বদভ্যাস নখ খাওয়া

বিচিত্র মানবজাতির বৈচিত্র্যময় শত অভ্যাসের তালিকা করাটা সহজ কোনো কর্ম নয়। তবে মাঝে মাঝে কিছু অভ্যাস দেখা দেখা যায়, যে অভ্যোসগুলো একজন মানুষের রুচি, ভদ্রতা আর স্মার্টনেসের ব্যাপক হানি ঘটায়। তার মধ্যে একটি হলো নখ খাওয়া কিংবা দাঁত দিয়ে নখ কাটা অথবা নখের পাশের চামড়া কাটার অভ্যাস। তবে এটিকে শুধু অভ্যাস বললে বোধকরি কমই বলা হবে, আসলে নখ মুখে নিয়ে নানা কর্মকাণ্ডগুলো খুবই খারাপ অভ্যাস এবং তা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পাল্টে ফেলার চেষ্টা করা উচিত। হয়তো মনে হতে পারে এটা ছোটদের বদভ্যাস। না, কেবল ছোটরাই নয়, বড়দেরও এই বদভ্যাসটি নজরে পড়ে বেশ। আচ্ছা, শত অভ্যাস থাকতে কেন নখ খাওয়ার অভ্যাসটি আমাদের মধ্যে তৈরি হয়? এমন একটি প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই আসতে পারে মনে। আসলে এর পেছনে রয়েছে বেশকিছু কারণ। যেমন—কেউ টেনশনে থাকলে কিংবা উত্তেজিত থাকলে নিজের অজান্তেই শুরু করে দেন নখ খাওয়া। এই অভ্যাসটিরও আছে ডাক্তারী পরিভাষায় একটি নাম অনিকেফ্যোজিয়াও এবং এই অভ্যাসকে এক রকমের স্টিরিওটাইপিক মুভমেন্ট ডিজঅর্ডারও বলা হয়ে থাকে। এই অভ্যাসটির ক্ষতিকর দিকটিও বেশ মারাত্মক। অনেক সময় নখ খাওয়ার ফলে বাচ্চাদের লেড পয়জনিং হওয়ার ঝুঁকি থাকে। নখ খেলে পেট খারাপ হতে পারে, পেটে ব্যথা এবং নখের কোনায় ব্যথা দেখা দিতে পারে। আর তাছাড়াও আরও একটি মারাত্মক ক্ষতি রয়েছে এই বাজে অভ্যাসটির। আপনার নখের সৌন্দর্যের ক্ষতি। একবার ভাবুন তো নখ খাওয়া আঙুল দেখতে আপনারই কেমন লাগে? নিশ্চয়ই ভালো না। বিশাল দুনিয়াতে খাওয়ার মতো জিনিসের অভাব কোনো দিনই ছিল না। তবে বলুন শুনি, আর কেন নখ খাওয়া! ভাবছেন কী করে এই বদভ্যাস পরিত্যাগ করা যায়। ইচ্ছে থাকলেই উপায় হয়। তবে বাচ্চা বা ছোটদের ক্ষেত্রে এই দায়িত্বটা নিতে হবে তার অভিভাবকদের। তাদের ভালো করে বোঝাতে হবে নখ খাওয়ার ফলে অনেক রকমের অসুখ হতে পারে। দরকার হলে নখ খাওয়ার অভ্যাস ছাড়তে পারলে আকর্ষণীয় গিফটের ঘোষণা দিন। তবে বড়দের ক্ষেত্রে নিজের কাঁধেই দায়িত্বটা তুলে নিন। খুব বেশি টেনশন হলে হাতে স্ট্রেস রিলিজ বল রাখুন। অথবা হাত খুব সুন্দর করে ম্যানিকিওর করে নেলপলিশ করতে পারেন। ভুল করে নখ মুখে উঠলেই খেতে আর মন চাইবে না। এত সুন্দর ম্যানিকিউর করা নেলপলিশ মাখা নখটা খেতে আপনার মন চাইবে বুঝি! মোট কথা নখ খাওয়া ছাড়ার জন্য নিজেই কিছু সিদ্ধান্ত ঠিক করুন তবে অবশ্যই প্রথমে দরকার ইচ্ছে শক্তি।