অনলাইন গণমাধ্যমের স্বীকৃতি
প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০১৪, ২১:২৫
সম্প্রতি অনলাইন মিডিয়ার জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে ‘অনলাইন গণমাধ্যম সহায়ক খসড়া নীতিমালা। দীর্ঘদিন ধরে দেশে অনলাইন গণমাধ্যমগুলো
কার্যক্রম চালিয়ে আসলেও এ সংক্রান্ত নীতিমালা ছিল না। এর আগে একবার উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও সেটি আলোর মুখ দেখেনি। এবারে খসড়া
নীতিমালাটি স্বল্প সময়ের মধ্যেই চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে। অনলাইন মিডিয়া নিয়ে এই নীতিমালা সম্পর্কে জানাচ্ছেন ইমদাদুল হক
প্রযুক্তির আবাহনে অনলাইন সংবাদমাধ্যম সম্প্রচার মাধ্যমে সংযুক্ত করেছে নতুন ধারা। বাড়তি খরচ ছাড়াই তাত্ক্ষণিক সম্প্রচার সুবিধা এবং ঘরে-বাইরে প্রতিমুহূর্তের ঘটনাপ্রবাহ জানার সুবিধায় দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে এই মাধ্যমটি। কিন্তু এই মাধ্যমটি সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞায়ন, অবকাঠামো, দায়বদ্ধতা, পরিচালনা পদ্ধতি ইত্যাদি নানা বিষয় না থাকায় অনলাইন সংবাদপত্রের রূপরেখা নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। সব প্রশ্ন আর দ্বিধা ছাপিয়ে অফলাইনকে ছাড়িয়ে নতুন প্রজন্মের কাছে অনলাইন ছড়িয়েছে নতুন দ্যুতি। বিনোদনের পাশাপাশি খবর জানতে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা ঝুঁকে পড়েছেন অনলাইন গণমাধ্যমের দিকে।
কিন্তু এসব মাধ্যমে নেই সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতা প্রমাণের দায়। সেখান থেকে সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিত করে যেন অনলাইন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ পরিবেশিত হতে পারে, সেই লক্ষ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে ‘অনলাইন গণমাধ্যম সহায়ক খসড়া নীতিমালা’। সংবাদপত্র, টেলিভিশন, বেতারের মতো অনলাইনকে শক্তিশালী কার্যকর প্রচারমাধ্যমের সারিতে নিয়ে আসতে এই নীতিমালায় ১৮ দফা প্রস্তাবনার মাধ্যমে প্রণীত হয়েছে ‘অনলাইন গণমাধ্যম পরিচালনা নীতিমালা ২০১২’।
তথ্য সচিব মরতুজা আহমদ বলেছেন, আগামী জুন মাসের মধ্যে এই খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে। আর অনলাইন গণমাধ্যমকে সংবাদ সংস্থা ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করে এখানকার কর্মরতদের বেতনকাঠামো নির্ধারণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, ‘অনলাইন পোর্টালগুলোর মধ্যে যারা গণমাধ্যমের ভূমিকা রাখবে তাদের দায়িত্ব, কর্তব্য এবং মর্যাদা নির্ধারণে এই নীতিমালা কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এতে অনলাইন নিউজপোর্টালগুলোর দায়িত্ব পালন সহজতর হবে।’
প্রেক্ষাপট
