বরেন্দ্র অঞ্চলে সেচ নির্ভর ফসলের চাষ কমে যাচ্ছে
মুক্তার হোসেন, গোদাগাড়ী (রাজশাহী) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০১৪, ২২:০৮
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ঘনশ্যামপুর এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ১১১ ফুট নিচে। উপজেলার আই হাই, রিশিকুল, পাকড়ী, দিগ্রাম ছাড়াও বরেন্দ্র অঞ্চলের তানোর, নাচোল, নিয়ামতপুর, পোরশা, সাপাহার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৮০ থেকে ৯৮ ফুট নিচে পানির স্তরের অবস্থান। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে এ অঞ্চলে অনাবৃষ্টি ও খরার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানান। এমন পরিস্থিতিতে ভূগর্ভস্থ পানির সেচ ব্যবস্থায় বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এতে সেচনির্ভর ধানসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ কমে যাচ্ছে। কৃষকরা জানান, বোরো ধান চাষে সেচ ও রাসায়নিক সারের প্রয়োজন বেশি হওয়ায় উত্পাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। ধানের ভাল ফলন ও আশানুরূপ দাম না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষক। মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা জানান, বোরো ধান চারা রোপণ করা থেকে ফলন পাওয়া পর্যন্ত সেচের প্রয়োজন হয় ৮টি। কিন্তু খরা ও তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় বোরো ধানের জমিতে সেচের প্রয়োজন হচ্ছে ১৫-১৬টি। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অধীনস্থ গভীর নলকূপ মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির সেচ বোরো ধানের জমিতে দেয়া হয়। এজন্য কৃষকদের প্রতিঘন্টা সেচের বাবদ ১০০ থেকে ১১০ টাকা চার্জ দিতে হয়। পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় এবং গভীর নলকূপের যন্ত্রাংশ পুরোনো হয়ে যাওয়ায় অল্প করে পানি উঠছে। ফলে ধানের জমিতে ১ ঘন্টার স্থলে ২ ঘন্টা সেচ দিতে হচ্ছে। ভূগর্ভস্থ পানির সেচ ব্যবস্থায় বিপর্যয় ঘটার কারণে গভীর নলকূপের আওতায় বোরো ধানের চাষ কমে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে কৃষক ব্যক্তিমালিকানায় সেচপাম্প স্থাপন করছে। তবুও ধানের চাষ প্রতিবছর কমছে। এ প্রসঙ্গে গোদাগাড়ী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অসিত কুমার বলেন, খরা মৌসুমে এ অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে বর্ষা মৌসুমে পানির স্তর উপরের দিকে উঠে আসে। দীর্ঘ সময় ধরে অনাবৃষ্টি ও খরা অব্যাহত থাকলে পানির স্তর আরো নিচে নেমে যাবে।