খেতে ভালো না লাগলে

খিদা লেগেছে অথচ টেবিলে সাজানো হরেক পদের খাবার দেখলেই যেন রাজ্যের অনীহা এসে উপস্থিত হয় আপনার মনে। আবার অনেক সময় খেতে বসে সবটুকু খাবার না খেয়েই উঠে পরেন অনীহাবশত। আর খাবারের প্রতি এই অনীহাটাকেই বলা হয় ‘ইটিং ডিজঅর্ডার’। খাদ্যে অরুচির এই সমস্যা সমাধানের কথা নিয়ে আজকের আয়োজনটি লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম খাবার টেবিলে বসলেই কেমন যেন মন উদাস করা একটা অলসতা পেয়ে বসে আপনাকে। কিংবা আয়েশ করে খাবার টেবিলে বসেই হয়তো সাত তাড়াতাড়ি পাট চুকানোর মতো একটা হুড়োহুড়ি বেঁধে যায় আপনার। এ কারণে ঠিক যতটা খেলে শরীর ভালো থাকার কথা আপনার শরীরে হররোজ প্রবেশ করে তার চাইতেও বেশ খানিকটা কম খাবার। ‘ইটিং ডিজঅর্ডার’-এ যাদের অবস্থান এই দলে তাদের প্রথমেই মন বসাতে হবে খাবার টেবিলে। এক্ষেত্রে যদি বাসার ফুড মেন্যু আপনার একেবারেই না-পছন্দ হয় তাহলে প্রথমেই পরিবর্তন আনতে হবে এই জায়গাটাতেই। প্রথম অবস্থায় পুষ্টির দিকে না তাকিয়ে শুধুমাত্র ভালোলাগার খাবারগুলো বেশি বেশি খেয়ে খাদ্যের প্রতি আপনার আগ্রহ বাড়িয়ে তুলুন। সেই সাথে প্রতিদিনকার খাবার সময়ও একটা রুটিনের মধ্যে নিয়ে আসুন। কিছুদিন চলার পর যখন এই অভ্যাসটা রপ্ত হয়ে যাবে তখন আস্তে আস্তে খাবার তালিকায় যোগ করুন পুষ্টিকর ও সুস্বাদু খাবার। এছাড়া খাবার সময় টিভি দেখা বা অহেতুক গল্প করে করে খাবারের দিক থেকে মনোযোগ সরিয়ে নেওয়ার মতো বদভ্যাসগুলোও দূর করুন। অন্যদিকে যাদের ধূমপানের বদভ্যাস আছে তারা খাবার একঘণ্টা আগ থেকে শুরু করে খাবার আধঘণ্টা পর সিগারেট খাবেন না। এমনকি কোনো মানসিক বা শারীরিক অস্বস্তির কারণে খাবার গ্রহণে অনীহা দেখা দিলে সেটিও চিকিত্সক বা মনোচিকিত্সকের দ্বারস্থ হয়ে দ্রুত সমাধান করতে হবে। খাবারের প্রতি অনাগ্রহ কাজ করার পেছনে অনেক ক্ষেত্রে বেড়ে ওঠার প্রক্রিয়াটিও বড় ভূমিকা রাখে। কাজেই আপনার ঘরে যদি বাড়ন্ত শিশু থাকে তবে তাকে অবশ্যই ছোটবেলা থেকে আগ্রহ নিয়ে খাবার গ্রহণের প্রশিক্ষণ দিন। বাচ্চা একেবারেই খেতে চায় না এই অজুহাতে বাচ্চাকে দিনের পর দিন মুখে তুলে না খাইয়ে মাঝে মাঝে ওকে ওর মতো করে খেতে দিন। বড়দের সাথে সাথে ওকেও বসান খাবার টেবিলে। শিশুর জন্য আলাদা প্লেট, গ্লাসের বন্দোবস্ত করে তাকেও খাবারের প্রতি আগ্রহী করে তুলুন। মানুষ অপরিকল্পিত ডায়েটিংয়ের মাধ্যমে তার ওজন মাত্রাতিরিক্ত কমিয়ে ফেলেন, মোটা হওয়ার ভয়ে খাবার দেখলেই ভীত অনুভব করেন বা কম খাবার কারণে মাথাব্যথা, পেশির দুর্বলতা, অবসাদ ইত্যাদি রোগে ভোগেন তখন তাকে এই শ্রেণীর বলে ধরে নেওয়া হয়। এক্ষেত্রে সংকট নিরসনে প্রথমেই স্পষ্ট ধারণা অর্জন করতে হবে ডায়েটিং এবং হেলদি ডায়েট বিষয়ে। শুধু কম খাওয়াটাই যে মুটিয়ে যাওয়া প্রতিরোধের মোক্ষম দাওয়াই নয় এটা আত্মস্থ করতে হবে। উচ্চতার বিপরীতে কতটা ওজন আপনার জন্য মানানসই সেটি ঠিকমতো জেনে তারপর ডায়েট নির্ধারণ করতে হবে। তাছাড়া যদি শরীরে কারণে-অকারণে মেদ জমার প্রবণতা দেখা যায় তাহলে অনর্থক কম খেয়ে নিজেকে দুর্বল না বানিয়ে চেষ্টা করতে হবে পরিশ্রমের মাধ্যমে কিছুটা হলেও ক্যালরি পুড়িয়ে নিজেকে ফিট রাখার। যেখানে সুস্থ আর নিরোগ থাকাটাই সবচেয়ে বড় কথা সেখানে খানিকটা হালকা-পাতলা শরীর নিয়ে দুশ্চিন্তা না করাটাই উত্তম। তবে শরীরের ওজন যদি মাত্রাতিরিক্ত কম হয় তাহলে অহেতুক বাড়তি ডায়েটের দিকে না ঝুঁকে নিউট্রিশিয়ানের পরামর্শ অনুযায়ী শরীরের চাহিদানুযায়ী ডায়েট চার্টে পরিবর্তন আনতে হবে। অন্যদিকে যারা সারা সপ্তাহজুড়ে ডায়েট চার্ট মেনে চললেও হুট করে কোনো বিয়ে বাড়িতে বা ফাস্টফুডের দোকানে গিয়ে অতিরিক্ত খেয়ে হাঁসফাঁস করেন তারাও কিন্তু অন্য ঘরানার ‘ইটিং ডিজঅর্ডার’-এ ভোগেন। ‘বিনজ ইটিং ডিজঅর্ডার’ নামের এই ডিজঅর্ডার থেকে নিজেকে মুক্ত করতে হলে শুধুমাত্র মানসিকতার পরিবর্তনটাই যথেষ্ট। চোখের ক্ষুধার পরিবর্তে পেটের ক্ষুধার প্রতি মনোযোগী হওয়া, বুফেতে গিয়ে একসাথে সব আইটেম খাবার মানসিকতা পোষণ না করা কিংবা ফ্রি পেলে যত পার তত খাও টাইপের আচরণ সংবরণের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারাটাই যথেষ্ট। এছাড়া নির্দিষ্ট কিছু খাবারের প্রতি অনীহা বা অতিমাত্রায় স্বাস্থ্য সচেতন হয়ে স্বাদের দিকে খেয়াল না রেখে শুধুমাত্র নির্ধারিত কিছু খাদ্য গ্রহণের মতো ব্যতিক্রমী ইটিং ডিজঅর্ডারে যারা ভোগেন তাদেরকেও নিউট্রিশিয়ান বা ভালো কোনো কাউন্সিলরের সহায়তা নিয়ে সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট হতে হবে।