অনলাইন গণমাধ্যমগুলোতে একটি জাতীয় নীতিমালার অধীনে নিয়ে আসার উদ্যোগ প্রথম গ্রহণ করা হয় ২০১২ সালে। নামে-বেনামে অনলাইন গণমাধ্যম চালু করা, ভুল ও অসঙ্গতিপূর্ণ সংবাদ পরিবেশন প্রভৃতি কার্যক্রমের প্রেক্ষিতেই এই নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। সে সময় একটি খসড়া নীতিমালাও প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু সে সময় মিডিয়া এবং তথ্যপ্রযুক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট অনেকেই সেই খসড়াকে ডিজিটাল বাংলাদেশের ঘোষণা দেওয়া সরকারের নীতিমালার সাথে সাংঘর্ষিক বলে অভিহিত করেন। এ নিয়ে তত্কালীন তথ্যসচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুনের সাথে এক বৈঠকে সরাসরি এর বিরোধিতা করেন অনলাইন গণমাধ্যমের সম্পাদক এবং প্রতিনিধিরা। ওই নীতিমালাকে তারা নিয়ন্ত্রণ আরোপের একটি মাধ্যম হিসেবে অভিহিত করেন এবং তাতে করে অনলাইন গণমাধ্যমের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে বলে মন্তব্য করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত সে সময় এই নীতিমালা চূড়ান্ত করা যায়নি।
খসড়া নীতিমালায় অনলাইন গণমাধ্যম
অনলাইন গণমাধ্যমের জন্য প্রণীত খসড়া নীতিমালায় অনলাইন গণমাধ্যমের কোনো সংজ্ঞায়ন করা হয়নি। তবে নীতিমালা প্রণয়ন সাব-কমিটির চেয়ারম্যান মোস্তাফা জব্বার জানান, ব্যক্তিগত ব্লগ বা ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যতীত অনলাইন সংবাদপত্র, কমিউনিটি ব্লগ এসবের সবই অনলাইন গণমাধ্যমের আওতাভুক্ত হবে। তিনি বলেন, ‘যারা জনগণকে উদ্দেশ্য করে তথ্য-উপাত্ত প্রচার করে, তারাই গণমাধ্যম হিসেবে পরিচিত হবে।’
অনলাইন গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ নয়, স্বীকৃতি দেওয়ার জন্যই এই নীতিমালার খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এ জন্য অনলাইন গণমাধ্যমের জন্য নামমাত্র মূল্যে লাইসেন্স প্রদান করে সংবাদপত্রের মর্যাদায় উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানান মোস্তাফা জব্বার। অবশ্য তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে সংগৃহীত খসড়া নীতিমালায় এককালীন পাঁচ লাখ টাকায় লাইসেন্স নেওয়া ও প্রতি বছর ৫০ হাজার টাকা দিয়ে তা নবায়নের বিধান রাখা হয়েছে।
সম্প্রচার নীতিমালার ধাঁচে তৈরি এই খসড়া নীতিমালায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক সুরক্ষা, প্রশিক্ষণ, গণসচেতনতা ও বিনোদনের পরিসর বৃদ্ধি এবং সাংস্কৃতিক বিকাশ ও মূল্যবোধ গড়ে তোলার এবং বিশ্বব্যাপী এ সকল বিষয় সম্প্রচারের লক্ষ্যে অনলাইন গণমাধ্যম স্থাপনের জন্য বিভিন্ন প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রনিক মাধ্যম এবং সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে তথ্য মন্ত্রণালয় দরখাস্ত আহ্বান করবে। অফিস অবকাঠামো, মোট জনবল ও নির্ধারিত ব্যাংক ব্যালেন্স, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র, সাংবাদিকতায় অভিজ্ঞতার সনদপত্রসহ যাথযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। গণমাধ্যমের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেতে অনলাইন গণমাধ্যমকে প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআইবি) তালিকাভুক্ত হতে হবে। লাইসেন্স পাওয়ার পর অনলাইন গণমাধ্যমকে বিটিআরসির অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে।
