তরুণ সমাজ কি হতাশ
ন তু ন প্র জ ন্মে র ভা ব না
প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০১৪, ২২:২৪
হতাশার বেড়াজালে
আবদ্ধ তরুণ সমাজ
পরিবার, সমাজ তথা দেশের পট পরিবর্তনে তরুণ সমাজের ভূমিকা রয়েছে। আমাদের সবচেয়ে গৌরবান্বিত অর্জন স্বাধীনতা আর স্বাধীনতার সাথে জড়িত মুক্তিযোদ্ধারাই বেশি সম্মানিত। মুক্তিযোদ্ধার ছেলে-মেয়েদের চাকরির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেয়া হয়। কিন্তু দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের অবদান কম কোথায়? পড়াশুনার শেষপর্যায়ে সবারই প্রত্যাশা একটি ভালো চাকরি আর সেই ক্ষেত্রেই যদি তারা নানাভাবে অবহেলিত হয় তাহলে দেশের তিনকোটি বেকার ও ৪৭% যে শিক্ষিত বেকার রয়েছে তাদের অবস্থা কি হবে? তরুণ সমাজের জন্য মেধা বিকাশের পর্যাপ্ত সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে হতাশা কিছুটা হলেও লাঘব করা সম্ভব।
আম্বিয়া খাতুন
বি.এড (অনার্স) ১ম বর্ষ
সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, ঢাকা।
০০০০০০০০
একমাত্র তরুণ সমাজই পারে
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও দেশে সুষ্ঠু সুন্দর সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে
আজকের অনেক তরুণ তাদের উপরস্থ এক শ্রেণীর ভাই যারা সমাজের শত্রু, দেশের শত্রু তাদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। এতে করে ঐ তরুণ সমাজ বুঝে উঠতে পারছে না তার অবস্থান সম্পর্কে। কেননা সে কোন না কোন অন্ধ লোভের মোহে জড়িত হয়ে পড়েছে। আর এই অন্ধ মোহ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য চাই তরুণ প্রজন্মের তারুণ্য, একাত্মতা ও সাহসিকতা। তার পাশাপাশি ঐ ভাইদের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা যারা তাদের ভুল পথে নিয়ে যাচ্ছিল। অন্যথায় তরুণ সমাজ হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে অকালেই। অনেক তরুণ রয়েছে যারা বেশি স্বাধীনতা পেয়ে বা বাবা-মায়ের অন্তরালে থেকে খারাপ বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে নিজে ধ্বংস করে দিচ্ছে। আবার কোন কোন তরুণ বেশি শাসনের ফলে একটা সুযোগ পেয়েই নষ্ট হয়ে যায়। এক্ষেত্রে প্রত্যেক বাবা-মারই মনে রাখতে হবে তার সন্তানের যতটুকু স্বাধীনতা প্রয়োজন তা নিশ্চিত করা। অপরপক্ষে প্রত্যেক তরুণকে চিন্তা করতে হবে তারা তাদেরকে নষ্ট করতে পারে কিন্তু তার বাবা-মায়ের সন্তান ও তাদের অধিকারকে ক্ষুণ্ন করার কোন সুযোগ তাদের নেই। আর এজন্য চাই তরুণ সমাজের সদিচ্ছা ও সুচিন্তা-ভাবনা। তাকে ভাবতে হবে কোন বাবা-মাই চান না তাদের সন্তান ভুল পথে পরিচালিত হোক। তারা তাদের জীবন দিয়ে হলেও সন্তানের সুখ প্রার্থনা করেন।
