অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কার
প্রকাশ : ০২ মে ২০১৪, ১৯:১৩
আর্নস্ট দুশেন প্রথম ছত্রাক পেনিসিলিয়ামের অ্যান্টিবায়োটিক প্রোপার্টি আবিষ্কার করেন ১৮৯৬ সালে তার ডক্টরেট থিসিস করার সময়। মাত্র ২৩ বছর বয়সী অচেনা দুশেন থিসিসটি প্রাপ্তি স্বীকারও করেনি পাস্তুর ইনস্টিটিউট। আর্মি মেডিকেল সার্ভিসের চাকরি তাকে এ বিষয়ে গবেষণা করার আর কোনো সুযোগ দেয়নি। মাত্র ৩৭ বছর বয়সে যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। ১৯২৮ সালে ২৮ সেপ্টেম্বর অনেকটা আকস্মিক ভাবেই পেনিসিলিয়াম ছত্রাকের অ্যান্টিবায়োটিক প্রোপার্টি পুনঃআবিষ্কার করেন স্কটিশ বিজ্ঞানী আলেক্সান্ডার ফ্লেমিং। তিনিই প্রথম পেনিসিলিয়ামের জীবাণু ধ্বংসকারী উপাদানটি আলাদা করতে সক্ষম হন। ১৯২৯ সালের ৭ মার্চ তিনি এর নাম দেন পেনিসিলিন; এর মাধ্যমেই শুরু হয় অ্যান্টিবায়োটিকের যুগ। ১৯৪৫ সালে তিনি এই আবিষ্কারের জন্য নোবেল পুরস্কার পান। অক্সফোর্ডে কর্মরত অস্ট্রেলিয়ান ফার্মাকোলজিস্ট এবং প্যাথলজিস্ট হাওয়ার্ড ফ্লোরে ১৯৩৮ সালে ফ্লেমিংয়ের আবিষ্কৃত পেনিসিলিনকে নিয়ে বড় পরিসরে গবেষণা এবং চিকিত্সায় ব্যবহ্যার করার মতো পরিমাণে তৈরি করার প্রচেষ্টা শুরু করেন। ১৯৪১ সালে পরীক্ষামূলকভাবে প্রথম মানুষের উপর প্রয়োগ করা হয় পেনিসিলিন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে কারণে যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীরা বড় ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ পেনিসিলিন তৈরিতে ব্যর্থ হন। ১৯৪১ সালে সহযোগী নর্মান হিটলীকে নিয়ে ফ্লোরে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনোয়া অঙ্গরাজ্যে পিওরিয়া ল্যাবে আসেন, যেখানে বিজ্ঞানীরা শিল্প পর্যায়ে ছত্রাকের উত্পাদনের গবেষণা করছিলেন। পিওরিয়া মার্কেট থেকে সংগ্রহ করা ছত্রাক পড়া ক্যান্টালুপের পেনিসিলিয়াম নোটাটাম চাষ করেই প্রথমবারের মতো অধিক পরিমাণ পেনিসিলিন তৈরি করা সম্ভব হয়। ১৯৪১ সালের নভেম্বরে ল্যাবের অ্যান্ড্রু ময়ের এবং নর্মান হিটলী পেনিসিলিনের পরিমাণ ১০ গুণ পরিমাণ বাড়াতে সক্ষম হন। ১৯৪৩ সালের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে প্রমাণিত হয় পেনিসিলিনের কার্যকারিতা, যুদ্ধে আক্রান্ত অ্যালাইড সৈন্যদের চিকিত্সায় ব্যবহারে জন্য ব্যাপক পরিমাণে পেনিসিলিন উত্পাদন শুরু হয়। ১৯৪৫ সালে ফ্লোরে এবং চেইন, ফ্লেমিংয়ের সাথে নোবেল পুরস্কার পান। ১৯৪৮ সালে অ্যান্ড্রু ময়ের পেনিসিলিনের মাস প্রোডাকশনের পেটেন্ট পান।