এদিকে বিদ্যমান টেলিভিশন, বেতার বা সংবাদপত্রের জন্য আলাদা করে লাইসেন্স গ্রহণ না করলেও চলবে বলে বিধান রয়েছে এই নীতিমালায়। টেলিভিশন ও বেতার চ্যানেলগুলোর ক্ষেত্রে লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষকে অবহিত রেখে এবং সংবাদপত্রসমূহের ক্ষেত্রে সংশ্লিস্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত রেখে অনলাইন সংস্করণ পরিচালনা করা যাবে বলা হয়েছে খসড়া নীতিমালার ধারায়।
অনলাইন গণমাধ্যমের এই নীতিমালায় কী কী সম্প্রচার করা যাবে বা যাবে না সে সম্পর্কে ১৯টি ধারা থাকলেও সংবাদের নিজস্বতা বজায় রাখার বিষয়ে কোনো ধারা নেই। আবার অনলাইন রেডিও এবং অনলাইন টেলিভিশনের সম্প্রচার বিষয়ক শর্তাবলীও স্পষ্ট নয়।
অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা প্রণয়নে গঠিক সাব-কমিটির চেয়ারম্যান মোস্তাফা জব্বার এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘নিয়ন্ত্রণ নয়, অনলাইন নিউজপোর্টালের গণমাধ্যম হিসেবে রাষ্ট্রীয় পরিচয় নির্ধারণের লক্ষ্যেই আগের প্রস্তাবনা ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে নতুন করে আমরা ছয় সদস্যের সাব কমিটি একটি খসড়া প্রণয়ন করেছি। আগে ছিল নিয়ন্ত্রণ, এখন আমরা স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার আলোকে তৈরি করেছি।’ তিনি বলেন, ‘অনলাইন গণমাধ্যমকে যেন সরকার স্বীকৃতি দেয়, সেই জন্য এই নীতিমালা। আমরা চাই অনলাইন নিউজপোর্টালগুলোও যেন অ্যাক্রেডিশন কার্ড ও সরকারি বিজ্ঞাপন সুবিধা পায়।’
খসড়া নীতিমালা বিষয়ে নতুনবার্তা ডটকম সম্পাদক সরদার ফরিদ আহমদ বলেন, ‘অনলাইন গণমাধ্যমের জন্য নীতিমালার বিপক্ষে নই আমি। আমি চাই একটি নিয়মনীতির মধ্যে আসুক অনলাইন মিডিয়া। তবে সেই নীতিমালা যেন আবার এই মিডিয়ািকে বাধাগ্রস্ত না করে। তথ্যমন্ত্রণালয়ে এই নিয়ে একটি খসড়া জমা দেওয়ার খবর আমরা পেয়েছি। তবে এ বিষয়ে এখনো আমরা ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছি। তবে এখানে অনলাইন গণমাধ্যম পরিচালনায় ব্যক্তির যোগ্যতার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি ইতিবাচক। তবে সেখানে কিছুটা খামতি আছ। হোস্টিংয়ের বিষয়ে অনেকের দ্বিমত আছে। তারপরও বেশকিছু বিষয় এখনও স্পষ্ট নয়। আমি আশা করব, এ বিষয়টি চূড়ান্ত করার আগে এই মুহূর্তে যারা এই অনলাইন গণমাধ্যম পরিচালনা করছেন তাদের নিয়ে একটি মূল্যায়ন বৈঠক করা উচিত। এতে করে সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণে তৈরি নীতিমালায় বিতর্কের অবসান ঘটবে।’
অনলাইন নিউজ পোর্টাল পরিবর্তন ডটকম সম্পাদক লুত্ফর রহমান হিমেল খসড়া নীতিমালাটিতে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন আনায় হয়নি উল্লেখ করে বলেন, ‘প্রণীত অনলাইন গণমাধ্যম পরিচালনা নীতিমালা ২০১২-এর বিতর্কিত বিষয়গুলো অপরিবর্তিত আছে। অনলাইন গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের সাথে না বসেই এটি করা হয়েছে। এতে বর্তমান ‘ডিজিটাল সরকার’-এর ডিজিটালবান্ধব বিষয়টি উপেক্ষিত হয়েছে।’ তবে দেরিতে হলেও হলেও নীতিমালা গ্রহণের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অনলাইন গণমাধ্যমকে মূলধারার সংবাদপত্রের মতো বাজেটে বরাদ্দ রাখা উচিত। প্রিন্টেড পত্রিকাগুলো যেমন কাগজ কেনায় সুবিধা পায়, তেমনি অনলাইন নিউজপোর্টলগুলোর ইন্টারনেট বিল মওকুফ করা উচিত। একইসাথে সরকারি বিজ্ঞাপন দেওয়া উচিত।’
