উন্নয়নের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হল অভিবাসন
প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০১৪, ২২:২৮
অভিবাসন বিষয়ে বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের আন্তর্জাতিক সম্মেলন আজ সোমবার ঢাকায় শুরু হচ্ছে। ২০১৫ সাল পরবর্তী টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডা বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের এই সম্মেলন আজ সকালে স্থানীয় একটি হোটেলে অনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুদিনের এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে প্রায় ৬০টি দেশ এবং ২০টি আন্তর্জাতিক ও সিভিল সোসাইটি সংস্থার শতাধিক প্রতিনিধি ইতিমধ্যে ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন। ‘উন্নয়নের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হচ্ছে অভিবাসন’— এই প্রতিপাদ্যকে ভিত্তি করে বিশ্বব্যাপী উন্নয়ন পরিকল্পনা ও প্রক্রিয়ায় অভিবাসনকে সম্পৃক্ত করার তাগিদ থেকে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হচ্ছে বলে উদ্যোক্তারা জানান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনক্লস সম্মেলন কক্ষে গতকাল রবিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সম্মেলন সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করা হয়।
পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন। এছাড়া প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. খন্দকার শওকত হোসেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক রিয়াজ হামিদুল্লাহ, জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের উপস্থায়ী প্রতিনিধি মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের উপ মিশন প্রধান মিস ক্যারোলিন ট্রটুইলার সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনে জানানো হয়, সুইজারল্যান্ড ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অভিবাসন সম্মেলনে আফগানিস্তান, অষ্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, ফ্রান্স, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ডসহ প্রায় ৬০টি দেশের বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধিরা যোগ দিচ্ছেন।
সম্মেলনে পাঁচটি খাতকে অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা, কর্মসংস্থান ও সমতা। বিশ্বের ২৫০ মিলিয়ন লোক অভিবাসী শ্রমিক হিসেবে কর্মরত। যারা বছরে চারশ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ রেমিটেন্স হিসেবে পাঠিয়ে থাকে। অভিবাসন দ্বারা কেবল প্রেরণকারী নয়, গ্রহণকারী দেশও উপকৃত হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক দরবারে বিশেষ করে জাতিসংঘ ও এর অধীনস্থ সংস্থাগুলো উন্নয়ন বিতর্কে অভিবাসনকে অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছে। আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মহাসচিব বান কি মুন অভিবাসন ইস্যুতে বিশেষ রিপোর্ট পেশ করবেন।