তরুণ সমাজ কি হতাশ
প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০১৪, ২১:০০
তরুণ সমাজের প্রতি
সরকারের দৃষ্টি প্রসারিত
করতে হবে
তরুণরা কখনো হতাশা নামক গ্লানি নিয়ে জন্মগ্রহণ করে না। যারা হতাশ তাদেরকে তরুণ বলে আখ্যায়িত করা যাবে না। তরুণ মানে যে কোন বাঁধ ভেঙ্গে এগিয়ে যাওয়া। তবে তার সুযোগ থাকাটা বাঞ্ছনীয়। তরুণরা একটা দেশের অর্থনীতিসহ সকল সেক্টরকে এগিয়ে নিতে সক্ষম। কিন্তু কালের পরিক্রমায় আজ কিছু কিছু যুবক পথ হারিয়ে বিভিন্নভাবে তাদের জীবনকে ধ্বংসের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এর নেপথ্যে কিছু কারণও আছে বটে। আর তা হল পর্যাপ্ত পরিমাণ কর্মসংস্থানের অভাব। যদি দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয় তবে এই তরুণদের হতাশা সম্পূর্ণরূপে দূর করা সম্ভব। আর এর মূল দায়িত্ব পালন করতে হবে সরকারকে।
মো. রুকনুজ্জামান তাহমিদ
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ (৩য় বর্ষ)
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী
আশা-হতাশার
দোলাচলে তরুণ
সমাজ
তবে আশার দিক হচ্ছে, আমাদের তরুণ সমাজ যথেষ্ট উদ্যোগী, পরিশ্রমী, মেধাবী এবং সৃজনশীল। এসব তরুণদের উদ্ভাবনী ক্ষমতাও উল্লেখ করার মতো। তারা কাজ করতে চায়, কাজ না পেলে তারুণ্যের সম্ভাবনা নষ্ট হবে। ফলশ্রুতিতে রাষ্ট্রে বাড়বে অস্থিরতা এবং অপরাধ প্রবণতা, যেটা আমরা এখন লক্ষ্য করছি। এখন প্রয়োজন সবাইকে উপার্জনমুখী কর্মের দিকে ধাবিত করা। তাদের হূদয়ে সমৃদ্ধ সোনার বাংলার বীজ বুনে দিতে হবে। এই দায়িত্ব আমাদের সমাজ, রাষ্ট্র, সরকার ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের। যোগ্যতাভেদে তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে পারলে সাফল্য সুনিশ্চিত।
মো. ইলিয়াছ মিয়া
১ম বর্ষ ২য় সেমিস্টার, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।
তরুণ সমাজ হতাশ নয়
শুধু প্রয়োজন অনুকূল
সমাজ ব্যবস্থা
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা দেশের অবকাঠামোর জন্য কোন দিক দিয়েই অনুকূলে নয়। দেশের সামাজিক ব্যবস্থার প্রভাব সকল স্তরের মানুষের উপর পড়ে কিন্তু তার প্রভাব বিশেষভাবে পরিলক্ষিত হয় তরুণ সমাজের উপর। কারণ এই বয়সে তারা সমাজের সবকিছুর সংস্পর্শে আসে এবং তাদের সাথে পরিচিত হয়। বাংলাদেশের দুষ্টু রাজনীতি আমাদের তরুণদের উপর বেশ খারাপ প্রভাব সৃষ্টি করেছে। কিন্তু এত প্রতিকূল অবস্থার পরও আমাদের তরুণ সমাজ হতাশ নয়। দেশ স্বাধীন হবার আগে থেকেও আমাদের তরুণ সমাজ সঠিক পথে ছিল এবং এখনও তারা সেই সঠিক পথে রয়েছে। যে কোন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রথমেই তাদের মুখে প্রতিবাদ শুরু হয়। আমাদের তরুণ সমাজ তাদের নিজেদের দায়িত্ব এবং কর্তব্য সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন।
ফাইরুজ আনিকা চৌধুরী
ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ
১ম বর্ষ ২য় সেমিস্টার
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।
অসত্ বন্ধুদের পাল্লায়
পড়ে তরুণ সমাজ
বিপথগামী হচ্ছে
তরুণ সমাজই পারে একটি জাতিকে আলোর পথ দেখাতে। একটি জাতির ভাগ্যাকাশে তখনই সফলতার উজ্জ্বল নক্ষত্র ঝলমল করে যখন তার তরুণরা হয় প্রয়োজনীয় গুণাবলীসম্পন্ন। বর্তমান তরুণ সমাজ প্রযুক্তির স্বর্ণযুগে বাস করছে। প্রযুক্তি একদিকে যেমন তাদের জীবন গঠন করার পথ সুগম করছে, তেমনি অন্যদিকে তাদের চরিত্র ধ্বংস করছে। আমাদের এই সমাজ ব্যবস্থাও তরুণ সমাজের বিপথগামী হওয়ার জন্য দায়ী। অসত্ বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে তারা বিপথগামী হচ্ছে। একটু দুষ্টুমি কিংবা মজা করতে গিয়ে তারা নেশার জগতে পা বাড়াচ্ছে অনায়াসেই। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ব্যাপারে উদাসীন হওয়ার ফলেই এরূপ ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে ব্রোকেন ফ্যামিলির সন্তানরা বেশির ভাগ কুপথে যায়। তরুণ সমাজকে ধ্বংসের পথ থেকে বাঁচাতে সর্বাগ্রে প্রয়োজন নৈতিক শিক্ষা। দ্বিতীয়ত নেশাজাতীয় দ্রব্য ও পর্ণোগ্রাফীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
শরিয়তুল্লাহ, ২য় বর্ষ
সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ, মিরপুর- ১৪।
তরুণ সমাজে
নৈতিকতা জাগিয়ে
তুলতে হবে
তরুণরাই আগামীর কাণ্ডারী। শিক্ষিত তরুণরাই পারে সমাজকে বদলে দিতে। দেশের শিক্ষিত মেধাবী তরুণ সমাজ যেখানে দেশ ও জাতির উন্নয়নে কাজ করার কথা কিন্তু সেখানে তারা আজ কর্মসংস্থান ও সঠিক মেধার মূল্যায়নের অভাবে বেকারত্ব বরণ করে জাতির বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারকেই তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে। এছাড়া সমৃদ্ধ ও সুন্দর দেশ গঠনে তরুণদের সকল অন্যায়, অত্যাচার, পাপাচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে মাদককে ‘না’ বলতে হবে । তরুণদের মাঝে নৈতিকতাবোধ জাগিয়ে তুলতে হবে। তরুণ সমাজের মাঝে নৈতিকতার অভাব রয়েছে।
আফজাল হোসাইন
মাস্টার্স শেষ সেমিস্টার, বাংলা বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।