তরুণ সমাজ কি হতাশ
প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০১৪, ২১:১৯
আজ তরুণ
সমাজের অপর
নামই হতাশ
দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হলে সকল দুঃখ, হতাশা পরিত্যাগ করে দেশের উন্নয়নের জন্য সবাইকে এসব ভুলে কাজ করতে হবে। এখনকার সময়ে একটা ছেলেকে এইচএসসি পাস করতে কতটা সময় পোহাতে হয় এবং কত কষ্ট করে ভাল একটা রেজাল্ট করতে হয় তারপরেও ভাল একটা যোগ্যতাসম্পন্ন চাকরির সন্ধান খুঁজে পাওয়া যায় না। একটা ছেলে এইচএসসি পাস করার পর যদি সে কাপ ধোয়ার চাকরি করে তাহলে কি করার আছে আজ আমাদের? পড়াশুনা করে একদিন আমরা বড় হব এই আশাতেই বাবা-মা আমাদেরকে স্কুলে পাঠান, কষ্ট করে পড়াশুনা করান আর এগুলো দেখেই আজ আমরা হতাশায় ভুগি। তাহলে বলতেই হয় আজ তরুণ সমাজের অপর নাম হতাশ।
সেলিম রেজা শিমুল
আইইউব্যাট, ঢাকা
০০০০০০০০০০০
তরুণ সমাজ যেভাবে
বেকারত্ব বরণ করছে হতাশ
না হওয়ার উপায় নেই
একটা জাতির আগামীদিনের মূল্যবান সম্পদ তরুণরা। তাদের পথভ্রষ্ট হলে চলবে না। দেশের বৃহত্ স্বার্থে তাদের কাজ করতে হবে। সকল বাধাবিপত্তি, অপসংস্কৃতি, দুর্নীতি, অপকর্ম পরিহার করতে হবে। তেমনিভাবে বর্তমানেও পরাজয়ের ভয় না করে যাবতীয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতেই হবে। এদেশের শিক্ষিত মেধাবী তরুণ সমাজ যেখানে দেশ ও জাতির উন্নয়নে কাজ করার কথা কিন্তু সেখানে তারা আজ কর্মসংস্থান ও সঠিক মেধার মূল্যায়নের অভাবে বেকারত্ব বরণ করে জাতির বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যা তরুণ সমাজকে ভাবিয়ে তোলে।
রাকিবুল হাসান চয়ন
এআইইউবি, ঢাকা
০০০০০০০০০০০
তরুণ সমাজ
কখনো হতাশ
হতে পারে না
অমুক কোটা, তমুক কোটা যেভাবে মহামারি আকার ধারণ করছে তাতে মনে হচ্ছে অনেকে বাধ্য হয়ে অসত্ পথ অবলম্বন করতে পারে। যাই হোক, কেউ কেউ আবার এর মাঝেই দুঃখ-হতাশাকে হজম করে, প্রেরণাকে ধারণ করে শুধুই সামনে যাওয়ার প্রহর গুণে। এই ধারা অব্যাহত থাকুক- এটাই আমাদের প্রত্যাশা। তারুণ্য হলো বন্ধুর পথ। এ ক্ষেত্রে তাকে ঝুঁকি নিতেই হবে। তরুণরা জাতির কর্ণধার। তরুণ সমাজ তাদের ধৈর্য এবং একতাবদ্ধ হয়ে অনেক কল্যাণকর অর্জন বয়ে এনেছে জাতির জন্য। ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ প্রতিটি দুঃসাহসিক কর্মে স্বাক্ষর রেখেছে তরুণ সমাজ। বিভিন্ন সময়ে ন্যায্য দাবি আদায়ে রাজপথে নেমেছে এই তরুণ সমাজ। তারা হতাশ হবে কেন? তারা কখনো হতাশ হতে পারে না।
আতিকুল ইসলাম সোহান
প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটি, ঢাকা
০০০০০০০০০০
রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার
কারণে তরুণ সমাজ
আজ হতাশ
যে দেশের শতকরা ৩০ জন শিশুকে অন্ন বস্ত্র বাসস্থান শিক্ষা ও চিকিত্সার ন্যূনতম অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে বড় হতে হয় সে দেশের শিশুরা কি করে প্রাণবন্ত তরুণে রূপ দেবে। জন্মের পর থেকেই বৈষম্য, অসাম্য ও অবহেলার শিকার এসব তরুণেরা ভেতরে ভেতরে একটি চাপা ক্ষোভ লালন করতে থাকে। এই ক্ষোভই পরবর্তীতে রূপ নেয় নানা অসঙ্গতিপূর্ণ আচরণে। শৈশব-কৈশোরে আধাপেটা খেয়ে বেড়ে উঠা, বই-পুস্তক নিয়ে স্কুলে যাওয়ার বয়সে কর্মজীবী মানুষে রূপান্তরিত হওয়ার বিড়ম্বনা যাদের আছে তারা কেমন করে হতাশাবিহীন তরুণে রূপ নেবে? আমাদের তরুণদের আমরা বড় করতে চাই, ভালো করতে চাই, চাই সোনার মানুষ করতে। রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলতার কারণে ছাত্র তরুণ সমাজ আজ হতাশাগ্রস্ত। দেশের প্রায় সকল পোশাক শিল্পেও তরুণ সমাজ আজ হতাশ, বিশৃঙ্খলতার কারণে। সবমিলিয়ে বলা যায়, রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার কারণে তরুণ সমাজ আজ হতাশ।
তাওফিক আহমেদ (তুহিন)
বিবিএ (১ম বর্ষ)
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা, বাংলাদেশ।
০০০০০০০০০০
অপহরণ নিয়ে
তরুণ সমাজ
শঙ্কিত
আজ আমরা এমন অবস্থায় উপনীত হয়েছি যে মা তার মেয়েকে স্কুলে একা পাঠাতে ভয় পায়। বাবা তার ছেলেকে স্কুলে পাঠাতে ভয় পায় কিন্তু কেন? সবার মনে প্রশ্ন জাগে। দেশে আপাতত হরতাল-অবরোধ নেই। ব্যবসা-বাণিজ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। ঠিক এমন সময় দেখা যাচ্ছে অপহরণের মত ঘটনা। কে বা কারা অপহরণকারী দলের সঙ্গে জড়িত প্রশাসন তা বের করতে পারেনি। এ নিয়ে জনসাধারণ থেকে শুরু করে আজকের তরুণ সমাজ খুবই শঙ্কিত। কিছুদিন আগে গার্মেন্টস ব্যবসায়ী আবু বকর সিদ্দিককে দিন-দুপুরে অপহরণ করা হয়েছিল। কিন্তু নাটকীয়ভাবে ৩৫ ঘণ্টা পর তাকে ছাড়া হল। তাকে কেন ছাড়া হল আবার কেন অপহরণ করা হল। এখানে প্রশ্ন থেকে যায়। গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ৩১ জন অপহরণের শিকার হন তার মধ্যে ২৩ জন এখনও নিখোঁজ। লাশ হয়ে ফিরেছে ১২ জন। এমতাবস্থায় সরকার ও বিরোধী দলের প্রতি আশা থাকবে আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত ও সম্পন্ন করার ব্যবস্থা নিলে তরুণ সমাজ থেকে শুরু করে জনসাধারণ উদ্বেগমুক্ত হবে।
সুমন আহমেদ (বিবিএ)
ফজলুর রহমান হল
সিটি ইউনিভার্সিটি সাভার, ঢাকা।