উত্তাপ টের পাচ্ছেন মুলার

মাত্র মাস দুয়েক আগেও পরিস্থিতিটা ছিল ভিন্ন। জার্মান গণমাধ্যম তো বটেই সারা ফুটবল বিশ্বই মুখর ছিল অপ্রতিরোধ্য বায়ার্ন মিউনিখের প্রশংসায়। তবে সেই অপ্রতিরোধ্য রূপটি হারানোর সাথে সাথেই পাল্টে গেছে সমীকরণও। সাত ম্যাচ হাতে রেখে বুন্দেসলিগা শিরোপা জেতা দলটিকেই কিনা শুনতে হচ্ছে ‘ধার হারিয়ে ফেলার’ অপবাদ। আগামীকাল রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে জিততে না পারলে সমালোচনার সেই বাতাস যে আরো তীব্র হবে সেটা বুঝতে পারছেন জার্মান জায়ান্টদের অন্যতম ভরসা টমাস মুলারও। ওয়ার্ডার ব্রেমেনের বিরুদ্ধে গত শনিবার সর্বশেষ লিগ ম্যাচে ৫-২ গোলে পাওয়া জয়ের পর মুলার বলেন, ‘আমি এই ম্যাচ নিয়ে কিছু বলতে চাই না। কারণ, যে ম্যাচটার উপর সবকিছু নির্ভর করছে সেটা আগামী মঙ্গলবার। সে পর্যন্ত ক্লাবের সর্বপর্যায় থেকে আমরা সমর্থন চাই। বিশেষ করে গণমাধ্যমের কাছ থেকে। আমরা সবাই জার্মান। আমার মনে হয় আমরা যদি মঙ্গলবার জিততে না পারি তারপর সবাই মিলে আমাদের চেপে ধরবে। তবে তার আগ পর্যন্ত আমাদের সবার সমর্থন যুগিয়ে যাওয়া উচিত।’ মৌসুমের শুরু থেকে প্রায় অপ্রতিরোধ্য গতিতেই এগোচ্ছিল বায়ার্ন। বুন্দেসলিগার ২৪তম রাউন্ড শেষে বায়ার্নের গোলসংখ্যা ছিল ৭২। অর্থাত্ ম্যাচ প্রতি তিন গোল! শীতকালীন ছুটির পর প্রথম বারটি লিগ ম্যাচে এই সংখ্যাটা ছিল ৪০! আর যে কোন প্রতিযোগিতা মিলে সর্বশেষ দশ ম্যাচে দলটি প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠিয়েছে ৩১ বার! সাত ম্যাচ হাতে রেখেই বুন্দেসলিগার শিরোপা নিশ্চিত করা ব্যাভারিয়ানরা কি দুর্দান্ত ফর্মে ছিল সেটা বোঝাতে বোধহয় এই তথ্যগুলোই যথেষ্ট। ছিল বলতে হচ্ছে একারণে যে, গত লিগ শিরোপা নিশ্চিত হবার পরই যেন ধার হারাতে থাকে পেপ গার্দিওলার দল। ঘরের মাঠে গত মাসের শেষ দিকে হফেনহেইমের সাথে ৩-৩ গোলে ড্র করার পর ওল্ড ট্রাফোর্ডে ইউনাইটেডের সাথে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালেও তারা ড্র করে। পয়েন্ট খোয়ানোর এই ধারাবাহিকতায় পরের ম্যাচে হেরেই বসে তারা। টেবিলের মাঝামাঝি থাকা অগসবার্গের মাঠে তারা হেরে যায় ১-০ গোলে। এটা ছিল বুন্দেসলিগায় ২০১২’র অক্টোবরের পর প্রথম হার। আর এই হারের ফলে যে কোন প্রতিযোগিতা মিলে বায়ার্নের ৫৩ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ডে ছেদ পরে। এরপর বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের কাছে তাদের মাঠে ৩-০ গোলে হারে বায়ার্ন। মাঝে অবশ্য ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে নিজেদের মাঠে হারিয়ে শেষ চারে পা রাখে দলটি। বায়ার্নের সর্বশেষ হারটি আসে রিয়ালের বিরুদ্ধে সেমির প্রথম লেগে। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে গত সপ্তাহে ১-০ গোলে ঐ হারের ফলে গত পাঁচ বছরে চতুর্থবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল খেলতে এখন নিজেদের মাঠে জয়ের কোন বিকল্প নেই বায়ার্নের। ব্রেমেনের বিরুদ্ধে সর্বশেষ ম্যাচেও দুই বার পিছিয়ে পড়েছিল তারা। এমন পারফরম্যান্স যে রিয়ালের মতো বড় শক্তির বিরুদ্ধে জয়ের জন্য যথেষ্ট নয় সেটা মানছেন গার্দিওলাও। হতাশ এই স্প্যানিশ বলেন, ‘প্রথমবারের মতো আমি হতাশ হলাম। প্রথমার্ধে আমরা যেমনটা খেলেছি সেটা সমর্থকদের মোটেই প্রাপ্য ছিল না। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য আমরা ঘুরে দাঁড়াই। মাদ্রিদের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে এটা আমাদের মানসিকভাবে এগিয়ে নেবে। কিন্তু সেটা হবে একেবারেই ভিন্ন একটা ম্যাচ। তবে খেলোয়াড়দের উপর পরিপূর্ণ আস্থা আমার আছে। সবাই মিলে কাজটা করতে পারবো বলেই আমার বিশ্বাস।’