গানে কথায় শ্রমিক স্বার্থ রক্ষার প্রত্যয়

শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা ও তাদের জীবনমান উন্নয়নে আলোচনায়, গানের সুরে দাবি জানালেন দেশের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও গণসঙ্গীত শিল্পীরা। মহান মে দিবস স্মরণে বুধবার আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদ। একই সঙ্গে স্মরণ করলো ১৮৮৬ সালে মে দিবসে নিহত ও বাংলাদেশে রানা প্লাজায় নিহত শ্রমিকদের। সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তনে দুই পর্বে সাজানো এই অনুষ্ঠানের সূচনা হয় মে দিবসের আলোচনা দিয়ে। গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদের সভাপতি ফকির আলমগীরের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য শিরিন আখতার, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সহ সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ প্রমুখ। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানান হয় রানা প্লাজায় আহত চারজন শ্রমিককে। তারা হলেন—রোজিনা আকতার, ইয়া নূর, রেহেনা আকতার ও আমজাদ হোসেন। তারাও তাদের দুঃখ-দুর্দশা, শ্রমমূল্য, নির্যাতনসহ নানা অসঙ্গতি তুলে বক্তব্য রাখেন। বক্তারা বলেন, বিশ্ব উন্নত হচ্ছে শ্রমিকদের দক্ষতার কারণেই। অথচ শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষা হচ্ছে না। দেশে-বিদেশে বহু শ্রমিক আছেন যারা পরিশ্রম করেও যথার্থ পারিশ্রমিক পাচ্ছেন না। ঘাটে ঘাটে নির্যাতিত হচ্ছেন। এ সব অসঙ্গতি দূর করে শ্রমিক স্বার্থ রক্ষায় সরকারের প্রতি দাবি জানান তারা। সাংস্কৃতিক পর্বে মহান দিবস স্মরণে গণসঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পীরা। গণসঙ্গীত দল ঋষিজ বরাবরের মতো এবারও পরিবেশন করে মহান মে দিবসকে নিয়ে ঐতিহ্যবাহী সেই গান ‘১৮৮৬ পহেলা মে শিকাগো মার্কেটে’ গানটি। এই গানের রেশ কাটতে না কাটতে পরিবেশিত হয় জেগে উঠার গান—প্রতিবাদী গান ‘বুক বেঁধে লড়তে হবে ভাঙ্গতে হবে দুঃখ শিকল’। বহ্নিশিখার শিল্পীদের কণ্ঠে শোনা গেলো ‘হায়রে কৃষাণ তোদের শীর্ণ দেহ ঢেকে দেওয়ার’ ও ‘বাংলার হিন্দু বাংলার মুসলমান’। সত্যেন সেন শিল্পী গোষ্ঠীর শিল্পীরা পরিবেশন করেন ‘দুনিয়ার মজদুর ভাইসব—আয় এক মিছিলে দাঁড়া’ ও ‘হিমালয় থেকে সুন্দরবন হঠাত্ বাংলাদেশ। ক্রান্তি শিল্পী গোষ্ঠীর শিল্পীরা পরিবেশন করে ‘ঝড় উঠেছে ঝড় উঠেছে’। উদীচীর শিল্পীদের কণ্ঠে শোনা গেলো ‘কারখানাতে ক্ষেত খামারে’সহ আরও বেশকিছু গান। একক গান পরিবেশন করেন ফকির আলমগীর, নীলুফার বানু লিলি ও আরিফ রহমান। একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন রফিকুল ইসলাম, ফয়জুল আলম পাপ্পু ও অনন্যা লাবণী পুতুল। জয়নুল গ্যালারিতে প্রাচ্য চিত্রকলা প্রদর্শনী: সমকালীন ২২ জন শিল্পীর চিত্রকর্ম নিয়ে চারুকলা অনুষদের জয়নুল গ্যালারিতে শুরু হয়েছে প্রাচ্য চিত্রকলা নিয়ে দলবদ্ধ প্রদর্শনী। গতকাল বিকালে ‘পেইন্টিং স্টাডি গ্রুপ’ আয়োজিত এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন প্রফেসর এমিরেটার্স আনিসুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার। সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক সৈয়দ আবুল বার্ক আলভী। প্রদর্শনীতে অংশ নেয়া শিল্পীরা হলেন তাজুল ইসলাম, ড. আব্দুস সাত্তার, রফিক আহমেদ, জি সি ত্রিবেদী, দেবাশীষ পাল, ড. সুশান্ত কুমার অধিকারী, মুকুল কুমার বাড়ৈ, শঙ্কর মজুমদার, ড. মলয় বালা, কান্তিদেব অধিকারী, অনামিকা শবনম, জাহাঙ্গীর আলম, গোপাল চন্দ্র সাহা, সুমন বৈদ্য, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, বিকাশ আনন্দ সেতু, মমতাজ পারভীন, পূর্ণিমা মণ্ডল, মোঃ ইস্কান্দার মির্জা, মোস্তাকিনা তারিন, অমিত নন্দী ও সুস্মিতা সাহা রিমি। প্রদর্শনী চলবে ৬ মে পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। মান্না দে স্মরণে ‘শিল্পিত’র সভা: ‘মান্না দে উপমহাদেশের কিংবদন্তিতুল্য শিল্পী। গত ৬০ বছর ধরে তার কণ্ঠের ইন্দ্রজালে মোহিত করে রেখেছিলেন বাঙালি শ্রোতাদের। ভারতীয় হিন্দী ও বাংলা সিনেমায় গান গেয়ে এই শিল্পী ভারতসহ বাংলা ভাষা-ভাষীদের কছে তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। তিনি আজ নেই কিন্তু বাংলা গানের শ্রোতাদের কাছে মান্না দে বেঁচে থাকবেন অনন্তকাল’ — গতকাল সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘শিল্পিত’ আয়োজিত মান্না দে স্মরণসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী আব্দুল জব্বার, শিল্পী শুভ্র দেব, গবেষক ড. সৈয়দা আইরিন জামান। সভাপতিত্ব করেন ‘শিল্পিত’ এর সভাপতি ওসমান গনি। স্থপতি রফিক আজমের গ্রন্থের প্রকাশনা ও সেমিনার আজ: আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাংলাদেশি স্থপতি রফিক আজমের স্থাপত্যকর্ম নিয়ে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন ও ইটালির ঐতিহ্যবাহী প্রকাশনা সংস্থা স্কিরার যৌথভাবে প্রকাশিত ‘রফিক আজম: আর্কিটেকচার ফর গ্রিন লিভিং’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হবে আজ। বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরো রয়েছে দিনব্যাপী ‘গ্রিন আর্কিটেকচার ইন বাংলাদেশ: এ গ্লোবাল পার্সপেক্টিভ’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনারের আয়োজন। মূল প্রবন্ধ পাঠ করবেন নদী ও জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলী ও ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. আইনুন নিশাত। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা, বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের সভাপতি ড. আবু সাঈদ আহমদ এবং বইটির সম্পাদক স্কিরার ইন্টারন্যাশনাল কমিশনস্ এডিটর রোজা মারিয়া ফালভো। আরো বক্তব্য রাখবেন এশিয়ান পেইন্টস্ লিমিটেডের কান্ট্রি হেড অরূপ চ্যাটার্জি। স্বাগত বক্তব্য রাখবেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের। সূচনা বক্তব্য রাখবেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় গুলশানের বেঙ্গল আর্ট লাউঞ্জে স্থপতি রফিক আজমের কাজের প্রদর্শনীর উদ্বোধন হবে। বেঙ্গল ফাউন্ডেশন ও স্থাপত্যকর্ম প্রতিষ্ঠান ‘সাতত্য’ যৌথভাবে বই প্রকাশনা, সেমিনার এবং বেঙ্গল আর্ট লাউঞ্জে স্থাপত্যকর্ম প্রদর্শনীর এ আয়োজন করেছে।