অনলাইন নিউজপোর্টাল বাংলামেইলের বার্তা সম্পাদক আহমেদ জুয়েল নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘খসড়া নীতিমালার বিজ্ঞাপনের বিষয়টি শিথিল করা দরকার। সরকারি বিজ্ঞাপন যেন আমরা পাই সে বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া দরকার।’ তিনি আরও বলেন, ‘লাইসেন্সের ফি বাড়ানো হলে ব্যাঙের ছাতার মতো অনলাইন নিউজ পোর্টাল করে কাট-পেস্ট চালিয়ে এই সেক্টরকে কলঙ্কিত করতে পারবে না। এজন্য খসড়া নীতিমালায় অনলাইন নিউজপোর্টালের জনবল কাঠামোতে সব বিটে কর্মী নিয়োগ বাধ্যতামূলক করা দরকার।’ তিনি আরও বলেন, ‘নীতিমালায় কোনো নিউজপোর্টাল যেন নিজ ডোমেইনেই অন্য কোনো সাইট লিংক না খুলতে পারে এবং মেধাস্বত্ব আইন যেন লঙ্ঘিত না হয় সে বিষয়ে সোচ্চার থাকতে হবে।’
খসড়া নীতিমালার উল্লেখযোগ্য অংশ
এই নীতিমালার অধীনে লাইসেন্স ছাড়া কোনো অনলাইন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠা বা পরিচালনা করা যাবে না।
লাইসেন্সের ফরম বাবদ খরচ অফেরতযোগ্য ৫ হাজার টাকা।
আবেদনকারী কোম্পানিকে অবশ্যই কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর আওতায় নিবন্ধিত হতে হবে।
আবেদনের সঙ্গে ফেরতযোগ্য আর্নেস্টমানি বাবদ দুই লাখ টাকার ব্যাংক ড্রাফট/পে-অর্ডার দিতে হবে। লাইসেন্স দেওয়ার সময় আর্নেস্টমানির এই টাকা জামানত হিসেবে গণ্য হবে। লাইসেন্স পাওয়ার এক বছরের মধ্যে সম্প্রচার কার্যক্রম শুরু করতে হবে। অন্যথায় লাইসেন্স বাতিল বলে গণ্য হবে।
লাইসেন্স নেওয়ার সময় ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে এককালীন পাঁচ লাখ টাকা তথ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে। প্রতি বছর ৫০ হাজার টাকা দিয়ে লাইসেন্স নবায়ন করা যাবে। তবে সরকার প্রয়োজনে লাইসেন্স নবায়ন ফি পুনঃনির্ধারণ করতে পারবে।
সরকারের অনুমোদন ছাড়া লাইসেন্স বা শেয়ার সম্পূর্ণ বা আংশিক হস্তান্তর করা যাবে না। তবে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি করে সরকারি কোষাগারে দুই লাখ টাকা ফি দিয়ে লাইসেন্স বা শেয়ার হস্তান্তর করা যাবে। লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানকে অনলাইন গণমাধ্যমে প্রচারিত বিজ্ঞাপন বাবদ প্রাপ্ত অর্থের দুই শতাংশ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।
অনলাইন গণমাধ্যমের সম্পাদকের শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম স্নাতক/সমমানের এবং সম্পাদক হতে গেলে প্রথম শ্রেণীর পত্রিকায় (সার্কুলেশন ভিত্তিক) দুই বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
অনলাইন গণমাধ্যমের অন্য কোনো দেশি বা বিদেশি গণমাধ্যম লিংক করা যাবে না।
সম্প্রচারিত বিষয়ের কনটেন্ট ৯০ দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে হবে।
অনলাইন গণমাধ্যমকে তথ্য মন্ত্রণালয় বা সরকারের কোনো সংস্থার চাওয়া তথ্যাবলী সরবরাহ করতে হবে।
বিজ্ঞাপন প্রচার সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানসহ প্রতিদিনের মোট প্রচার সময়ের ২০%-এর বেশি হবে না।