এশিয়ার বৃহত্তম বটগাছ রক্ষায় সরকারি উদ্যোগ

রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এশিয়ার বৃহত্তম বলে পরিচিত ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার মল্লিকপুরের বট গাছ শ্রেষ্ঠত্ব হারাতে বসেছে। ইতিমধ্যে গাছটি আকার আয়তন সংকুচিত হয়ে পড়েছে। জীব বৈচিত্র্য রক্ষা প্রকল্পের অধীন বন মন্ত্রণালয় এ বট বৃক্ষটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে। এ বট গাছটির বয়স কত তা আশেপাশের গ্রামের লোকজন বলতে পারে না। মুরব্বীদের কাছে শুনেছেন ৩শ’ বছরের বেশি হবে। যে স্থানে মূল বট গাছের উত্পত্তি ওই স্থানের আশেপাশে কুমার সমপ্রদায়ে বসবাস ছিল। সেনদের জায়গায় একটি পাতকুয়া ছিল। কোন পাখি হয়তো কুয়ার উপর বটের বীজ এনে ফেলে। সে বীজ থেকে চারা গজায়। জায়গাটি ছিল জঙ্গলাকীর্ণ। গাছটি আস্তে-আস্তে বেড়ে উঠে এবং বিস্তৃর্ণ জায়গা জুড়ে ফেলে। বাড়তে-বাড়তে এক সময় প্রায় দুই একর জায়গা দখল করে নেয়। পরিচিতি পায় এশিয়ার সর্ববৃহত্ বট গাছ হিসাবে। হিন্দু সমপ্রদায়ের মানুষ গাছের গোড়াতে পূজা অর্চনা শুরু করে। গাছের পাশের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তারা দাদার কাছে শুনেছেন, গাছটি দুই একর জমি জুড়ে ছিল। গাছের পাতা এত ঘন ছিল যে, নিচে সূর্যের আলো পৌঁছাত না। দুর্বৃত্তরা ডাল কেটে নিয়ে যাচ্ছে। দেখাশুনার কেউ নেই। বেশ কয়েক বছর আগে সরকার গাছের পাশে পর্যটকদের থাকার জন্য একটি রেস্ট হাউজ নির্মাণ করে। সেটির দরজা জানালা লুট হয়ে ভূতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে। গাছটি দেখার জন্য প্রতিদিন অনেক লোক আসে।গাছটি বন মন্ত্রণালয়ের সম্পদ। যশোর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জহুরুল আলম জানান, জীব বৈচিত্র্য রক্ষা প্রকল্পের আওতায় মল্লিকপুরের বৃহত্তম এ বট গাছের রক্ষণাবেক্ষণের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বন মন্ত্রণালয়। পাশের জমি হুকুম দখল করে আয়তন বাড়িয়ে তিন একরের বেশি করা হয়েছে। গাছটি আগের অবয়বে ফিরিয়ে আনা হবে বলে তিনি জানান। এ জন্য ১১ লাখ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।