‘মালিকদের অতি লোভে প্রাণহানি শ্রমিকদের’

ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম হানা বলেছেন, উচ্চাকাঙ্ক্ষীতের অতি লোভে কত নির্দোষ শ্রমিককে প্রাণ দিতে হতে পারে তার উদাহরণ রানা প্লাজার দুর্ঘটনা। এ দুর্ঘটনা অনেকের চোখ খুলে দিয়েছে। এখন শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় এমন শক্তিশালী সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো ঘটনা না ঘটে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ ব্যাপারে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) গেমস রুমে রানা প্লাজা ধসের বর্ষপূর্তিতে ‘আফটারম্যাথ:রানা প্লাজা’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশে কর্মরত দেশি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থায় কর্মরত ৬০ জন ফটো সাংবাদিক এ প্রদর্শনীর আয়োজন করে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দক্ষিণ ফটকে আজ শুক্রবার পর্যন্ত তিনদিনব্যাপী চিত্রদর্শনীতে ফটো সাংবাদিকদের বাছাইকৃত ছবি প্রদর্শিত হবে। উইলিয়াম হানা বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাত পোশাক শিল্প। কিন্তু এক বছর আগে রানা প্লাজায় যে দুর্বিষহ ঘটনা ঘটেছে তা সত্যিই কষ্টকর। এতে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এ ধরনের ঘটনার যাতে আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে ব্যাপারে সরকারকেও ভূমিকা রাখতে হবে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অসংখ্য মানুষ স্বেচ্ছায় রানা প্লাজায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারের তহবিলে অর্থ দান করেছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিভিন্ন মহল থেকে এ পর্যন্ত ১২৭ কোটি টাকা দান করা হয়েছে। কিন্তু পুরো এক বছরে মাত্র ২২ কোটি টাকা বণ্টন করা হয়েছে। বাকি টাকা গেল কোথায়? তিনি বলেন, রানা প্লাজা ট্রাজেডির পর ভুক্তভোগীদের সহায়তার তথ্য জানার অধিকার সবার রয়েছে। কে কত দিচ্ছে কোন খাতে কত ব্যয় হচ্ছে সে ব্যাপারে জবাবদিহি বাড়াতে হবে। আর সে জবাবদিহির দায়িত্ব সরকারের। ফটো সাংবাদিক নাসিরুল ইসলাম নাসিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকায় নিযুক্ত ডেনমার্ক রাষ্ট্রদূত হ্যান ফুগল, বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ খান, ফটো সাংবাদিক ও প্রদর্শনী বিচারক আবির আবদুল্লাহ প্রমুখ।