ভৈরব, কিশোরগঞ্জ।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে নিঃসন্দেহে বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্য দেশ ও জাতির জন্য ফাগুনের বাতাসের মতো। কারণ রাজনীতি হচ্ছে জনগণের কল্যাণের জন্য, জনগণের মঙ্গলের জন্য। যে কাজ করলে জনগণের ক্ষতি হয়, বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি বিনাশ হয়, অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি সামনের দিকে অগ্রসর হওয়ার পরিবর্তে পিছনের দিকে ধাবিত হয়, সে রাজনীতি চিরতরে নির্বাসন দেয়ার এখনই সময় এবং ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে লাল- সবুজের পতাকা সোনার বাংলা গড়ার সময়। সরকারি দল ও বিরোধী দল যদি একমত হয়ে অগ্রসর হয় তবে এদেশ সত্যিকার অর্থেই সোনার বাংলা হতে সময় লাগবে না। আমাদের দেশে সবই আছে; নেই শুধু রাজনৈতিক মতের ঐক্য। খালেদা জিয়ার এই বক্তব্য দেশের রাজনীতির নীতিগত দিক এবং জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত আকাঙ্ক্ষা। সরকারকেও দেশের জনগণের চাহিদা বিবেচনা করে, দেশের মঙ্গলের জন্য কাছাকাছি অবস্থান করে সকল সমস্যার সমাধানের পথকে প্রকাশিত করার এখনই সময়। এই সময়কে কাজে লাগাতে না পারলে আবারো রাজনৈতিক বিশ্বাসের প্রতি আমজনতার শ্রদ্ধাবোধের অভাব ঘটবে। ফলে রাজনৈতিক সহিংসতা, হত্যা, খুন, ইত্যাদি তাড়ানোর কোন পথ খুঁজে পাবে না।
মঞ্জুু সরকার, চুয়াডাঙ্গা।
মানুষ মানুষের জন্য। স্বাধীন দেশের সব নাগরিক একে অপরের বন্ধু। আমার জানা মতে, বাংলাদেশের স্বাধীন নাগরিক কখনো কারো শত্রু হতে পারে না। বাংলাদেশের সমস্যা অনেক, এর সমাধানও আছে। যেমন খুন, অপহরণ, জঙ্গিবাদ। সুষ্ঠু আলোচনার মধ্যে এই জঙ্গিবাদী, অপহরণ ইত্যাদি সমস্যা সমাধান করা যায়। স্বাধীন নাগরিকের এ প্রত্যাশা থাকতে পাড়ে।
ফৌজিয়া মুন্নী
মিরপুর, ডিওএইচএস।
কেউ কারো শত্রু নয়; আসুন সবাই একত্রে বসে মিলেমিশে সমস্ত সমস্যার সমাধান করি। এ কথাটি খুবই সুন্দর এবং সময়োপযোগী। সমস্যা সে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে হোক আর দেশীয় পর্যায়ে হোক। সমস্যা সমস্যাই। সমস্যার সমাধানের জন্য ঐকান্তিক ইচ্ছাই একান্ত প্রয়োজন। আমরা চাই সরকারে যারা আছেন তারা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আহবানে সাড়া দেবেন। এ সাড়া দেয়ার মধ্যে অবশ্যই দেশের মানুষের স্বার্থ ও কল্যাণ নিহীত রয়েছে। দেশ আর জনগণের জন্যই তো রাজনীতি। আমরা যত সমস্যাই জর্জরীত হই না কেন এর সমাধান আলোচনার টেবিলে সম্ভব বলে মনে করি। দেশের মানুষ চায় শান্তি আর উন্নয়ন। দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক মানুষ ধ্বংস এবং কোনরূপ নেতিবাচক রাজনীতি পছন্দ করে না। অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে সরকার এবং বিরোধী দলের একতাবদ্ধ শক্তির কোনই বিকল্প নেই। কোনরূপ হিংসাত্মক পরিস্থিতি উদ্ভব হোক এটা জনগণ চায় না। কেউ যে ঘোলা পানিতে নিজেদের আখের গোছাতে না পারে সেজন্য সকলেরই নজর রাখা উচিত। বর্তমান বিশ্বে একটি দেশ একা এগুতে পারে না। তাই আন্তর্জাতিক সমস্যাগুলো অবশ্যই আন্তর্জাতিকতাবাদ দৃষ্টিভঙ্গিতে সমাধানের প্রচেষ্টা নিতে হবে। কোন দেশ বড় কোন দেশ ছোট এটা না ভেবে সকল দেশকে সমান চোখে দেখার মানসিকতা নিয়ে সকল সমস্যার সমাধান সম্ভব।
ওয়াহিদ মুরাদ
নেছারাবাদ, পিরোজপুর।
বিএনপি চেয়ারপারসন যে উক্তিটি করেছেন তা ঠিক, কেউ কারো শত্রুই না। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। বর্তমান রাজনীতিতে যা চলছে তাতে মনে হয় না এ কথাটি এতটুকু সত্য। উভয়ের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব চলছে তাতো আদর্শের। তাই এক হওয়া সম্ভব নয়। যত কথাই বলুক না কেন শত্রু নয় ঠিকই কিন্তু একে অপরের শত্রুর চেয়েও বড়। এ বাস্তবতাটা বুঝতে হবে সবাইকে।
জসিম উদ্দিন
পুরান থানা, কিশোরগঞ্জ।