বেনজেমার গোলে এগিয়ে থাকলো রিয়াল

করিম বেনজেমার প্রথমার্ধে দেয়া গোলে রিয়াল মাদ্রিদ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দ্বিতীয় সেমিফাইনালটির ফিরতি লেগের আগে বায়ার্ন মিউনিখের বিরুদ্ধে সুবিধাজনক অবস্থায় থাকলো। আগামী মঙ্গলবার বায়ার্নের মাঠ অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারিনায় অনুষ্ঠিত হবে ফাইনালে ওঠার এ লড়াইটি। তার আগে স্পানিশ জায়ান্টদের মাঠ বার্নাব্যুতে অনুষ্ঠিত খেলাটিতে সফরকারীরা অধিকাংশ সময় বল নিয়ন্ত্রণে রাখলেও ১-০ গোলের হারটি এড়াতে পারেনি। বেনজেমা ১৯ মিনিটে গোলটি করেন। যদিও শুরুর দিকে সফরকারীদেরই ছিল প্রাধান্য। কিন্তু স্বাগতিকদের গোলমুখে তারা বিপজ্জনক কিছু করে দেখাতে পারেনি। এই সুযোগে পাল্টা আক্রমণে বামপ্রান্ত দিয়ে গিয়ে গোলটি করেন ফ্রান্স জাতীয় দলের আক্রমণভাগের এই খেলোয়াড়। ফুঁসে ওঠা বায়ার্ন এরপর অনেকক্ষণ চাপে রাখে কোচ কার্লো অ্যানচেলোত্তির দলকে। কিন্তু স্পানিশ দলটি ধীরে ধীরে আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফেরে। শুধু তাই নয় বিরতির পর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দুটি জোরালো আক্রমণ বায়ার্ন গোলরক্ষক ম্যানুয়েল ন্যুয়েরকে রক্ষা করতে হয়। রিয়াল গোলরক্ষক ইকার ক্যাসিয়াসকেও এই রাতে দলের জয় ধরে রাখতে বেশ কয়েকবার দুর্দান্তপনা দেখাতে হয়। ফরাসি স্ট্রাইকার বেনজেমা খেলা শেষে নিজের সন্তুষ্টি জানাতে গিয়ে বলেন,‘আমরা এর জন্য প্রস্তুত ছিলাম এবং জেতাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমাদের জন্য এটা একটা ভাল ফল। এখন আমরা দ্বিতীয় লেগের আগে আত্মবিশ্বাসী থাকলাম। এটা ছিল গুরুত্বপূর্ণ একটা গোল। তবে এর চাইতেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল রিয়াল মাদ্রিদ যেভাবে নৈপুণ্য দেখিয়েছে।’ জয়টির সুবাদে ১২ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালের পথে দারুণ ভাবে এগিয়ে গেল রিয়াল মাদ্রিদ। ১৯ মিনিটের সময় রোনালদোর বাড়ানো বলে ফ্যাবিও কোয়েন্ট্রাওয়ের ক্রসে বায়ার্নের জালে বলটি জড়িয়ে দিয়ে রিয়ালের জয় নিশ্চিত করেন ফরাসি তারকা বেনজেমা। এই অর্ধে অবশ্য সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেননি দলের তারকা খেলোয়াড় রোনালদো ও অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া। শিরোপাধারী বায়ার্ন খেলার অধিকাংশ সময় বল নিয়ন্ত্রণে রেখেও হার এড়াতে ব্যর্থ হয়। খেলা শেষ হবার পাঁচ মিনিট আগে বায়ার্নকে সমতায় ফেরানোর শেষ সুযোগটি পেয়েছিলেন মারিও গোয়েতজে। তবে তার প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন ক্যাসিয়াস। স্প্যানিশ অধিনায়ক খেলাটির শেষদিকে কঠিন চাপে ছিলেন। এই পরাজয়ের ফলে ফিরতি লেগের খেলাটিতে সর্বশক্তি প্রয়োগ করতে হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের। এতে সফল হলে প্রথম দল হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা অক্ষুণ্নু রাখার লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে পারবে কোচ গার্দিওলার বায়ার্ন। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে চার ম্যাচ পর খেলাটিতে মাঠে নামেন পর্তুগিজ তারকা রোনালদো। পরে অবশ্য তাকে তুলে নিয়ে গ্যারেথ বেলকে মাঠে নামান কোচ অ্যানচেলোত্তি। গত সপ্তাহের কোপ দেল রে’র ফাইনালের দলটিতে এটিই ছিল একমাত্র পরিবর্তন। ফাইনালটিতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনাকে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয় রিয়াল। এই রাতে জয়ের ব্যবধানটি দ্বিগুণ করার সুযোগও পেয়েছিলেন পর্তুগিজ তারকাটি। কিন্তু বেনজেমার নিচু ক্রসে প্রতিপক্ষের গোলপোস্টের খুব কাছে বল পেয়েও ফিফার বর্ষসেরা ফুটবলারটি তা কাজে লাগাতে পারেননি। পরের দফায় গোল করতে ব্যর্থ হন ডি মারিয়া। রিয়াল মাদ্রিদ ডিফেন্ডার সার্জিও র্যামোস খেলা শেষে বলেন,‘মাদ্রিদ জানে কিভাবে বায়ার্নকে ধরতে হয়। চ্যানেল প্ল¬াসকে দেয়া সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন,‘ মিউনিখ সফরে যাবার জন্য এটি একটি দারুণ ফলাফল। ম্যাচটি ছিল খুবই কঠিন। আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। দুর্দান্ত পর্যায়ের খেলোয়াড়দের নিয়ে দলটি গড়া। তারা বলকে সব সময় নিয়ন্ত্রণে রাখতে পছন্দ করে। তবে আমরা জানি কি করতে হয়।’ বাসস/এএফপি/স্কাই স্পোর্টস