ব্যবসায়িক বিষয় নিয়ে দুই পক্ষে সংঘর্ষ
প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল ২০১৪, ২১:৫৪
রাজধানীর সেগুন বাগিচায় ব্যবসায়িক পার্টনারের ২ কোটি টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ৩ জন গুলিবিদ্ধসহ ৮ জন আহত হয়েছে। আহতদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার বিকালে সেগুন বাগিচার ১৫/এ/২, আকরাম টাওয়ারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে এক পক্ষ আরেক পক্ষের ওপর লাইসেন্সকৃত শর্টগান দিয়ে গুলি বর্ষণ করেছে। ঘটনার পর দুই পক্ষ রমনা থানায় পৃথকভাবে দুইটি মামলা করার উদ্যোগ নিয়েছে।
রমনা থানার ওসি মশিউর রহমান জানান, আকরাম টাওয়ারের সাথে হাবিবুর রহমানের মালিকানাধীন সাড়ে ৭ কাঠা প্লটে দোতলা বাড়ির নির্মাণ কাজ চলছে। বিকাল ৩টার দিকে ঐ প্লটের মালিকানা দাবি করে ওসমান গনি মনা তার পরিবারের সদস্যসহ অন্তত ২০/২৫ জন ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করে। এসময় বাড়ি নির্মাণের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা নিচের গেট বন্ধ করে দেয়। দরজা এক পর্যায়ে ভেঙ্গে ফেললে দোতলা থেকে হাবিবুর রহমান তার লাইসেন্সকৃত শর্টগান দিয়ে ৬ রাউন্ড গুলি করে। এতে ওসমান গনি মনার মা নাজমা বেগম, তার বোন রাজিয়া আকতার ও এমদাদ হাওলাদার নামে তিনজন গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনার পর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে রুবিয়া, ইমরান, রাফিয়া, রাকিব এবং অনিকা নামে পাঁচজন আহত হন।
জমির মালিক হাবিবুর রহমান জানান, ওসমান গনি মনা তার ব্যবসায়িক পার্টনার। সম্প্রতি তার পার্টনারশিপের ৫০ ভাগ টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে। বাকি ৫০ ভাগ টাকার জন্য ওসমান তার পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া জমিতে মালিকানা দাবি করে। তিনি অভিযোগ করেন, ওসমান গনি জাল দলিল করে এই জমির মালিকানা দাবি করে উচ্চ আদালতে রিট করেছেন। ঘটনার সময় ওসমান গনি তার ভাড়া করা ক্যাডারদের দিয়ে ধারালো অস্ত্র ব্যবহার ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র থেকে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুঁড়েছিল। এটার প্রতিহত করতে তিনি লাইসেন্সকৃত শর্টগান থেকে গুলি করেছেন।
অন্যদিকে, ওসমান গনি মনা জানান, হাবিবুর রহমানের সাথে ব্যবসা করার জন্য ২ কোটি টাকা দিয়ে পার্টনারশিপ নেন। নাজমা রিয়েল স্টেট নামে রামপুরা মহানগর প্রজেক্টে তার একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু ২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে কোন লাভ না পেলে তিনি হাবিবুরের কাছ থেকে পার্টনারশিপের টাকা ফেরত চান। এবাবদ হাবিবুর অর্ধেক টাকা ফেরত সংক্রান্ত দুইটি চেক দেন। এই চেক ব্যাংকে জমা দিলে ডিজঅনার হয়। গত ২০ এপ্রিল এফডিসি ক্রসিংয়ে তার মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় হাবিবুর রহমানের লোকজন তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। ঐ সময় জয়নাল নামে এক সন্ত্রাসীকে পুলিশ গ্রেফতার করে। শুক্রবার বিকালে ২ কোটি টাকার মধ্যস্থতা করার জন্য তার মা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা মাইক্রোবাসে করে সেগুন বাগিচার ১৫/এ/২, আকরাম টাওয়ারে অবস্থিত হাবিবুরের অফিসের সামনে পৌঁছালে হাবিব তাদের ওপর গুলি ছোঁড়ে। এসময় তার লোকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়।