কুমিল্লায় দারোগাকে লাখ টাকা দিয়ে উকিলের মুক্তি
প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০১৪, ২২:০৯
আইজিপি ও মানবাধিকার কমিশনে অভিযোগ
কুমিল্লায় মো. আলমগীর নামের এক আইনজীবী ও ব্যক্তিগত ক্লার্ককে আটক করে হয়রানির ভয় দেখিয়ে এক লাখ টাকা আদায়ের পর থানা থেকে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগে জানা যায়, অ্যাড. মো. আলমগীর একটি চেম্বার ভাড়া নেয়ার জন্য ঢাকা থেকে গত ৩০ জানুয়ারি তার ব্যক্তিগত ক্লার্কসহ কুমিল্লায় আসেন। একইদিন রাতে ঢাকায় ফেরার কোন যানবাহন না পেয়ে তারা কুমিল্লা রেলস্টেশনের পাশে অপেক্ষা করছিলেন। এসময় কোতয়ালী থানার এসআই সাইফুল তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করলে তারা তাদের পরিচয় জানান। একপর্যায়ে ওই অ্যাডভোকেট ও তার সহকারী মহিলা ক্লার্ককে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং পৃথক কক্ষে মহিলা ক্লার্ককে আটক রেখে তার শ্লীলতাহানী করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পরদিন সকালে অ্যাড. আলমগীর তার বন্ধু কুমিল্লা এন্টারপ্রাইজের মালিক ও কুমিল্লা বারের অ্যাড. মো. শাহজাহানকে খবর পাঠালে তিনি থানায় এসে এসআই সাইফুলের সাথে কথা বলেন। তাদেরকে ছাড়িয়ে নিতে হলে ১ লাখ টাকা দিতে হবে, অন্যথায় মিডিয়ার লোকজন এনে অপমান করা হবে বলে এসআই সাইফুল অ্যাড. শাহজাহানের মাধ্যমে হুমকি দেন। পরে অ্যাড. শাহজাহান বিষয়টি অ্যাড. আলমগীরকে জানালে মান-সম্মানের কথা ভেবে তাকে টাকার ব্যবস্থা করতে বলেন। এতে অ্যাড. শাহজাহান ১ লাখ টাকা এসআই সাইফুলকে পরিশোধ করলে দুপুরে তাদেরকে থানা হাজত থেকে ছেড়ে দেয়া হয়। তিনি ঢাকায় পৌঁছে বন্ধু শাহজাহানের দেয়া টাকা পরিশোধ করেন। এ ব্যাপারে অ্যাড. আলমগীর ১১ ফেব্রুয়ারি পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে অভিযোগ করেন। অভিযোগটির তদন্ত করছেন কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর-এ-সার্কেল) জাহাঙ্গীর আলম। এ বিষয়ে এসআই সাইফুল জানান, ‘নগরীর শাসনগাছা গোমতী হোটেল থেকে আমি তাদেরকে আটক করি। পরে অ্যাড. শাহজাহানের অনুরোধে পরদিন তাদেরকে ছেড়ে দেই।’ সহকারী পুলিশ সুপার (সদর-এ-সার্কেল) জাহাঙ্গীর আলম জানান, ‘আমি অভিযোগের তদন্ত করছি এবং অভিযোগকারী ও অভিযুক্তের নিকট নোটিস প্রেরণ করা হয়েছে।’