তরুণ সমাজ কখনোই হতাশ নয়, হতাশ হলে চলবে না। উদ্যম, সাহস, চাঞ্চল্য, তারুণ্য, দুর্বার গতির সাথে সামনে এগিয়ে যেতে হবে আর সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
মো. আব্দুল গফুর
লেভেল-২, সেমিস্টার-১
সম্মান, মত্স্য বিজ্ঞান
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।
তরুণদের হতাশ হবার
পেছনে দেশের
অপরাজনীতিই দায়ী
আমি একজন তরুণ। আমি বলব তরুণরা আজ হতাশ। আর হতাশার কারণেই তারা জীবনের পথ হারাচ্ছে। আজ কলেজে যাচ্ছে, গিয়ে দেখে অপরাজনীতি, ভাল ডিগ্রী অর্জন করেও চাকরি পাচ্ছে না, বেকারত্বের অভিশাপ, রাস্তাঘাটে লুটপাট, মাদকের সমাহার— কি করবে তরুণরা? একদিনে নয়, দু’দিনে নয়, তিনদিনের মাথায় বাধ্য হয়ে করতে হচ্ছে ছাত্রজীবনে রাজনীতি, মাদকদ্রব্য সেবন, সন্ত্রাসী ইত্যাদি। আর সুন্দর জীবনের পথ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে সুন্দর জীবন, আশা ভেঙ্গে যাচ্ছে মা-বাবার, তলিয়ে যাচ্ছে দেশ। যে সময় তাদের উচিত লক্ষ্য নিয়ে কাজ করার, স্বপ্ন নিয়ে বাঁচার, দেশের সম্পর্কে জানার সেই সময়ে হতাশ হওয়া মারাত্মক একটা ব্যাধি। তাই সর্বশেষে বলতে চাই তরুণদের হতাশ হওয়ার পিছনে দেশ ও দেশের মানুষের প্রভাব রয়েছে। দেশ ও দেশের মানুষ এমনকি সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।
রুবেল মিয়া
বিএ অনার্স (১ম বর্ষ) দর্শন বিভাগ
আনন্দমোহন কলেজ, ময়মনসিংহ।
০০০০০০০০০
তরুণ সমাজ
আজ হতাশ— এটা
বললে ভুল হবে
“হতাশ” হত যে আশা। এই ক্ষেত্রে “হত” শব্দটি গুরুত্ব বহন করে। ‘আহত’ না ‘নিহত’? আশাকে নিহত হতে দেয়া যাবে না। আহত হলেও সারিয়ে তুলতে হবে। আমাদের কিছু তরুণের আশা-আকাঙ্ক্ষা এখনও আত্মকেন্দ্রিক। দেশকে নিয়ে হতাশা তখনই তো আসে, যখন আমরা দেশ থেকে কিছু আশা করি। আর, দেশ তো গঠিত হয়, তার জনগণকে নিয়েই। অর্থাত্ আমাদের নিয়ে। হ্যাঁ, এক্ষেত্রেও আমরা কেউ কেউ আমার দেশের নীতিভ্রষ্ট আদর্শ দ্বারা চালিত হই। তাই আদর্শ হতে হবে যথাযথ এবং অবশ্যই দুর্নীতিমুক্ত। তা যদি নাও হয়, তখন আমাদের তরুণ সমাজকে চালিত হওয়া থেকে সরে আসতে হবে, হতে হবে নিজেই নিজের চালক। আর তার মধ্য থেকেই আমরা হয়ে উঠবো পরিবার, সমাজ সর্বোপরি রাষ্ট্রের অন্যতম নির্ভরতা। বর্তমান ভালো কাজের ভবিষ্যত্, ভালো নাকি খারাপ হবে, তা চিন্তা না করে আমাদের উচিত ভালো কাজ করে যাওযা। ভালো কাজ কখনোই খারাপ ফলাফল দেয় না। হয়ত প্রসঙ্গত নয়, তবু বলতেই হচ্ছে, যারা মনে করেন বর্তমান রাজনীতি খারাপ, রাজনীতিবিদরা ভুল পথে হাঁটছে, বাস্তবে তা নয়। আমার এই কথার সত্যতার প্রমাণ, গত ৪৩ বছরে আমরা রাষ্ট্রীয়ভাবে যতটা উন্নতি করেছি, ততটা উন্নতি স্বাধীনতার পর এত স্বল্প সময়ে খুব কম রাষ্ট্রই করতে পেরেছে। তরুণ সমাজের মনে রাখতে হবে, তার উন্নতিটা যেন হ্যাঁ-বোধক ও জাতির অগ্রগতির সহায়ক হয়।
সুজয় মল্লিক
আইন ও মানবাধিকার বিভাগ
(সম্মান) ১ম বর্ষ।
ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক।