বিচার পৌঁছাতে হবে প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায়
প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০১৪, ২১:৫৬
ভারতের সাবেক প্রধান বিচারপতি আলতামাস কবীর বলেছেন, কোনো বিশেষ শ্রেণির জন্য বিচার নয়। বরং সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আর্থ-সামাজিক সমস্যার কারণে প্রান্তিক গোষ্ঠীর জনগণ অনেক সময় আদালতে আসতে পারেন না। এক্ষেত্রে সচেতনতা ও স্বেচ্ছাসেবীমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থাকে তাদের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ডেইলি স্টার সেন্টারে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স এন্ড ডেভেলপমেন্ট আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
সুলতানা কামালের সভাপতিত্বে ‘সবার জন্য ন্যায়বিচারের অধিকার শীর্ষক অনুষ্ঠানে আলতামাস কবীর বলেন, সকল পর্যায়ের মানুষের ন্যায় বিচার পাওয়ার অধিকার সংবিধান ও আইনে স্বীকৃত। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা যেতে পারে। ভারতে আইনি সহযোগিতা দিতে গ্রামে গ্রামে লিগ্যাল এইড সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। এই সেন্টারের মাধ্যমে দরিদ্রদের মামলা বিনা খরচে পরিচালনার ব্যবস্থা করা হয়। আইনি সহায়তা দেয়ার জন্য গড়ে তোলা হয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। যারা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বাড়ি বাড়ি গিয়ে কথা বলে থাকে।
এছাড়া মোবাইল ভ্যান গাড়ি সেবা চালু করা হয়েছে। যার ফলে মানুষ যাতায়াতের সময়ও আইনি পরামর্শ ও সহযোগিতা পেয়ে থাকে। তিনি বলেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিতে আইনের বাইরে ভিন্ন উপায় অবলম্বন করা যেতে পারে। অনেক সময় মামলার নিষ্পত্তিতে মধ্যস্থতাকারীর সহায়তা নেয়া যেতে পারে। অনেক সময় ক্ষতিগ্রস্তের ন্যায়বিচারের জন্য ক্ষতিপূরণের মতো শাস্তি বিবেচনা করা যেতে পারে। এ সময় কিছু মামলার কথা উল্লেখ করে বলেন, যাদের জন্য বিচার জরুরি তাদের বিচার অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের বিচারে আন্তর্জাতিক মান রক্ষায় অভ্যন্তরীণ আইনের ধারার পরিবর্তন বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ভারতের সাবেক এই প্রধান বিচারপতি বলেন, আন্তর্জাতিক বিশ্বে মৃত্যুদণ্ড রহিতের দাবি জোরালো হচ্ছে। তবে বিচারের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ আইনকেই গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন।
মামলা জট কমানোর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কয়েক বছর আগে ভারতে মামলা জট কমাতে এক মেগা লোক আদালতে ২৯ লাখ মামলার নিষ্পত্তি করা হয়েছিলো একদিনে। মামলার জট কমাতে ডাটাবেজ তৈরি করা জরুরি।
আগাম জামিনের বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উত্তর প্রদেশ বাদে ভারতের প্রায় রাজ্যেই আগাম জামিনের সুযোগ রয়েছে। বিচার বিভাগের উপর রাজনৈতিক চাপের বিষয়ে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে বিচারককে তার কাঁধ চওড়া করতে হবে। চাপ মুক্ত হওয়ার উপায় খুঁজতে হবে। ভারতের সাধারণ জনগোষ্ঠীর বিচার প্রাপ্তির অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে ব্যবহারের বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এজন্য দুই দেশের আইন মন্ত্রণালয় ও আইনজীবী সমিতির মধ্যে আলোচনা হতে হবে।
এদিকে, প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেছেন ভারতের সাবেক প্রধান বিচারপতি আলতামাস কবীর। গতকাল দুপুরে প্রধান বিচারপতির খাস কামরায় এ সাক্ষাত্ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় আপিল বিভাগের বিচারপতিগণ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাত্ শেষে বিচারপতি আলতামাস কবীর সাক্ষাত্ করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে। সমিতির সভাপতি ও বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেনের কার্যালয়ে এ সাক্ষাত্ অনুষ্ঠিত হয়।