প্র জ ন্মে র ফে স বু ক

ডোনা’স ক্রিয়েশন

ছোটবেলা থেকেই তিনি খুব ফ্যাশন সচেতন, তাই তার ইচ্ছা ছিল বড় হয়ে ফ্যাশন ডিজাইনিং, ফটোগ্রাফি, পেইন্টিং নিয়ে কাজ করবেন। আর স্কুলজীবন থেকেই নিজের কামিজ, ফতুয়া আর টি-শার্টে পেইন্ট করতেন লালন, প্রকৃতিকে। অথবা কোনো কাপড় কেটে নিজ হাতেই সেলাই করে ফেলতেন নতুন কোনো ডিজাইনে। কামিজ পরে যখন কলেজে যেতেন তখন সবাই খুব প্রশংসা করত। আর উত্সাহ দিত। অর্ডারও পেতেন। মনের আনন্দ আর মনের রঙে রাঙিয়ে হঠাত্ করেই নতুন কিছু একটা তৈরি করে ফেলতেন। এভাবেই শুরু হয়। তিনি হলেন ডোনা’স ক্রিয়েশন-এর কর্ণধার পাটচি ডোনা গোমেজ। তিনি কখনই কমন জিনিস পছন্দ করতেন না। নরমাল একটা কাপড়ে কিছু এঁকে ডিজাইন যুক্ত করে বা কাপড় যোগ করে আনকমন করতে পারতেন তিনি। কয়েকবার এমন হয়েছে যে তার ডিজাইন করা কোনো কাপড় বা ফতুয়া পরে তিনি কোনো ব্র্যান্ডের শোরুমে গিয়েছেন তখন ওরা জানতে চেয়েছেন তিনি ড্রেসটা কোথা থেকে কিনেছেন বা কোথা থেকে বানিয়েছেন। অনেকে কাজ করার অফার দিলেও তিনি কাজের জন্য সময় দিতে পারেননি। এভাবেই কলেজ জীবনে চিন্তার যাত্রা শুরু। হলি ক্রস কলেজ থেকে এইচএসসি ও ঢাকা সিটি কলেজ থেকে অনার্স ও এমএ করার পর ফেসবুকে তার যুক্ত হওয়া হঠাত্ করেই। দুই বছর আগে পেজ খোলেন। সে সময় তিনি লক্ষ করেন, যারা কলেজ লাইফে তার কাস্টমার ছিল তারা তাকে খুঁজে বের করে কাজের অর্ডার দিচ্ছেন। এরপর থেকে তাই সিরিয়াসলি কাজ করতে শুরু করলেন এবং ধীরে ধীরে লোকজন জানতে থাকল ও কাজের চাপও বাড়তে থাকল। ওয়েস্টার্ন ওয়েডিং গাউন, পার্টি ড্রেস, প্রম ড্রেস, ব্রাইডাল এক্সেসরিস, নেকলেস ইত্যাদি নানা ধরনের জিনিসপত্র বিক্রি করেন তিনি। তার অনলাইন শপের এসব জিনিসপত্র বাইরের দেশ থেকে আনা বলে জানালেন তিনি। এছাড়া সালোয়ার-কামিজ, শাড়ি, ফতুয়া, টপস, পার্টি কামিজ ইত্যাদি দেশি ও বিদেশি জিনিসপত্র পাওয়া যায় তার কাছে। তাছাড়া কিছু বিশেষ ওয়েডিং গাউন তিনি ভাড়াতেও দেন। সংসার আর বুটিকের কাজে অনেক ব্যস্ত থাকতে হয় তাকে। তবে ঘরে বসে সময় দিতে পারেন বলে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন বলে জানালেন তিনি। তরুণদের যারা স্বাধীনভাবে ও বেশি ঝামেলা ছাড়া কাজ করতে চান তারা এই পেশায় যুক্ত হতে পারেন বলে জানালেন তিনি। তিনি স্বপ্ন দেখেন ঢাকার একটি সুন্দর লোকেশনে ডোনা’স ক্রিয়েশনের একটি শো-রুম হবে।