লিসবনে ফাইনালের আগেই জয় স্প্যানিশদের

শেষ পাঁচটি মাদ্রিদ ‘ডার্বি’ অ্যাটলেটিকো ২-২ রিয়াল লা লিগা, ২ মার্চ ২০১৪ অ্যাটলেটিকো ০-২ রিয়াল কোপা ডেল রে, ১১ ফেব্রু ২০১৪ রিয়াল ৩-০ অ্যাটলেটিকো কোপা ডেল রে, ৫ ফেব্রু ২০১৪ রিয়াল ০-১ অ্যাটলেটিকো লা লিগা, ২৮ সেপ্টে ২০১৩ রিয়াল ১-২ অ্যাটলেটিকো কোপা ডেল রে ফাইনাল, ১৭ মে ২০১৩ অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ও রিয়াল মাদ্রিদ একই শহরের প্রথম দুটি দল হিসেবে ২৪ মে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। পর্তুগালের লিসবনে বেনফিকার মাঠ এস্তাদিও দা লুজ এ অনুষ্ঠিত হবে খেলাটি। রিয়াল প্রত্যাশিতভাবেই ইউরোপের ক্লাব ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরটির ফাইনালে যোগ দিয়েছিল। অপরদিকে স্বপ্নের এক মৌসুমে অ্যাটলেটিকো জয়যাত্রা অব্যাহত রেখে নগর প্রতিদ্বন্দ্বীদের মতোই অভিন্ন কৃতিত্ব দেখায় সর্বশেষ গত বুধবার রাতে চেলসির মাঠে ৩-১ গোলে জিতে। দলটি ৪০ বছর পর আবার ইউরোপীয়ান কাপের ফাইনালে যোগ দিল। এর আগে দীর্ঘ বছরের বিরতিতে ফাইনালে ওঠার নজির গড়েছিল ইন্টার মিলান (১৯৭২ ও ২০১০)। স্প্যানিশ ক্লাবের মধ্যে অবশ্য আগেও একবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল হয়েছিল। ২০০০ সালের সে লড়াইয়ে ভ্যালেন্সিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ট্রফি জিতেছিল রিয়াল। তবে ইউরোপের কোন ফাইনালে একই দেশের দুটি ক্লাবের বিচারে এটি হবে ১৭তম ফাইনাল। রিয়াল লড়াইটিতে যোগ দেয় গেলবারের চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখকে হারিয়ে। অপরদিকে কোচ দিয়েগো সিমিওনের অধীনে ইউরোপ জুড়ে শোরগোল ফেলে দেয়া অ্যাটলেটিকো লন্ডনে এক গোলে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত চেলসিকে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-১ গোলে হারিয়ে ‘ডাবল’ জয়ের স্বপ্ন দেখছে। অ্যাটলেটিকো স্প্যানিশ লিগেও সবার উপরে আছে। এখন দেখার পালা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মাঠে রিয়াল ও অ্যাটলেটিকোর মধ্যে কে জয়ী হয়। রিয়ালের লক্ষ্য থাকবে লা ডেসিমা বা ১০ম শিরোপা। দলটির মূল তারকা রোনালদো চাইবেন তার নিজের মাটিতে স্প্যানিশ জায়ান্টদের সাফল্য এনে দিতে। বিশ্বের সবচাইতে দামি খেলোয়াড় গ্যারেথ বেল-এর প্রত্যাশা থাকবে স্পেনে প্রথম মৌসুমটি সর্বোচ্চ সাফল্যে ভরে তুলতে। কোচ সিমিওনির লক্ষ্য হবে কম বাজেটের দল নিয়ে ইউরোপে নিজের যে ব্যাপক চাহিদা গড়ে তুলেছেন সে সুনামটা আরো বাড়ানো। স্ট্রাইকার দিয়েগো কস্তা চাইবেন দৃশ্যত অ্যাটলেটিকোর হয়ে শেষ খেলায় গোল পেতে। সব মিলিয়েই এবারের ফাইনালে অনেক বেশি নজর কাড়ছে ফুটবলামোদীদের। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপার জন্য ইউরোপের বরাবরের বড় বাজেটের দল রিয়ালের প্রতীক্ষা ২০০২ সাল থেকে। নয়বারের ইউরোপীয়ান কাপ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী দলটি সেবার জিনেদিন জিদানের ভলিতে জার্মান ক্লাব বায়ার লেভারকুসেনকে ২-১ গোলে হারিয়ে সাফল্য তুলে নিয়েছিল। দীর্ঘ এ প্রতীক্ষা ঘুচাতে কোচ কার্লো অ্যানচেলোত্তির দলটি কতটা মরিয়া তা বোঝা যায় বায়ার্নকে তাদের মাটিতে ৪-০ গোলে হারানোর ঘটনায়। মাদ্রিদের দ্বিতীয় ক্লাবটি অবশ্য তাদের পড়শীদের মতো অতোটা বর্ণাঢ্য নয়। তারা এর আগে একবার ইউরোপীয়ান কাপের ফাইনালে উঠলেও ট্রফির কাছাকাছি গিয়েও বিফল হয়। ১৯৭৪ সালে অনুষ্ঠিত ফাইনালটিতে কিংবদন্তী স্ট্রাইকার ও পরবর্তীতে স্পেন কোচ লুই আরোগোনেস শেষ বাঁশির ছয় মিনিট আগে গোল করে অ্যাটলেটিকো প্রায় জিতিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু গোলটি ধরে রাখতে পারেনি তারা। বায়ার্ন খেলা শেষের আগ মুহূর্তে সমতা ফেরায় এবং পরে রিপ্লেতে ৪-০ গোলে জয়ী হয়। আরাগোনেস অবশ্য পরে স্পেনকে ২০০৮ সালের ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জেতান। যদিও গত পাঁচ বছরে স্প্যানিশ লিগের অন্যতম শক্তিশালী দলটি দুইবার ইউরোপা লিগ জিতেছে। আরাগোনেস আসন্ন ফাইনালের আগে ক্লাবটির জন্য অনুপ্রেরণার উত্স হবেন। কেননা অ্যাটলেটিকোর ইতিহাসে সর্বোচ্চ এই গোলদাতা পরে ক্লাবটির হাল ধরেছিলেন। কোচ হিসেবে চার মৌসুম কাজ করে ১৯৭৭ সালে লা লিগার পাশাপাশি তিনবার স্প্যানিশ কাপ জিতিয়েছিলেন। এ বছরের ১ ফেব্রুয়ারিতে তার মৃত্যুতে ক্লাবটি রিয়াল সোসিয়েদাদকে ৪-০ গোলে হারিয়ে তা আরাগোনেসকে উত্সর্গ করে। তার মূল মন্ত্রই ছিল জয় এবং জয়ের জন্যই ফিরে এসো। এতকিছুর পরও বাস্তবতা হলো লিসবনে রোনালদোর দলই ফেবারিট। এমনকি সিমিওনের দল গেল মে মাসে বার্নাব্যুতে কোপা ডেল রে’র ফাইনালে রিয়ালকে হারিয়েছে। এ বছরের লা লিগায় দুবারের মুখোমুখিতায় একটি করে জয় ও ড্র তুলে নিয়েছে। ফাইনালের আগে হয়তো অ্যাটলেটিকো লা লিগার শিরোপাটিও তুলে নেবে। কেন না দলটি তাদের পরবর্তী দুই খেলায় লেভান্তে ও মালাগার সাথে জিতলে ছয় পয়েন্ট পেয়ে শেষ ম্যাচে বার্সেলোনার মাঠে যাওয়ার আগেই স্প্যানিশ লিগটি নিজেদের করে নিতে পারবে। শেষ পর্যন্ত লিসবনের ফাইনালে রিয়ালের ১০ম শিরোপা নয়তো অ্যাটলেটিকোর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রথম ট্রফির স্পর্শ মিলুক, তার আগেই স্প্যানিশ ফুটবল ইউরোপে এগিয়ে থাকলো। এর মধ্যে আবার সেভিয়াও ইউরোপা কাপের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে। -বিবিসি স্পোর্ট