সেরাদের সেরা যারা
আইজ্যাক নিউটন
প্রকাশ : ০২ মে ২০১৪, ১৯:১২
১৬৪২ সালের বড়দিনে আইজ্যাক নিউটন জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্মের কয়েক মাস আগেই পিতার মৃত্যু হয়। জন্মের সময়ে আইজ্যাক ছিলেন দুর্বল শীর্ণকায় আর ক্ষুদ্রাকৃতির, তাই তার জীবনের আশা সম্পূর্ণ ত্যাগ করেছিলেন। হয়তো বিশ্বের প্রয়োজনেই বিশ্ববিধাতা তার প্রাণ রক্ষা করেছিলেন।
১২ বছর বয়সে নিউটনকে গ্রামের স্কুলে ভর্তি করে দেওয়া হলো। জন্ম থেকেই রুগ্ন ছিলেন নিউটন। তবু তার দুষ্টুমি কিছু কম ছিল না। কিন্তু শিক্ষকরা তার অসাধারণ মেধার জন্য তাকে ভালোবাসতেন।
কলেজে ছাত্র থাকাকালীন অবস্থাতেই তিনি অঙ্কশাস্ত্রের কিছু জটিল তত্ত্বের আবিষ্কার করেন— বাইনমিয়ালথিওরেম, ফ্লাক্সসন যা বর্তমানে ইন্টিগ্রাল ক্যালকুলাস নামে পরিচিত। এ ছাড়া কঠিন পদার্থের ঘনত্ব আবিষ্কারের সূত্রও তিনি আবিষ্কার করেন। ১৬৬৬ সালে নিউটন একটি চিঠিতে লিখেছেন, ‘আমি... পদ্ধতি উদ্ভাবনের সাথে সাথেই মাধ্যাকর্ষণ শক্তির সম্বন্ধে চিন্তা-ভাবনা করতে শুরু করেছি।’ ভাবতে অবাক লাগে তখন নিউটনের বয়স মাত্র চব্বিশ। এই সব অসাধারণ কাজ ও মৌলিক তত্ত্বের জন্য সেই তরুণ বয়সেই নিউটনের খ্যাতি পণ্ডিতমহলে ছড়িয়ে পড়ল। ১৬৬৭ সালে তার কৃতিত্বের জন্য ট্রিনিটি কলেজ তাকে ফেলো হিসেবে নির্বাচন করল। একজন ২৫ বছরের তরুণের পক্ষে এ এক দুর্লভ সম্মান।
এবার তিনি আলোর প্রকৃতি ও তার গতিপথ নিয়ে গবেষণার কাজ শুরু করলেন এবং এই কাজের প্রয়োজনেই তিনি তৈরি করলেন প্রতিফলক টেলিস্কোপ। পরবর্তীকালে মহাকাশসংক্রান্ত গবেষণার প্রয়োজনে যে উন্নত ধরনের টেলিস্কোপ আবিষ্কৃত হয় তিনিই তার অগ্রগামী পথিক। “Philosophia Naturalis Principia Mathematica” প্রকাশিত হয় ১৬৪৭ সালে। ল্যাটিন ভাষায় লেখা এই বইটি তিনটি খণ্ডে বিভক্ত। প্রথম খণ্ডে নিউটন গতিসূত্র সম্বন্ধে আলোচনা করেছেন। তিনটি গতিসূত্র হলো (১) প্রত্যেকটি বস্তু চিরকাল সরলরেখা অবলম্বন করে সমবেগে চলতে থাকে। (২) বস্তুর ওপর প্রযুক্ত বল বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হারের সমানুপাতিক এবং বল যে দিকে ক্রিয়া করে, ভরবেগের পরিবর্তনও সেদিকে ঘটে। (৩) প্রত্যেকটি ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে। ১৭০৩ সালে নিউটনের জীবনে এলো এক অভূতপূর্ব সম্মান। তিনি রয়্যাল সোসাইটির সভাপতি হলেন। আমৃত্যু তিনি সেই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। ১৭০৫ সালে রানি অ্যানি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে এলেন। রানির পক্ষ থেকে নিউটনকে “নাইটহুড” উপাধিতে ভূষিত করা হলো। ১৭২৭ সাল, নিউটন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লেন। চিকিত্সাতে কোনো সুফল পাওয়া গেল না। অবশেষে ২০ মার্চ মহাবিজ্ঞানী নিউটন তার প্রিয় অনন্ত বিশ্বপ্রকৃতির বুকে চিরদিনের জন্য হারিয়ে গেলেন। সাতদিন পর তাকে ওয়েস্ট মিনস্টার অ্যাবিতে সমাধিস্থ করা হলো।