কঠিন সময়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ
প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০১৪, ২১:৩৬
এই মাত্র আগের মৌসুমের ঘটনা; বাংলাদেশের ফুটবলের আকাশে রীতিমতো উড়ছিল শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র। লিগ, ফেডারেশন কাপ ও স্বাধীনতা কাপের ‘ট্রেবল’ জেতার পাশাপাশি সুপার কাপের রানার্সআপ হয়েছিল দলটি। কিন্তু মৌসুম বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই শেখ রাসেল এখন নিজেদের হারিয়ে খুঁজছে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে পয়েন্ট তালিকায় ধুকতে থাকা দলটি মান বাঁচাতে সফল কোচ মারফুল হককে বাদ দিয়ে বিদেশি কোচের দিকেও হাত বাড়িয়েছে।
আর এই হ-য-ব-র-ল অবস্থায়ই দলটিকে শ্রীলংকা যেতে হচ্ছে একটি কঠিন পরীক্ষা দিতে। এএফসি প্রেসিডেন্ট কাপ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইপর্বে লড়বে তারা। রবিবার কলম্বোর পথে ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে শেখ রাসেলের।
গতবারের দাপুটে দল শেখ রাসেল এখন পর্যন্ত লিগে পয়েন্ট টেবিলের ৫ নম্বর স্থানে আছে। ছয়-সাত নম্বরে থাকা বিজেএমসি এবং ব্রাদার্স যে কোনো মুহূর্তে ছুঁয়ে ফেলতে পারে শেখ রাসেলকে। তেমন কিছু হলে আসলেই মান বাঁচানো কঠিন হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের জন্য।
কিন্তু এই কঠিন আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ নিতে হবে তাদের। এএফসি প্রেসিডেন্ট কাপের বাছাই পর্বে শেখ রাসেল ‘এ’ গ্রুপে খেলবে। এখানে তাদের প্রতিপক্ষ শ্রীলংকা, পাকিস্তান এবং ভুটানের ক্লাব ফুটবল দল। এই সব দেশের চ্যাম্পিয়ন দলগুলোর বিরুদ্ধে শেখ রাসেল কেমন পারফরম্যান্স করে সেটা নিয়ে তাদের মনের ভেতরে একটা বাড়তি চিন্তা রয়েছে। কোচ খেলোয়াড়রা এমনটাই মনে করছেন।
ক’দিন আগে কোচ ছাঁটাই করে শেখ রাসলে হৈচৈ ফেলে দিয়েছে। বিদেশি কোচ এনে দায়িত্ব দিয়েছে। কোচ ছাঁটাইয়ের পর ক্লাব টেন্টে খেলোয়াড়দের মধ্যে গুমোট ভাব আছে। এখন ক্লাব কর্মকর্তারা খেলোয়াড়দের উপর দায়িত্ব দিয়েছেন শ্রীলংকায় ভালো করতে হবে। দেশের মর্যাদা রাখতে হবে। ভালো করার চ্যালেঞ্জ নিয়ে শেখ রাসেল শ্রীলংকা যাচ্ছে।
চোটের কারণে ডিফেন্ডার মামুন মিয়া ছাড়া ২০ ফুটবলার, কোচ ও কর্মকর্তা যাচ্ছেন। নিয়ম অনুসারে ২ জন বিদেশি ফুটবলার খেলাতে পারবে। হাইতির ফরোয়ার্ড মিলিয়েন প্যাসকেল এবং সার্ভিয়ান ইভান যাচ্ছে দলের সাথে। সাথে ম্যানেজার হিসাবে যাচ্ছন সাবেক তারকা ফুটবলার শেখ মোঃ আসলাম।
শেখ রাসেলের প্রথম ম্যাচ পাকিস্তানের কেআরএল ফুটবল ক্লাবের বিরুদ্ধে ৭ মে। প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষ সম্পর্কে জানা নেই ক্লাব কোচের। তাই গত মৌসুমে এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপ ফুটবলের ফাইনালে খেলা পাকিস্তানের ম্যাচের ভিডিও ফুটেজ দেখানো হবে আজ। পাকিস্তানের ম্যাচ বিশ্লেষণের জন্য আগামীকাল বিকাল ৫টায় বাফুফে ভবনে খেলোয়াড়দের নিয়ে বড় পর্দায় খেলা দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। পর্দায় ম্যাচ দেখার পর কর্মকর্তারা খেলোয়াড়দের জানতে চাইবেন শ্রীলংকায় শেখ রাসেলের লক্ষ্য কী হওয়া উচিত। ক্লাব সভাপতি নূরুল আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, ‘আমরা তো অনেক কিছুই বলি। খেলোয়াড়রাই নির্ধারণ করুক এবারের লক্ষ্যটা। আমাদের কথা হচ্ছে দেশের মান মর্যাদা থাকবে। শেখ জামাল যেমন ফুটবলের ইমেজ বাড়িয়েছে কলকাতায়। আমরা ধারাবাহিকতা রাখতে চাই। এজন্য আমাদের খেলোয়াড়দেরও সেদিকে নজর দেয়া উচিত।’ এই কর্মকর্তা বলেন, ‘লিগে ভালো রেজাল্ট হচ্ছে না। আমি মনে করি এখানে ভালো হয়নি বলে ওখানে (শ্রীলংকা) ভালো হবে। সে তাগিদ আমাদের খেলোয়াড়দের মধ্যে থাকা উচিত।’
কোচ মারুফুল হকের পরিবর্তে মন্টিনেয়েগ্রের কোচ দ্রাগন দুকানোভিচ দায়িত্ব গ্রহণের পর দুই ম্যাচ জিততে পারেনি শেখ রাসেল। এই কোচ বলেছিলেন, টিম সিলেকশন ভালো হয়নি। ভালো মানের স্ট্রাইকারের অভাব। তার পরও তিনি হতাশ হতে রাজি নন। ৪৪ বছর বয়সের এই কোচ জানিয়েছেন, যে শক্তি আছে তাই নিয়ে খেলত চান।’ এএফসি প্রেসিডেন্ট কাপ ফুটবল নিয়ে দলের অধিনায়ক বিপ্লবেরও একই কথা। তিনিও লড়তে চান হাতের শক্তি নিয়ে।
শেখ রাসেলের দ্বিতীয় ম্যাচ ৯ মে শ্রীলংকার এয়ার ফোর্স এবং ১১ মে ভুটানের ইউজেন একাডেমী এফসির বিরুদ্ধে। শেখ রাসেল ছাড়াও অন্য দুটি গ্রুপে সাতটি দল বাছাই খেলছে। প্রতি গ্রুপ থেকে দুটি দল চূড়ান্ত পর্বে উঠবে।