‘হ্যাঁ, আমরাও পারি’

বাংলাদেশ দলের অনেক আগে থেকেই ‘থিম সং’ হল—আমরা করবো জয়! ম্যাচের আগে নয়, ম্যাচ জিতলে খেলোয়াড়রা কাঁধে কাঁধ রেখে ড্রেসিংরুমে এই বিশ্ববিখ্যাত গানটা করেন। ম্যাচ জেতার পর এই গান কেন? এই গান তো বরং খারাপ সময়ে গাওয়া উচিত! এ নিয়ে অনেক মজা হয়েছে। তবে এখন আর ব্যাপারটা শুধু মজার নেই। ‘লাইফ সাকসেস কোচ’ আলী আজহার খানের সঙ্গে ক্রিকেটারদের দুই সেশন শেষে একটা ব্যাপার পরিষ্কার যে, বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়রা আসলে ভালো সময়েই শুধু জয়ের স্বপ্ন দেখার মতো আত্মবিশ্বাসী থাকেন। খারাপ সময়ে নিজেদেরকে উজ্জীবিত করতে পারছেন না তারা। আর এখানেই দলের মূল সমস্যাটা লুকানো আছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই খারাপ সময়ে ভালো কথা ভুলে যাওয়ার ব্যাপারটা খোদ খেলোয়াড়রাই স্বীকার করে নিলেন। শাহরিয়ার নাফীস যেমন বলছিলেন, তারা আসলে ইতিবাচক চিন্তাটা অবচেতন মনে করতেই অভ্যস্থ। এখানে যে সব ইতিবাচক চিন্তার কথা বলা হচ্ছে, তা তারা নিজেরাও করেন। কিন্তু সেটা শুধু ভালো সময়ে। এখন তাদেরকে বলা হচ্ছে, খারাপ সময়ে সচেতনভাবেই এই ইতিবাচক ভাবনাটা ধরে রাখতে হবে, ‘যে জিনিসগুলো এখানে শিখেছি তা আমরাও করে থাকি। ঘরোয়া বা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যখন আমরা ভালো করি, তখন আমরা এভাবে ইতিবাচক চিন্তা করি। কিন্তু যখন আমরা ভালো খেলি না বা অবস্থা আমাদের অনুকূলে থাকে না, সেই নেতিবাচক অবস্থায় আমরা এই কাজগুলো করি না। এখন আমাদের কাজ হল, সচেতনভাবে খারাপ সময়েও ইতিবাচক চিন্তা করা।’ প্রায় একই কথা বললেন নাসির হোসেনও। তিনিও বললেন, চাপে পড়ে গেলে বা সময়টা খারাপ যেতে থাকলে কীভাবে ইতিবাচক চিন্তা করা সম্ভব, সেটা তারা বুঝতে পারছিলেন না। এই সেশনগুলো থেকে সেই উপকারটা হচ্ছে, এটা অকপটেই মেনে নিলেন সদ্যই ফর্ম হারানো নাসির, ‘আমরা আগে বুঝতাম না একটা মানুষ যখন চাপে থাকে বা পারফর্ম করে না তখন কি করা উচিত। এখন এটুকু বুঝতে পারছি যে, মানুষের খারাপ, ভালো সময় অনেক সময় যায়। এসময় কি করা উচিত বা কি না করা উচিত তা শিখেছি।’ এই সমষ্টিগত বোধের বাইরে নাসির নিজের জন্য আলাদা করেও বসেছিলেন কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশি খেলাধুলা ও মনস্তত্ত্ব বিশেষজ্ঞ আলী আজহারের সঙ্গে। সেখানেও ভালো ফল পেয়েছেন বলে বলছেন নাসির। এরকম ব্যক্তিগত সেশন অনেকের সঙ্গেই করেছেন আলী আজাহার। সেখানে নানারকম সমস্যার কথা শুনতে পারছেন খেলোয়াড়দের কাছ থেকে। সেগুলোর সমাধানও দিচ্ছেন। আলী আজহার বললেন, বিশেষ করে ইনজুরি ও ব্যাড-প্যাচ নিয়ে অনেক খেলোয়াড় খুব হতাশায় ভোগেন; সেটা কাটানোর চেষ্টা চলছে। সন্দেহ নেই, এসব কেটে গেলে বাংলাদেশ দলের মানসিক সমস্যাগুলো অন্তত কমে আসবে। তবে বাইরে থেকে কেউ এসে এসব সমস্যা শেষ করে দিতে পারবেন না। দিন শেষে শাহরিয়ার নাফীসের চিন্তাটাই সত্যি যে, এই ইতিবাচক ভাবনাগুলো খেলোয়াড়দেরই ধরে রাখতে হবে, ‘যে এটাকে ধরে রাখবে তার বেনিফিট হবে। যে এটাকে দুদিন পর ভুলে যাবে তার জন্য উপকার হবে না।’