জমে উঠলো লড়াই

ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন নিষপ্রভ। লিভারপুলের বিপক্ষে ম্যাচ নয় বরং চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনাল নিয়েই যত কথা বলেছেন। কিন্তু ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচটিকে ঘিরেও যে যথেষ্ট হোমওয়ার্ক করা ছিল মরিনহোর সেটার প্রমাণ মিললো মাঠেই। অ্যানফিল্ডে অল রেডদের সাধারণে নামিয়ে এনে চেলসি জিতে গেল ২-০ ব্যবধানে। আর পরের ম্যাচেই কার্ডিফ সিটিকে ২-০ গোলে হারানোর পর এখন লড়াই জমে উঠেছে ইংল্যান্ড ঘরোয়া ফুটবলে। শীর্ষে থাকা দল লিভারপুল আগের মত ৮০ পয়েন্টেই আছে। চেলসি দ্বিতীয় অবস্থানে থাকলেও পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮। আর তৃতীয়স্থানধারী ম্যানচেস্টার সিটির পয়েন্ট ৭৭। শিরোপার লড়াইটা এখন এই তিন দলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। মজার ব্যাপার হল, এই তিন দলের মধ্যে সর্বশেষ দল সিটি বাকি দু’দল থেকে একটি ম্যাচ কম খেলেছে। সেক্ষেত্রে বাকি সব গুলো ম্যাচে তিনটি দলই জিতে গেলে চ্যাম্পিয়ন হবে সিটি। তাই এক অর্থে বলা যায়, শিরোপা লড়াইয়ে এখন সিটিই সবচেয়ে এগিয়ে আছে। গোল ব্যবধানেও বাকি দলগুলোর চেয়ে এগিয়ে আছে ম্যানুয়েল পেলিগ্রিনির দল। চেলসি কিংবা লিভারপুলের শিরোপা জয়ের জন্য এখন নিজেদের বাকি ম্যাচগুলো তো জিততে হবে বটেই সাথে সাথে সিটির হারের জন্য প্রার্থনাও করতে হবে। ক্রিস্টাল প্যালেসের মাঠে গত রবিবার ম্যানচেস্টার সিটির জয়ের নায়ক আইভরি কোস্টের তারকা ইয়াইয়া তোরে। একটি গোল করার পাশপাশি অপর গোলেও তার কার্যকর ভূমিকা ছিল। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই সিটিকে এগিয়ে দেন এদিন জেকো। ডান দিক থেকে তোরের দেয়া ক্রসে হেড করে গোলটি করেন বসনিয়ার এই স্ট্রাইকার। বিরতির মিনিট দুই আগে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তোলে। সামির নাসরির পাস পেয়ে ডি বক্সের মধ্যে থেকে বাঁ-পায়ের শটে গোলটি করেন তোরে। দ্বিতীয়ার্ধে কোন গোল হয়নি। এদিকে চেলসির বিপক্ষে ম্যাচে পরাজয়ের কারণ হিসেবে অনেকেই লিভারপুলের অধিনায়ক স্টিফেন জেরার্ডের বাজে পারফরম্যান্সকেই সামনে নিয়ে আসছেন। মাঠের মধ্যে হোঁচট না খেলে হয়তো প্রথম গোলটা কোনভাবেই পায় না চেলসি। কিন্তু অল রেডদের কোচ ব্রেন্ডন রজার্স ব্যাপারটিকে মোটেই এভাবে দেখতে চাইছেন না, ‘এই মানুষটাই ক্লাবকে অনেকবার অনেক বিপদ থেকে বাঁচিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এরকম হোঁচট খাওয়া সত্যি দুর্ভাগ্যজনক। আজ ওর পক্ষে যা করা সম্ভব তার সবটাই করার চেষ্টা করেছে। আর আমরা এখন লিগে যে অবস্থানে আছি তার জন্য বড় কৃতিত্বটা ওরই প্রাপ্য।’