প্রতিভায় অনন্য
প্রকাশ : ০২ মে ২০১৪, ১৯:১৫
পড়াশোনার পাশাপাশি লেখালেখি, সংগীত ও সাংবাদিকতার সাথে জড়িত তিনি। মাঝে মাঝে অভিনয়ও করেন টিভি নাটকে। পড়ছেন দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষে। এরই মধ্যে বের হয়েছে তার প্রথম গল্পের বই। লেখালেখি, গান, সাংবাদিকতা, অভিনয় বা পড়াশোনা সবদিকেই নিজের প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটিয়ে চলেছেন এই তরুণ। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এই ছেলেটির নাম সাজিদ উল হক খান আবির। তাকে নিয়ে লিখেছেন আহসান রনি
চার বছর বয়স থেকে উচ্চাঙ্গ সংগীতের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেওয়া শুরু করেন কিশলয় কচিকাঁচার আসরে। বাবা ক্লাস সেভেনে ওঠার পর কিনে দেন গিভসন গিটার। ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার পর থেকে পিয়ানো বাজানো শিখছেন। কলেজ লাইফ থেকে নিজে গান লেখেন, তাতে সুর দেন এবং গান গান। গত বছর অ্যামেরিকান সেন্টারের ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট প্রোজেক্টের অধীনে আইইআরএন-বিডি একটি আটমাসের ট্রেনিং সেশনের আয়োজন করে। তিনি তাতে অংশ নেন এবং পরে তাদের সাথে ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান। চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় তিনি তার দলের থিম সং লেখেন, কম্পোজ করেন এবং গান। ইংরেজি বিভাগের ছাত্র হওয়ার সুবাদে বিশ্বের সেরা সব সাহিত্যিকদের সাহিত্যকর্মের সাথে পরিচয় হয়, সৃজনশীল লেখালেখির সূত্রপাতও এখান থেকেই। গদ্য ও কবিতা উভয় ধরনের লেখালেখিই চালিয়ে যাচ্ছেন সমান তালে। ব্লগিং করেন এবং গত বইমেলায় তার প্রথম গল্পের বই ‘শেষ বসন্তের গল্প’ প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশের অন্যতম বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, জাতীয় অধ্যাপক প্রফেসর ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বইয়ের ভূমিকা লিখে দেন। তার লেখনীর, স্টাইল ও বিষয়বস্তুর ভূয়সী তারিফ করেন তিনি। শুভানুধ্যায়ী এবং বন্ধুমহলে বইটি ব্যাপক সাড়া ফেলে। তিনি কবিতা লেখেন। এ বছর ফেব্রুয়ারি মাসে ব্রিটিশ কাউন্সিল-মিউজ মাস্টার্স পোয়েট্রি প্রতিযোগিতায় অংশ নেন তিনি এবং সেরা তরুণ কবির পুরস্কারে ভূষিত হন। পুরস্কার স্বরূপ ব্রিটিশ কাউন্সিল তাকে ইংল্যান্ড নিয়ে যাচ্ছে এ বছরের মাঝামাঝিতে। স্কুলজীবন থেকে টিভি নাটকে অভিনয় করতেন। অনেকগুলো টিভি নাটকে দেখা গেছে তাকে। পড়াশোনাতেও কম যান না তিনি। বাংলাদেশ ব্যাংক কলোনি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন গোল্ডেন এ প্লাস-সহ। বর্তমানে সরকারি মেধাবৃত্তি নিয়ে পড়ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষে। এখন পর্যন্ত ডিপার্টমেন্টে তার অবস্থান ১ম শ্রেণীতে তৃতীয়। কীভাবে সামলেছেন এত কিছু? উত্তরে আবির বললেন, ‘ছোটবেলা থেকে যদি অভ্যাস গড়ে তোলা যায়, তবে সবকিছু সামলে কাজ করাটা খুব একটা কঠিন কিছু নয়। স্কুল লাইফে প্রতি সপ্তাহের শেষ দু’ দিন আমাকে গান শিখতে যেতেই হতো, এমনকি পরীক্ষা থাকলেও। মাঝেমাঝেই পরীক্ষার ফাঁকেই নাটকের শুটিং পড়ে যেত। তবে ছোটবেলা থেকে নিজের পছন্দনীয় সব কাজের জন্য সময় নির্ধারণ করে একটা রুটিন মাফিক জীবন যাপনে অভ্যস্ত হওয়ায় আমার সব কিছু একসাথে চালিয়ে যেতে তেমন সমস্যা হয়নি।’ আবিরের স্বপ্নগুলো এখনও তাকে ঘুমুতে দেয় না। নতুন কিছু তৈরি করার তাড়নাই তাকে সবার থেকে আলাদা করে তুলেছে। নতুন যারা সৃজনশীল কাজে এগোতে চান, তাদের ভেতর সৃষ্টির তাড়না থাকা জরুরি বলে জানালেন আবির। ঢাকায় জন্ম ও বড় হওয়া আবির প্রকৃতিকে খুব মিস করেন। তবে বাড়ির পাশে বুড়িগঙ্গা নদী হওয়ায় সময় কাটাতে প্রায় বিকেলে নদীর তীরে চলে যেতেন। গরমের ছুটিতে নতুন গল্পের বই পড়তেন—এভাবেই কেটেছে তার শৈশব। জীবনের এই পর্যায়ে এসে তার মূল স্বপ্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যুক্ত হওয়া। পড়াশোনা করছেন। পাক্ষিক আনন্দধারায় মিউজিক নিয়ে লিখছেন ২০০৯-এর জানুয়ারি থেকে। একটা বই প্রকাশিত হল এ বছর। নতুন বইয়ের কাজ শুরু করেছেন।